প্লেথিসমোগ্রাফ মাস্ক।  এর সাহায্যে নিঃশ্বাসের মাধ্যমেই ধরা পড়বে ফুসফুসের ছবি । ফুসফুসে কী ধরনের রোগ দানা বাঁধছে  জেনে নেওয়া যাবে ঠিক সময়ে। ফুসফুসে সাধারনত যে রোগগুলি দানা বাঁধে সেগুলিকে বাইরে থেকে খুব সহজে চিহ্নিত করা যায় না।  এই মুখোশের ব্যবহার এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবে বলে মনে করছেন শহরের চিকিৎসকরা।
শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, হাঁপানি,  ব্রংকাইটিস, সিওপিডি  সহ একাধিক  রোগকে দ্রুত চিহ্নিত না করা গেলে  শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।  মাস্কের মাধ্যমে নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে প্রতিটি রোগের আলাদা  অ্যান্টিবডি তৈরি করতে চলেছে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইমিউনোবায়োলজি অ্যান্ড রিজেনেটিক মেডিসিন ইউনিট।  রোগ নির্ধারণ ও রোগ নিরাময়ের জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহয্য করবে উটের রক্ত থেকে তৈরি  ন্যানো অ্যান্টিবডি  যা অন্যান্য অ্যান্টিবডির তুলনায় অনেক ছোট এবং খুব সহজে শরীরে মিশে গিয়ে শরীরে বাসা বাঁধা রোগ নির্মূল করে দেবে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।  
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ইমিউনোবায়োলজি অ্যান্ড রিজেনেটিক মেডিসিন ইউনিট  রিসার্চ টিম এর প্রধান ড: এনা রায় ব্যানার্জি  জানান, এই মুখোশের সাহায্যে  ফুসফুসের মধ্যে যে সমস্ত রোগ দানা বাঁধছে তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করা হলে তা  পারসোনালাইজড মেডিসিনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী  আবিষ্কার হবে।  
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করা হবে এই মাস্ক। সফল হলে পরবর্তী পর্যায়ে তা মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হবে । প্লেথিসমোগ্রাফ মাস্ক  ব্যবহারের খরচ কম এবং এটি যন্ত্রণাদায়ক নয়।   এই গবেষণাটি  করতে মোট খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। আর্থিক সাহায্য করছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। পরীক্ষামূলক গবেষণা  সফল হলেও  অনেক সময়ে   সেই পরিষেবা রোগীর কাছে ঠিক সময়ে পৌঁছয় না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক   ও আইসিএমআর এর মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার বলে জানান ডঃ  ব্যানার্জি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here