চুলের ক্ষতির পিছনে কারণগুলো জানেন? খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলিতে

0

সৌন্দর্যের অনেকগুলি উপাদান রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম চুল। এক ঢাল ঘন কালো কেশ রূপকে শতগুণে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই চুল যদি পড়তে শুরু করে তাহলেই সমস্যা। বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চুলের সমস্যায় ভুগছেন। এখনকার লাইফ স্টাইলের সঙ্গে মানানসই করে চলার জন্য প্রভাব পড়ছে শরীরে। প্রভাব পড়ছে চুলেও।

স্নান করার সময় বা চুল আঁচড়াতে গিয়ে অনেকের গোছা গোছা চুল উঠছে। এটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। চুলপড়া যদিও নিয়ন্ত্রিত না হয়, তা হলে স্থায়ী টাক হয়ে যেতে পারে।

চুল পড়ার কারণ

চুল পড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকে। তার মধ্যে কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

মানসিক চাপ- বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মানসিক চাপ এসে যায়। মানসিক চাপ এখন সকলের নিত্যসঙ্গী হয়ে গিয়েছে। শরীরের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ে চুলের ওপর।

অস্বাস্থ্যকর খাবার- অস্বাস্থ্যকর খাবার চুলের ক্ষতি করে। তেল মশলাদার খাবার শরীরের ক্ষেত্রে যতটা ক্ষতিকর, তততাই ক্ষতিকর চুলের ক্ষেত্রেও। বেশি ভাজা ভুজি খেলে মাথার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়, তার ফলে চুলের ক্ষতি হয়। অ্যালকোহল খেলে চুলের স্বাভাবিক প্রোটিন ও ক্যারোটিন নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাবে চুল নষ্ট হয়ে যায়।

ওষুধ- শরীরের বিভিন্ন রকমের অসুস্থতার থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেলেও বেশ কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে চুলে খারাপ প্রভাব ফেলে। এর জেরে চুল পড়ে যায়।

অনুশীলনের অভাব- শরীর ঠিক রাখতে অনুশীলন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। চুলের ক্ষেত্রেও তাই। বর্তমানে ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত অনুশীলন সম্ভব হয় না,তার প্রভাব পড়ে শরীরের সঙ্গে চুলেও।

কোন সময়ে চুল পড়ছে

বয়স- ২৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে চুল পড়ার প্রবণতা থাকে। হতাশা ও মানসিক চাপ থেকেই এই সময়ে চুল পড়ে বেশি। চাপমুক্ত জীবনযাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গর্ভাবস্থার পরে- গর্ভাবস্থার পরেই অনেক মহিলাদের চুল পড়ে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে কত দ্রুত চুল পড়ছে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যা খেয়াল রাখা উচিত

২৫ বছর কম বয়সিদের চুল পড়ার ক্ষেত্রেই ভিটামিনের অভাবও দায়ী হয়। শরীরে ভিটামিন এর মাত্রা ঠিক আছে কিনা জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।

শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন এর পাশাপাশি প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রোটিনের মাত্রা কমে গেলে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়বে।

ভারসাম্যহীন হরমোনের প্রভাবে ও অনেক সময় চুল পড়ে। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম-এর কারণে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। এর প্রভাব পড়ে চুলে।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয় অনেক সময়। তার ফলে চুলে প্রভাব পড়ে। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার মাছ, ডিম, রেড মিট, পালং শাক ইত্যাদি খাওয়া বাড়াতে হবে।

অনেক সময় ওজন কমানোর জন্য চুলে প্রভাব পড়ে। সেই সব দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আরও পড়তে পারেন: ত্বকের জেল্লা নিয়ে চিন্তিত? এক টুকরো বরফেই কেল্লাফতে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন