খালি পেটে খান মৌরি-ভেজানো জল, এক সপ্তাহেই লক্ষ করুন পরিবর্তন

0
মৌরি-ভেজানো জল।
মৌরি-ভেজানো জল।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একটা মিষ্টি আর রিফ্রেশিং ব্যাপার রয়েছে মৌরিতে। শুধুমাত্র বাঙালি রান্নায় যে মৌরি ব্যবহার করা হয় তা নয়, অন্যান্য দেশি-বিদেশি রান্নায়ও মৌরি ব্যবহার করা হয় খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তোলার জন্য। খাওয়ার পর মুখশুদ্ধিতে আমরা মৌরি খেয়ে থাকি। এই ছোটো উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এক গ্লাস জলে এক চামচ মৌরি ভিজিয়ে খেলেই দেখবেন ম্যাজিক। এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনার শরীরের পরিবর্তন টের পাবেন। মৌরিতে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন রোগব্যাধি সারাতে পারে।

মৌরিতে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, আয়রন এবং কপার রয়েছে যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কাজেই অনেক ফিটনেস এক্সপার্ট ও নিউট্রিশনিস্ট নিয়মিত মৌরি-ভেজানো জল খাওয়ার পরামর্শ দেন।

উপকারিতা

এক চামচ কাঁচা মৌরি ভালো করে ধুয়ে এক গ্লাস জলে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন সকালে উঠে জল ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে পান করুন। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে, এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও সারাতে পারে মৌরি। 

চোখের জন্য

Shyamsundar

মৌরিতে আছে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখের জন্য দরকারি। গ্লুকোমা দূর করতে পারে মৌরির চা।

হজমের সমস্যায়

হজমের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য মৌরি এক কার্যকর দাওয়াই। নিয়মিত মৌরি-ভেজানো জল বা চা পান করলে এ সমস্যা দ্রুত সারবে। মৌরি-ভেজানো জল গ্যাস্ট্রোজাইম তৈরি করতেও সাহায্য করে। ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমতে শুরু করে।

হাই ব্লাডপ্রেশারে

মৌরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যাঁদের হাই ব্লাডপ্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাঁরা নিয়মিত মৌরি-ভেজানো জল পান করলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যাবে। মৌরি-ভেজানো জল কিন্তু ব্লাড পিউরিফায়ারের কাজও করে। মৌরি আমাদের শরীরে তৈরি হওয়া টক্সিন ফ্লাশ আউট করতেও সাহায্য করে।

খারাপ ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস থেকে রক্ষা

মৌরিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরকে খারাপ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। মৌরিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তের অণুতে পৌঁছে অক্সিডেটিভ ড্যামেজের সঙ্গে লড়াই করে।

ঋতুস্রাবের সময়ে

মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটে এবং কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধ খান এবং তাতে সাময়িক সমস্যা লাঘব হলেও অন্যান্য অনেক শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই পিরিয়ড ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি চান, তা হলে ঋতুস্রাবের দিনগুলোয় দিনে দু’-তিন বার মৌরি-ভেজানো জল খান।

আরও নানা সমস্যার নিরসনে

নিয়মিত মৌরি খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রার জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি তৈরি হয়। এগুলি হরমোন ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে ত্বক ঠান্ডা হয়, ঔজ্জ্বল্য বাড়ে, ব্রন দূর হয়।

মৌরির চা নিয়মিত খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে যায়। প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়। 

মৌরিতে যে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আছে, তা সাইনাসের সমস্যা দূর করে। ব্রঙ্কাইটিস ও কফের সমস্যা দূর করে।

অতিরিক্ত মেদ-ভুঁড়ি নিয়ে যাঁরা চিন্তিত, তাঁরা নিয়মিত মৌরি খেতে পারেন। শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে মৌরি। কাজেই প্রতি দিন সকালে খালি পেটে মৌরি-ভেজানো জল পান করলে কিছু দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা সম্ভব।

আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও মৌরির নানা গুণের কথা বলা হয়েছে। স্নায়ু ও মনকে শান্ত করতে মৌরির তেল মালিশ করা যায়। এর নানান উপাদান স্নায়ুর জন্য উপকারী।

আরও পড়ুন: গরম জল খেলে শরীরের নানা সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন