অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জেনারেল মেডিসিন

পেটের সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ কমই রয়েছেন। পেটের সমস্যাকে দুভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়, এক, স্বল্পমেয়াদি সমস্যা। যেমন আমাশা, রক্ত আমাশা, ডায়রিয়া ইত্যাদি। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার মধ্যে রয়েছে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, হজমের সমস্যা, বৃহদন্ত্রের জ্বালাপোড়া ইত্যাদি। পেটের সমস্যার ক্ষেত্রে শতকরা আশিভাগই দায়ী আমরা নিজেরাই। একটু সচেতন হলেই বিষয়টি এড়ানো যায়।

আমাশা

অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি বা আমাশার প্রধান কারন অ্যান্টাবিমা হিস্টোলাইটিকা নামক জীবাণু। যা মূলত জল থেকে সংক্রামিত হয়। খোলা বা বাসি খাবার অথবা দূষিত জল খাওয়ার ফলে এ রোগ হয়। গ্রামের দিকে পুকুর বা নদীর জল পান করার ফলেও এই রোগের সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।
এ রোগের উপসর্গ হঠাৎ করে দেখা দেয়। যেমন ঘন ঘন পেটে মোচড় দিয়ে পায়খানা হওয়া,  দিনে ২০-৩০ বার পর্যন্ত পায়খানাও হতে পারে। রক্ত আমাশার প্রধান কারণ হলো একধরনের ব্যাকটেরিয়া; যা দূষিত খাবার বা জলের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। রক্ত আমাশায় পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা হয়, অল্প অল্প করে বারবার পায়খানা হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বেরোতে থাকে। মলদ্বারে ব্যাথা করে।

ডায়রিয়া

  • ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যে নানা ধরনের জলবাহিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
  • শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণ রোটা নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
  • বারবার পাতলা পায়খানা,তার সঙ্গে তলপেটে ব্যথা হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, এবং শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া কলেরার লক্ষণ।

পেটের সমস্যা এড়াতে বেশ কয়েকটি দিকে নজর দিতে হবে

  • বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন
  • খাবার আগে এবং মলত্যাগের পরে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।
  • শিশুকে খাওয়ানোর আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন।
  • পরিষ্কার জলে বাসনপত্র, গৃহস্থালি এবং কাপড়চোপড় ধুতে হবে এবং প্রয়োজনে সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  • পায়খানার জন্য সব সময় স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে। রান্নাঘর ও বাথরুমের ড্রেনেজ সিস্টেম বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে।
  • যাঁরা গ্রামে বসবাস করেন, তাঁদের যেখানে-সেখানে খোলা এলাকায় মলত্যাগের অভ্যাস ছাড়তে হবে।
  • খালি পায়ে বাথরুমে বা মলত্যাগ করতে না গিয়ে স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করুন।
  • খাবার ও জল সবসময়ে ঢেকে রাখুন।

পেটের সমস্যায় কী করবেন

  • স্বল্পমেয়াদি পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর শরীর খুব তাড়াতাড়ি জলশূন্য হয়ে যায়। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে স্যালাইন ওয়াটার খাওয়ান।
  • নিজে থেকে ডাক্তারি করতে যাবেন না।
  • শিশুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক খাবার খাওয়াবেন। মায়ের দুধ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।
  • অহেতুক ঘরোয়া টোটকা না চালিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন