use of inhaler
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

আমাদের এই শহর কলকাতার আর বহু বড়ো শহরের একটাই বড় সমস্যা – বায়ুদূষণ। দূষিত বাতাসের বিষাক্ত কণাগুলো শ্বাসনালির সমস্ত বাধা পার হয়ে ব্রঙ্কাস এবং ফুসফুসের ভেতরে পৌঁছে ওই সব জায়গায় প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। বহু ধরনের জীবাণু থেকেও এই রকম ঘটনা ঘটতে পারে। দূষণের ফলেও সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে ওই সব জায়গায় মানে ব্রঙ্কাস বা আরও সরু সরু বাতাসবাহী পাইপে ইরিটেশন – স্পাজম অর্থাৎ সংকোচন হয়, ফলস্বরূপ কাশি আর শ্বাসকষ্ট।

আমাদের অর্থাৎ ডাক্তারদের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে এই সংকোচন কমিয়ে রোগীকে আরাম দেওয়া। সংকোচন কমানো কথাটার মানে হলো ডায়ালেট বা প্রসারণ করা। এই কাজে আমরা ব্রঙ্কোডায়ালেটর ব‍্যবহার করি। সালবুটামল বা থিওফাইলিন জাতীয় ওষুধ। এগুলো সবই ট‍্যাবলেট হিসেবে পাওয়া যায়। ট‍্যাবলেট খেলে ওষুধটা পেট থেকে রক্তে মেশে তার পর শরীরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে – অবশ্যই ফুসফুসের ভেতরেও যায় এবং সেখানে তার প্রয়োজনীয় কাজটুকু করে। কিন্তু শরীরের অন্যান্য জায়গায় যেখানে এটার প্রয়োজন নেই সেখানে গিয়ে কিছু কিছু উপসর্গ তৈরি করে – যেমন হার্টের গতিবেগ বাড়িয়ে দেয় বা হাত পা ঠকঠকিয়ে কাঁপতে থাকে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সাবধান : ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য অসুখ

আবার যখন এই সব ওষুধ‌ও কাজ করে না তখন আমরা নিরুপায় হয়ে স্টেরয়েড ব‍্যবহার করি। তার‌ও তো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তবুও অসহায় হয়ে কষ্ট লাঘব করতে দিতেই হয়। যখন অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় তাড়াতাড়ি কাজ পাওয়ার জন্য ইনজেকশন দিতে হয়।

বহু দিন ধরে এই নিয়ে গবেষণা করে ইনহেলার নামক যন্ত্রটি আবিষ্কার হয়। এই সহজ সরল যন্ত্রের সাহায্যে সালবুটামল বা স্টেরয়েড ওষুধগুলো নিঃশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের ভেতরে পৌঁছে যায়। যার ফলে ওষুধ তার প্রয়োজনীয় কাজটুকু একেবারে লক্ষ্যে পৌঁছোনোর পরেই করে এবং এই পদ্ধতিতে ওষুধের কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া হয় না। ওষুধটা তো রক্তের সঙ্গে মিশছেই না। এমনকি স্টেরয়েড ওষুধগুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে তারা রক্তে মিশতে না পারে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সাবধান : লিভার খারাপ ? জেনে নিন

যে ওষুধ রক্তে মেশে না তার তো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছু থাকেই না এবং মুখে খাওয়া ওষুধ আর এর মূল জিনিসটা এক‌ই হ‌ওয়ার জন্যে অভ‍্যাস তৈরি হ‌ওয়ার কোনো সুযোগ‌ও থাকে না। সুতরাং ইনহেলার ব‍্যবহার করলে অভ‍্যাসে পরিণত হবে, আমাদের প্রচলিত ধারণা ত‍্যাগ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ইনহেলার বেশি করে ব‍্যবহার করা উচিত। তবে শ্বাসকষ্ট খুবই বেড়ে গেলে ইনহেল করা বা বাতাসের সঙ্গে ওষুধটা ভেতরে টেনে নে‌ওয়ার ক্ষমতা থাকে না – তাই বাড়াবাড়ি হলে ইনহেলার কাজ করবে না, কেবলমাত্র প্রাথমিক অবস্থায় এই ওষুধ কাজ করবে।

শুধুমাত্র খেয়াল রাখতে হবে যে স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়ার পর মুখটা কুলকুচি করে ধুয়ে নিতে হবে।

বাকিটুকু আপনার নিজের ডাক্তারবাবু বুঝিয়ে দেবেন।

(লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here