জানেন মুড়ি, তেল-সহ বিভিন্ন খাবারে ভেজাল হিসাবে কোন কোন ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে?

0
টেস্ট

ওয়েবডেস্ক: আজকাল রোগের প্রকোপ সাংঘাতিক বেড়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি মারণ রোগ তো না কি খাবারের বিভিন্ন রকমের ভেজালের কারণেও শরীরে বাসা বাঁধছে। তাই অনেকটা জেনেও, অনেক খাবারই আমরা খেতে বাধ্য থাকি। কারণ অন্য উপায় থাকে না। বা করার কিছু নেই এই ভেবে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে ‘পাপ’খণ্ডনের মতো বলতে থাকি, প্রচলিত একটি কথা ‘যা ভেজালের যুগ, এখন হাওয়াটাও ভেজাল’। সত্যি কথা বলতে কী, হাওয়াতে ভেজাল না থাকলেও দূষণ আছে অবশ্যই। তা-ও মারাত্মক। তা হলে সে-ও তো এক রকমের ভেজালই হল।

যাই হোক বিষয় হল আমরা যেনে বা না জেনে যে সমস্ত খাবারগুলি খাই তার অনেকগুলির মধ্যেই ভেজাল মেশানো থাকে। তেমনই খুব সাধারণ রোজকার খাদ্য তালিকায় থাকা খাবারের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক যে কোনটায় কী  পদার্থ ভেজাল হিসাবে থাকে এবং সেগুলি যাচাই করার পদ্ধতিও।

মুড়ি – প্রথমেই আসি মুড়ির কথায়। খুব সাধারণ একটি খাবার প্রায় প্রতি ঘরেই থাকে এটি। কিন্তু সাদা ধবধবে মুড়ি দেখাতে এতে মেশানো থাকে ক্ষতিকারক ইউরিয়া।

ইউইরিয়া যে মেশানো আছে তা বোঝার উপায় কী?

কিছুটা মুড়ি নিয়ে অল্প জলে মিনিট দশেক ভিজিয়ে রেখে তার পর ছেঁকে মুড়ি তুলে নিতে হবে। তার পর এই জলে দুই চামচ মতো অড়হর ডালের গুঁড়ো মিশিয়ে সামান্য গরম করে নিতে হবে। এই গরম জল মিনিট পাঁচেক রেখে দিয়ে তাতে ফিন্যাপথালিন মেশাতে হবে। যদি দেখা যায় যে জলটা গোলাপি হয়ে গেল, তা হলে বুঝতে হবে এই মুড়িতে ইউরিয়া আছে।

কী রোগ হয়?

এই ভেজাল খেলে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়, কিডনির রোগ হয় ও ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

সবুজ সবজি –  উচ্ছে, পটল, সবুজ শাকপাতা ইত্যাদিতে সুন্দর সবুজ রং দেখানোর জন্য ম্যালাকাইট গ্রিন মাখানো হয়।

বোঝার উপায়?

এই সবুজ সবজির ওপরের রং আসল না নকল, জানতে সাহায্য করবে প্যারাফিন। এক টুকরো তুলো তরল প্যারাফিনে ভিজিয়ে নিয়ে সবজির গায়ে ঘষতে হবে। যদি দেখা যায় তুলোটি সবুজ হয়ে যাচ্ছে তা হলে বুঝতে হবে এতে ম্যালাকাইট মাখানো আছে।

কী রোগ হয়?

এই জাতীয় ভেজাল মানুষের শুক্রাশয়, মূত্রাশয়, প্লীহা, কিডনি, লিভার প্রভৃতির রোগের কারণ। এর থেকে স্তন, ডিম্বাশয় ও লিভারে টিউমারও হতে পারে।

চা পাতা –

চা পাতাতেও আজকাল এক ধরনের ভেজাল থাকে। এই ভেজাল হল লোহার গুঁড়ো, রাসায়নিক রং।

বোঝার উপায়?

কিছুটা পাতা ব্লটিং পেপারে ছড়িয়ে দিতে হবে। তার ওপর জলের ছিটে দিতে হবে। যদি কোনো রং থাকে তা হলে তা ব্লটিং পেপারেই ধরা পড়বে। যদি লোহার গুঁড়ো থাকে তা হলে একটি চুম্বক দিয়ে পাতা চায়ের ওপর ঘোরালেই লোহার গুঁড়ো উঠে আসবে চুম্বকে।

কী রোগ হয়?

এই ধরনের ভেজালের ফলে স্বাস্থ্যের নানা রকম ক্ষতি হয়ে থাকে।

ভোজ্য তেল –

আজকাল অনেক ভোজ্য তেলই স্বাদ-গন্ধ-রং এবং ঝাঁঝের জন্য নানান রকমের ভেজাল পাইল করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে থাকে শিয়ালকাঁটা বীজের তেল, রেড়ির তেল, খনিজ তেল, ধুতুরার তেল।

বোঝার উপায়?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের ভেজাল সাধারণ ভাবে বোঝা খুবই কষ্টকর। তবুও কয়েকটি উপায় আছে যা সাধারণ ভাবে এই ভেজাল চিনতে কিছুটা সাহায্য করে। তার মধ্যে রয়েছে –

রান্নার সময় কড়াইয়ে তেল দিয়ে উনুনে চাপালে যদি তেলে ফেনা হয়, তা হলে তাতে ভেজাল আছে বুঝতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে তেলটি থেকে অস্বাসভাবিক রকমের গন্ধ বেরলেও ভেজাল আছে বুঝতে হবে।

তৃতীয় ধাপে যদি কিছুক্ষণ গরম করা বা ফোটানোর পর তেলের রং চলে যায় তা হলেও বোঝা যাবে তেলে ভেজাল আছে।

তা ছাড়া ল্যাব টেস্টের জন্য পদ্ধতি হল – টেস্টটিউবে তেল নিয়ে তার দ্বিগুণ পরিমাণ নাইট্রিক অ্যাসিড মিশিয়ে ভাল করে ঝাঁকালে অ্যাসিডের অংশটা লাল হয়ে গেলে বুঝতে হবে এতে শিয়ালকাঁটা বীজের তেল মেশানো আছে।

আবার টেস্ট টিউবে তেল ও ইথার নিয়ে ঝাঁকিয়ে পাঁচ মিনিট ঠাণ্ডা করে দেখতে হবে। তখন যদি ইথারের দ্রবণ ঘোলাটে হয়ে যায় তা হলে বুঝতে হবে এতে রেড়ির তেল আছে।

কী রোগ হয়?

শিয়ালকাঁটা বীজের তেল খেলে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দেখা যায়, রেড়ির তেলে হজমের সমস্যা হয়, কিডনি, লিভার হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করে। তা ছাড়া মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষতি করে। ধুতুরা তেল মস্তিষ্কের ভারসাম্য নষ্ট করে।

এর থেকে বাঁচার উপায়?

বিশেষজ্ঞরা এর থেক বাঁচার উপায় হিসাবে রাসায়নিক সার ছাড়া খাবার খেতে পরামর্শ দিচ্ছেন। এক কথায় অর্গ্যানিক খাবার। সে ক্ষেত্রে তাঁরা ঘরের টবে সামান্য জায়গাতেই সবুজ ফলনের পরামর্শ দিচ্ছেন। তা ছাড়া চকচকে ঝকঝকে রঙের সবজি বা খাবারের আকর্ষণ ত্যাগ করে একটু কম রংচঙে ফ্যাকাসে সবজি কেনার পরামর্শ দিচ্চছেন, তাতে আশা করা যাচ্ছে নকল রঙ বা রাসায়নিক সারের প্রভাব কিছুটা কমানো যাবে।     

দেখুন – ক্যানসারের চিকিৎসার সময় রোগীরা কী খাবেন আর কী খাবেন না?     

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.