China-rose-F!
biswajit-parhak
বিশ্বজিৎ পাঠক

প্রায় ৯০ শতাংশ মহিলা একই ধরনের কয়েকটি সাধারণ রোগের শিকার। এগুলির মধ্যে রয়েছে ত্বক, চুল, রক্তাল্পতা এবং অকাল বার্ধক্য। যদিও রোগ কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গের জন্য নয়। এই রোগগুলি মহিলা পুরুষ নির্বিশেষেই দেখা দেয়। তবুও মহিলাদের ক্ষেত্রে যেমন এগুলি প্রকট তেমনই দুর্ভাবনার বিষয়ও। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও মহিলাদের উপর এই রোগগুলির প্রকটতার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

তা যাইহোক, এই রোগগুলির ভেষজ উপশমের কথা শুনে অনেকেই হয়তো নাক সিঁটকোবেন। কারণ, বাজারে এত নামি ব্র্যান্ডের দামি ওষুধ থাকতে কেন-ই বা পাতা বা ফুলের দিকে আকৃষ্ট হবেন! বলে রাখা ভালো, জবা পাতার মধ্যে যে জৈব রাসায়নিকের ভাণ্ডার রয়েছে, তা এই রোগগুলির নিরাময়কারী কোনোও ওষুধগুলিরে উপকরণেও তার উপস্থিতি দেখা যায়। জবার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, নিয়াসিন এবং প্রচুর পরিমাণে লৌহ।

বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন, বলবর্ধক, বিষণ্ণতা দূর করতে যে ওষুধ আমরা ব্যবহার করে থাকি সেগুলির মধ্যে কোন উপাদান রয়েছে। ফলে জবা ফুলের নিয়মিত ব্যবহারে এই দু’টি সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে। কী ভাবে নেবেন?

এক কাপ গরম জলে তিন-চারটি জবা ফুলের পাপড়ি ফেলে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না পাপড়ি ফ্যাকাসে হয়ে যায়, ততক্ষণ জলে চুবিয়ে রাখুন। তবে হ্যাঁ, পাপড়ি দিয়ে ফোটাবেন না যেন। এ বার ওই পাপড়ি ফেলে দিয়ে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে পান করে নিন। যাঁদের সুগার রয়েছে, তাঁরা চিনি ছাড়াই পান করবেন।

China-rose-F2

পাপড়ির এই দ্রবণ পান করে আর যে সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে তা হল-ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে, ব্রন গায়েব হবে। পাশাপাশি জবার পাতা এবং ফুল এক সঙ্গে বেটে খেলে মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাবের হাত থেকে রেহাই মিলবে। আবার মুখের ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে শুকনো জবা ফুলের গুঁড়ো সামান্য দুধ বা ফলের রসের সঙ্গে লেই তৈরি করে ব্যবহার করা যায়।

সব থেকে বড়ো সমস্যা চুল নিয়ে। মাথার চুল অকালে ঝরে যাওয়া, সাদা হতে থাকা বা ডগা ফেটে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ওষধিগুণ রয়েছে জবার মধ্যে। সাধারণ নারকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল, কুঁড়ি ও মেহেন্দি পাতা মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। নিয়মিত মাথায় ম্যাসাজ করুন ওই মিশ্রিত তেল দিয়ে। দেখুন মাসখানেকের মধ্যে পরিবর্তন চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবে আপনার আয়না।

বলে রাখা ভালো, শুধু মাত্র লাল রঙের জবা ফুলই ব্যবহার করবেন। দিনে একাধিক বার খাওয়া যাবে না, এতে বমির উদ্রেক হতে পারে। আবার শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন বা গর্ভধারণ করবেন, এমন মহিলারা জবার ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

(লেখক ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here