mango-seeds-1
biswajit-parhak
বিশ্বজিৎ পাঠক

আমের আঁটির কথা বললেই অনেকের মনে পড়ে যেতে পারে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আম আঁটির ভেঁপু’র কথা। তবে আমের আঁটি দিয়ে শুধু ভেঁপুই বাজবে তেমনটা নয়। ভেষজ চিকিৎসায় মোটেই ফেলনা নয় এই আঁটি।

এ কথা ঠিক, আমরা কেউ আম আঁটি কিনতে দৌড়ই না। নিজের মনপসন্দ আম কিনলেই এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিতে হয় এই আঁটি। তবে নিয়ে আপশোসের কোনো জায়গা নেই। আমে রসনা তৃপ্তি করে আমের আঁটির ঠাঁই হয় আবর্জনার স্তূপে। কিন্তু সামান্য সময় ব্যয় করলেই ওই আমের আঁটি হয়ে উঠতে পারে অতিপ্রয়োজনীয় উপকরণ। কেন?

পরীক্ষায় প্রমাণিত প্রতি ১০০ গ্রাম আমের আঁটির মধ্যে রয়েছে ৩২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেড, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৩ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, ২০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬, বি১২, খনিজপদার্থ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, লিউশন লাইসিন আইসোলুসিন এবং হিস্টিডিন ভালইন জাতীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

অতএব বোঝাই যাচ্ছে কী পরিমাণ জৈব রাসায়নিকের মজুত ভাণ্ডার এই আমের আঁটিতে। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় কাজে লাগে এই আঁটি। কিন্তু ব্যবহারের রকমফের রয়েছে।

এই দূরারোগ্য ব্যধির জন্য যেখানে মাসিক কয়েক হাজার টাকার ওষুধ গলাধকরণ করতে দ্বিধা হয় না, তখন শুধু মাত্র কাজে দেবে কি না, এমন প্রশ্ন থেকেই আমরা আঁটি ছুড়ে ফেলে দিই জঞ্জালে। অর্থাৎ, ঝুঁকির কথা ভেবেই পিছপা হতে হয়। তবে তার আগে দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ কয়েকটি সমস্যায় প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

আমের আঁটি ভালো করে শুকনো করে নিন। এর পর উপরের শক্ত খোলসটির ভিতর থেকে বের করে নিন ভিতরের নরম অংশটিকে। এর পর ওই অংশটিকে ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এ বার জেনে নেওয়া যাক ওই গুঁড়োর উপকারিতা।

mango-seeds-12

  • ওই গুঁড়ো আমের আঁটি মাজনের মতো ব্যবহার করলে দাঁত হবে ঝকঝকে, সুস্থ মাড়ি এবং মুখে কোনো ঘা থাকলে সেরে যাবে।
  • মাথার জন্য সর্ষের তেলে ওই গুঁড়ো মিশিয়ে বা ভেতরের নরম অংশটিকে বেটে নিয়ে ব্যবহার করলে দূর হবে খুসকি। চুল হবে উজ্জ্বল।
  • সর্ষের তেলের সঙ্গে মিশ্রণটি গায়ে মাখলে খসখসে ত্বকে ফিরবে পেলবতা।
  • এ ছাড়া পিঁপড়ে, বিছে বা মৌমাছি কামড়ালে আমের তাজা রসের সঙ্গে আঁটিগুঁড়ো মিশিয়ে লাগালে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
  • এ বার আপনি পরখ করতে পারেন উপরোক্ত দূরারোগ্য ব্যাধিতে আঁটির উপকারিতা। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩-৫ গ্রাম আম আঁটির গুঁড়ো জলে গুলে বা অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেযে দেখতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে কতটা সুফল পাচ্ছেন।
  • আমের আঁটির ব্যবহারে সচরাচর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে অসুবিধা হলে না খাওয়াই ভালো।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here