diet in diabetes
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

এ বার ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে কিছু নিয়মকানুনের কথা বলি।

ডায়াবেটিস হলে কী খাব আর কী খাব না, এগুলো সব রোগীর নিরন্তর প্রশ্ন। তা হলে কি কেবলই রুটি আর ঢ‍্যাঁড়শ খেয়ে জীবন কাটাতে হবে, নাকি সারা দিনে সব পাতে ক’টা রুটি খেলেই ঠিক থাকব ?
ভারতবর্ষে এত রকম খাবার আর আমার‌ই ভাগ‍্যে কিস‍্যু নেই – আর আমার‌ই কিনা শুগার হল ?

আরও পড়ুন:  স্বাস্থ্য সাবধান: ডায়াবেটিস একটি মিষ্টি গল্প / প্রথম পর্ব

মূল ব‍্যাপারটা হল আপনার শরীরে কতটুকু শক্তি বা এনার্জি দরকার সেই অনুযায়ী খাবারের ফর্দ তৈরি হবে। যেমন ধরুন আপনার বারোশো ক‍্যালোরি শক্তি লাগবে। চালে ষাট গ্রামে একশো ক‍্যালোরি আবার আলুর প্রায় পঞ্চাশ গ্রামে একশো ক‍্যালোরি, তা হলে দাঁড়াল যে আলু আর চাল প্রায় সমগোত্রীয়। বরং চালের ক‍্যালোরি বেশি। তেমনই কুমড়ো লাউ বেগুন, এগুলো প্রায় ক‍্যালোরিশূন্য। তেমনই আইসক্রিম একশো গ্রামের ক‍্যালোরি-মান প্রায় চারশো ক‍্যালোরি। মাত্র তিনটি আইসক্রিম খেলেই বারোশো ক‍্যালোরি শরীরে ঢুকে যাবে আর কিছুই খাওয়া যাবে না। প্রোটিন দরকার, এমনকি অল্প ভালো চর্বিও দরকার। সুতরাং এক জন ডায়েটিশিয়ান অবশ্যই দরকার, যিনি সব কিছু মিলিয়ে একটা সুষম খাদ‍্যবিধি তৈরি করে দেবেন। শুধু মনে রাখতে হবে সব খাবার‌ই চলবে কিন্তু নির্দিষ্ট মাপে খেতে হবে।

এ বার পরীক্ষানিরীক্ষা।

শুগার হলে হার্ট কিডনি আর চোখের পরীক্ষা নিয়মিত ব‍্যবধানে করতে হবে। সোজা বাংলায় কিডনির কাজ হল শরীরের খারাপ জিনিস বার করে দেওয়া আর ভালো জিনিসটা শরীরের ভেতরে ফেরত পাঠানো। ডায়াবেটিস‌ের জন্য কিডনি খারাপ হলে শরীরের প্রোটিন কিডনি দিয়ে বেরিয়ে চলে যায়। তাই ইউরিন টেস্টে প্রোটিন পাওয়া যাবে। তখনই ডাক্তারবাবুরা আরও খারাপ হ‌ওয়া ঠেকাতে চিকিৎসা করবেন।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: ডায়াবেটিস একটি মিষ্টি গল্প / দ্বিতীয় পর্ব

কিন্তু আরও খান দুয়েক কথা আছে। অনেকের মাঝরাতে বা ভোররাতে শুগার খুব বেড়ে যায়। সে নিজে জানতে পারে না যে গোপনে এই রোগ তার অঙ্গপ্রত‍্যঙ্গ নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার অনেক রোগী আছেন যাঁরা সারা বছর নিয়মকানুন ওষুধপত্তরের ধার ধারেন না, কেবলমাত্র রক্ত পরীক্ষা করার আগে খাবারের নিয়ম, ওষুধ সব ঠিকঠাক চালু করেন। ফলে তাঁর‌ও রিপোর্ট ভালো পাওয়া যায়। ডাক্তার আর রোগী দু’জনেই খুশি থাকেন অথচ শরীরের ক্ষতি হয়েই চলেছে। সেই সব পরিস্থিতির জন্য একটি পরীক্ষা আছে যেটা গত কয়েক মাসের রক্তের চিনির গড় মাপটি জানিয়ে দেয়। HbA1C হল পরীক্ষাটির সাংকেতিক নাম। এটা করা হলে রক্তে শুগারের গড় মাপটা জানা যাবে – শরীরের ক্ষতিরও আন্দাজ করা যাবে। সেই অনুযায়ী ডাক্তার আর রোগী দু’জনেই সাবধান হতে পারবেন।

(লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here