এই খবারগুলি খেয়ে শরীরকে রাখুন সতেজ

ওয়েবডেস্ক: পুজো মানেই জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। বিশেষ করে দুর্গাপুজোয় থাকে বাহারি সব খাবারের আয়োজন, যা থেকে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরাও নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না। তাই তো জম্পেশ খাওয়া-দাওয়ার মাঝে হারিয়ে যায় সকলেই। যতখুশি খান কিন্তু খেয়াল রাখবেন বেশি খাওয়ার কারণে যেন কোনও রকম স্বাস্থ্য সমস্যায় না পড়তে হয়।

তবে পুজোর আগে নিজেকে কী ভাবে সুস্থ রাখবেন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কী খাবেন একবার জেনে নেওয়া যাক।

১। শাক-সবজি

সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে উপকারী উপাদান থাকে। থাকে প্রচুর নিউট্রিশন। তবে এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শাক-সবজি শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী। রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে, চোখ ভালো রাখতে, ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা কমাতে শাক সবজির জুড়ি মেলা ভার। তাই সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি খান। তবে অবশ্যই খাবার আগে ভালো করে সব ধুয়ে তবে খাবেন।

২। মাটির নীচে জন্মায় যে সব সবজি

মাটির নীচে যে সমস্ত সবজি জন্মায় তা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। যেমন পেঁয়াজ, রসুন, আদা প্রভৃতি। এই সমস্ত খাবার যে শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় তা নয়। পেঁয়াজ রসুন খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। বিশেষ করে ক্যানসার এবং ডায়াবিটিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে এই সমস্ত সবজি খেলে।

৩। বাদাম

ফ্যাট, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসে ভরা থাকে বাদাম। তাই বাদাম খেলে শরীরের যাবতীয় সব চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। ওজন মেনটেন করতে এবং ডায়াবিটিস প্রতিরোধ করতে বাদাম খুব কাজে দেয়।

৪। ফল

পুজোর আগে নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন তাজা ফল। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফলটিই খান। ফলে আছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান। পটাসিয়াম, ফাইবার ও ফলিক অ্যাসিড। প্রতিদিন ফল খেলে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি। এ ছাড়া পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার কিডনিতে পাথর হওয়া ও হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

আরও পড়ুন: দ্রুত ওজন কমাতে চান? প্রতিদিন খান এই ৫টি খাবার

৫। শক্তির উৎস প্রোটিন

শরীরকে সতেজ রাখতে প্রয়োজনীয় কোষ-কলার গঠন ও বিকাশের অন্যতম উপাদান প্রোটিন। পাশাপাশি এনজাইম, হরমোন, হাড়, পেশি, রক্ত তৈরিতেও প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রোটিন পেতে তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন দানা জাতীয় খাবার, সামুদ্রিক মাছ, মাংস ও সয়াবিন।

৬। দুধ

দুধকে বলা হয় আদর্শ খাদ্য। প্রায় সব ধরনের খাদ্য উপাদানে ভরপুর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। দুধে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন সি, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড, রিবোফ্লাবিন ও আয়োডিন। হাড় ও দাঁতের গঠন, প্রখর দৃষ্টিশক্তি, কোষ-কলার সঠিক বৃদ্ধি, সুন্দর ত্বক ও হজমে সহায়তা করে দুধ।

৭। প্রয়োজন শস্যজাতীয় খাদ্য

শস্যজাতীয় খাদ্যে আছে আঁশ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি এবং লৌহ ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। পর্যাপ্ত পরিমাণে শস্যজাতীয় খাদ্যগ্রহণ দুরারোগ্য বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। তাই পুজোর আগে নিরোগ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শস্যজাতীয় খাদ্য রাখা প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন