করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস, চাঞ্চল্যকর দাবি গবেষণায়

    আরও পড়ুন

    খবর অনলাইন ডেস্ক: কোভিড-১৯ (COVID-19)-এর জন্য দায়ী সারস-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস। একটি গবেষণায় এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, করোনার মোকাবিলা করতে পারে ‘রাইনোভাইরাস’। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে জ্বরজ্বালা, সর্দি-কাশি, গলা খুসখুস অথবা গলাব্যথার মতো সমস্যা বাঁধায়।

    Loading videos...

    করোনার বংশবৃদ্ধি রোধ করে রাইনো!

    গবেষকরা বলেছেন, রাইনোভাইরাস সাধারণত শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, ইন্টারফেরন-উদ্দীপক জিনগুলির ক্রিয়াকলাপকে উদ্দীপিত করে। এই জিনগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্রারম্ভিক-প্রতিক্রিয়ায় অণুগুলিকে উদ্দীপিত করে যা কোভিডের কারণ সারস-কোভ-২ (SARS-CoV-2)-এর প্রজনন বন্ধ করতে পারে।

    - Advertisement -

    গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত আমেরিকার ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক অ্যালেন ফক্সম্যান বলেছেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা দিলেই রাইনোভাইরাস কার্যত শরীরের প্রতিরক্ষা বাড়িতে দিতে পারে। সার্স-কোভ-২ ভাইরাসকে বহুগুণে বাড়ার সুযোগ দেয় না রাইনোভাইরাস। অর্থাৎ, করোনা শরীরে ঢুকলেও তার বংশবৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখে রাইনোর দাপাদাপি।

    একই সঙ্গে গবেষক বলেছেন, “এটা নির্ভর করে সময়ের উপর”। এর আগের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছিল, রোগের মাত্রার সঙ্গে জড়িত রয়েছে উচ্চ ইন্টারফেরন স্তরগুলি। যা অতিসক্রিয় অনাক্রম্যতার প্রতিক্রিয়াগুলিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    কী ভাবে পরীক্ষা?

    পরীক্ষাগারে তৈরি কোষে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটিয়ে দেখা গিয়েছে, প্রথম তিন দিন ধরে ভাইরাসের পরিমাণ প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর দ্বিগুণ হয়। একই সময়ে দেখা যায়, এই সময়ে করোনাভাইরাসের নিজেকে বহু করার কাজ সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে। তবে শরীরের সাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতাও সারস-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণের গতিকে হ্রাস করতে পারে, কিন্তু সংক্রমণের মাত্রা কম থাকলেই সেটা সম্ভব।

    করোনায় সংক্রমিত হওয়ার শুরুর দিকেই কয়েক জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন গবেষকরা। সে ক্ষেত্রেও তাঁরা দেখেছেন, সংক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যেই সারস-কোভ-২ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর পরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। গবেষকদের দাবি, কোভিডে ইন্টারফেরন পরীক্ষা এখনও চলছে। এ ব্যাপারে এখনই কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়।

    প্রসঙ্গত, মানুষের দেহকোষে একই সঙ্গে বংশবৃদ্ধি করে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস। সচরাচর তারা কেউ একে অপরের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয় না। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও রাইনোভাইরাসের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অন্যরকম। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তারা একে অন্যকে বংশবৃদ্ধি করতে দেয় না।

    আরও পড়তে পারেন: টিকার ডোজের ব্যবধান নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে, আক্ষেপ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর