ডাক্তারের চেম্বার থেকে: বর্ষায় শিশুর যত্ন

0
1579

ডাঃ অঞ্জন ভট্টাচার্য, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

তোজোকে নিয়ে ভারী সমস্যায় অনিন্দিতা। বাইরে বৃষ্টি মানেই একটি এক্সট্রা লেজ গজিয়ে যায়। কখনও ব্যালকনির গ্রিল দিয়ে বাইরে হাত বাড়িয়ে ভিজতে চায় কখনও বা টেরেসে গিয়ে ঝাঁপাঝাঁপি। ফল ঠান্ডা লেগে হঠাৎ জ্বর। বর্ষার গুমোট ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় শিশুরা ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে সহজেই। প্রাথমিক অবস্থায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও গলাব্যথা থাকলেও একটু অযত্নে এ সব রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি টনসিলাইটিস ও নিউমোনিয়া হওয়ার ভয়ও থেকে যায়।

কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখবেন

বৃষ্টির জলে যাতে বাচ্চারা ভিজে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। আর যদি ভিজেই যায়, তা হলে পরনের পোশাক সঙ্গে সঙ্গে পালটে, মাথা ও শরীর শুকনো তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে দিন।

বাজারজাত ফলের শরবত বা জুস শিশুদের খেতে না দেওয়াই ভালো। বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে দিতে পারেন।

বাইরের তৈরি অন্যান্য খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো। বাসি কোনোও খাবার বাচ্চাকে খেতে দেবেন না।

শিশুকে অবশ্যই ফোটানো জল খাওয়াবেন।

অনেক মা-বাবাই মনে করেন যে, বর্ষার সময় শিশুকে প্রতি দিন স্নান করালে তার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এটি একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা। শীত কিংবা বর্ষা সব সময়ই প্রতি দিন জীবাণুমুক্ত জলে শিশুকে স্নান করানো তার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

নিয়ম মেনে শিশুর হাত ও পায়ের নখ কেটে দেবেন।

বৃষ্টির জল ও স্যাঁতসেঁতে বদ্ধ ঘরে শিশুরা যাতে খেলাধুলা না করে সে দিকে খেয়াল রাখবেন। বৃষ্টির জলে ভিজলে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে। তাই শিশুদের ছাতা ও রেনকোট ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

বৃষ্টিতে শিশু জুতো ভিজিয়ে ফেললে ভেজা জুতো বেশিক্ষণ যাতে পায়ে না থাকে তার দিকে খেয়াল রাখবেন।

বর্ষার বৃষ্টিহীন দিনে আবহাওয়া খানিকটা গরম হয়ে ওঠে। আর্দ্র আবহাওয়ায় শিশুর শরীরে যাতে ঘাম বসে না যায় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

প্রায়শই দেখা যায় যে, বর্ষার রাতে ঠান্ডা কিংবা গরমে শিশুর বুকে ঠান্ডা বসে যায়। কাজেই আপনার শিশুর মধ্যেও যদি এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় তা হলে রাতে ঘুমোনোর সময় তার বুকের ওপর হালকা কোনো কাপড় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রাতে ঘুমের মাঝে শিশু অত্যধিক পরিমাণে ঘেমে যাচ্ছে কিনা সে দিকেও খেয়াল করতে হবে।

বর্ষার সময়টায় যাঁদের বাড়ির আশপাশে জল জমে যায় তাঁদের বাড়িতে মশার উপদ্রব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দিনের বেলা কিংবা সন্ধ্যার সময় বিশেষ করে শিশুর ঘুমের সময়টিতে তাকে মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here