ওয়েবডেস্ক : হাঁচি পেলে মুখে হাত চাপা দিয়ে তার পর হাঁচতে হয়। এটাই স্বাস্থ্যসম্মত। এই শিক্ষা প্রত্যেক স্কুলের পড়ুয়াদের দেওয়া হয়। সে কথা মেনে তেমন ভাবেই চলে অনেকে। কিন্তু এখন চিকিৎসকরা বারণ করছেন এই ভাবে হাঁচতে।

তাঁদের মতে এই ভাবে হাঁচলে অনেক সময় ঘোর বিপদ ঘটতে পারে।

কারণ তাঁরা বলছেন, হাঁচির সময় শরীরের ভেতর থেকে দমকা হাওয়া বেরিয়ে আসতে চায়। সেই বেরিয়ে আসার পথে বাধা পেলে বাতাস শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে চায়। তখনই ব্যাপক চাপের সৃষ্টি হয় বিভিন্ন অংশে। শরীরের ভেতরে কোষগুলিতেও। চাপ সৃষ্টি হয় বিশেষত বুক, ফুসফুস, গলবিল, কানের নালিপথ, কানের পর্দা, মস্তিষ্কের বিভিন্ন শিরা-উপশিরা ও গলার প্রতিটি অংশে। বাতাসের দমকা চাপে ক্ষতি হয় এই সব অংশের শিরা-উপশিরা, রক্তজালিকা আর কোষগুলিতে।

এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ৩৪ বছরের এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে। তিনিও নিয়ম মেনে মুখ নাক চেপে ধরে হাঁচতে যান। তখনই হয় বিপদ। তাতেই তাঁর ফুসফুস, গলবিল, গলা আর মস্তিষ্কের কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার পর তিনি আর কথা বলতে, খেতে পারছিলেন না। অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। এর পর তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করে নেন। তাঁকে নলের সাহায্যে খাবার আর ওষুধ দেওয়া হয়। একটি টোমোগ্রাফি স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কোষগুলি গুরুতর ভাবে আঘাত পেয়েছে। তার ফলেই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এই আঘাতের কারণ হল ওই মুখনাক চেপে হাঁচার চেষ্টা। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে, এর পর কখনও যেন তিনি হাঁচি পেলে নাক-মুখ চেপে না ধরেন। স্বাভাবিক হাঁচির পথে বাধা সৃষ্টি না করেন।

‘বিএমজে কেস রিপোর্টস’ পত্রিকায় এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন