bengali dish
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

“সব খাবার সেরা বাঙালির তুমি মিষ্টি” – কবে কোন কালে সেই সিনেমায় গেয়েছিলেন, আজও বেঁচে আছে সুরটি। বিশেষ এই উৎসবের মরশুমে সবাই আপাদমস্তক মিষ্টি। মুশকিল হল গিয়ে, আমরা মাংস খেলে তাতেও প্রায় সত্তর ভাগ কার্বোহাইড্রেট।

আমরা যা-ই খাই না কেন, পাকস্থলী আর নাড়িভুঁড়ি সেই সব খাবার নিংড়ে টিংড়ে তাকে গ্লুকোজ মানে চিনি বানিয়ে ফেলে। এক বার ভাবুন কাণ্ডখান! আপনি খাচ্ছেন মোগলাই পরোটা আর কষা মাংস – তৈরি হচ্ছে চিনি। এ যেন একেবারে আমোদপুরের চিনির কারখানা!

এর পর হল কী, সব রক্ত এসে পেট থেকে হু..উ..শ করে সব চিনি শুষে নিল। এর পর রক্ত গিয়ে পেশি, অঙ্গপ্রত‍্যঙ্গে সেই চিনি নিয়ে সাপ্লাই করে। প্রতিটি কোষ‌ই জীবন্ত। তাদের খাবার হল চিনি বা গ্লুকোজ।

চিনি কিন্তু ভারী লাজুক। তাকে হাতে ধরে কোষের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হয়। সে কাঁদে “আমার হাত দু’টি ধরে নিয়ে চলো সখা … “।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: হৃদয়ের গোপন কথা

ওমনি ইনসুলিন দৌড়ে এসে তাকে কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে দ‍্যায়। কোষ এ বারে অক্সিজেন দিয়ে চিনিকে পুড়িয়ে যাকে বলে – রোস্ট করে। শক্তি তৈরি করে – সেই শক্তিতেই আমরা নাচি গাই ঘুরি ফিরি ইয়ে করি।

হে সর্বজ্ঞ পাঠক, আপনি নিচ্চয় ভাবছেন এই আহাম্বুক ডাক্তার সবটুকু ঘেঁটে ঘন্টকারি করে দিল। হচ্ছিল ডায়াবেটিসের গল্প আর করছে শিবের গীত। এ নিচ্চয় টুকে পাশ!

স‍্যার, আসল কতাটা হল যদি রক্তের চিনি রক্তেই থেকে যায় তাইলে কিন্তু মোটেও শক্তি তৈরি হবে নিকো! ব‍্যস, শরীল দুব্বল লাগবে, মাথা ঘুরপাক খাবে – প্লিজ গ‍্যাস ভাববেন নিকো । এইটাই কিন্তু ডায়াবেটিস।

তার মানে গণ্ডগোল ইনসুলিনে। হয় কম পড়েছে নয়তো ডিফেক্টিভ মাল – ঠিকঠাক কাজ করছে না। ফলে রক্তের চিনি রক্তেই থেকে যাচ্ছে, শক্তি আর তৈরি হচ্ছে না। শরীর দুর্বল হচ্ছে। আরম্ভ হল কিস্‌সা ডায়াবেটিস কা।

আজ এইখেনে ক্ষ‍্যান্ত দেই। আগামী সপ্তাহে ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ কী করে জানা যাবে আর তার ক্ষতিকর দিক কী, তা নিয়ে লিখব। (চলবে)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here