ডাঃ অঞ্জন ভট্টাচার্য (শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ)

যদিও ভরা বসন্ত, তবুও ডিগ্রি বাড়িয়েই চলেছেন সুয্যি মামা। গরম মানেই ঘাম, হাস-ফাঁস অবস্থা। এসময়ে সবথেকে নাজেহাল হয়ে পড়ে শিশুরা। তাই আপনার শিশুকে গরম থেকে বাঁচাতে রইলো কিছু টিপস্।

গরমে শিশুর খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল-ঝাল যুক্ত খাবার রাখবেন না। হাল্কা, পুষ্টিকর, এবং সহজপাচ্য খাবার রাখুন। নরম খিচুড়ি বা সবজির স্যুপ। মাছ-মাংস দিন, তবে পরিমিত। গরমে ঘরের খাবার সবথেকে ভালো। বাইরের কেনা খাবার দেবেন না। এই সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশ দেখা যায়। ঘরে তৈরি টাটকা খাবার শিশুকে এই ধরনের ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করবে। পেট খারাপ হলে শিশুকে নুন চিনির জল খাওয়ান। সঙ্গে ডাবের জলও দিতে পারেন। এই সময়ে অন্যান্য তরল খাবারও দেওয়া উচিৎ। মাথায় রাখবেন আপনার শিশু যেন জলশূন্যতায় না ভোগে। তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কিনা, খেয়াল রাখতে হবে।  শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণে জল দিন। খুব ঠান্ডা বা গরম জল দুটোই শিশুর জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে পরিমিত ঠান্ডা জল পান করান।  শিশুকে ফল খাওয়ানো যাবে। বিভিন্ন ধরনের ফলের রসও দিতে পারেন তবে তা নিজেই বাসায় তৈরি করুন। বাজারের প্যাকেটজাত ফলের রস শিশুর দাঁতের ক্ষতি করে। এ ছাড়া এগুলোতে দেওয়া প্রিজারভেটিভ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আপনার শিশুর দুধটা তার খাবার সময়টাতেই বানিয়ে দিন। খুব বেশিক্ষণ আগে থেকে বানিয়ে রাখবেন না। এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে।  আপনার শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয় তাহলে তাকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ান।

গ্রীষ্মের এই দিনগুলোতে আপনার শিশুকে অবশ্যই সুতির নরম এবং পাতলা পোশাক পরান।  ডিসপোজেবল ন্যাপির পরিবর্তে সুতির পাতলা কাপড়ের ন্যাপি পরানো ভালো কেননা ডিসপোজেবল ন্যাপিগুলো ঘাম এবং তাপ শোষণ করতে পারেনা যার ফলে ঘামাচি, র‌্যাশ প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তীব্র রোদের সময়ে শিশুকে বাইরে বের না করাটাই ভালো। তারপরও যদি বাইরে বের হতেই হয় তবে পাতলা কিন্তু ফুল হাতার কাপড় পরান যাতে রোদের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আপনার শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে না পারে। 

শিশুর প্রসাধনী ব্যবহারে সচেতন থাকুন। ঘামাচির জন্য কখনই ঘামাচি নিরোধক পাউডার ব্যবহার করবেন না কারণ এই ধরণের প্রসাধনী শিশুর কোমল ত্বকের জন্য ভালো নয়।  তেল, লোশন ইত্যাদির ব্যবহার বন্ধ রাখুন ।

  আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে: শিশুর মনোজগৎ

গরমের সময়টাতে মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা যায়। এগুলো আপনার শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এছাড়া ঘরকে পোকামাকড় মুক্ত রাখতে আপনার ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ফুলের টবে বা অন্য কোথাও এমন কি বালতিতেও জল জমতে দেবেন না। কারণ এগুলো ডেংগু রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক।  ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। শিশুর বিছানা পরিচ্ছন্ন রাখুন। 
শিশুর কোনরকম শারীরিক সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here