ওয়েবডেস্ক :  চুল পড়া এখন আবাল বৃদ্ধবনিতার সমস্যা। বিশেষ করে শীতকালে চুলের সমস্যা ভীষণই বেড়ে যায়। মূলত খুসকির সমস্যা। খুসকির ঠেলায় জর্জরিত মানুষের সংখ্যাও নেহাতই কম নয়। এর হাত থেকে মুক্তি পেতে স্পা, রাসায়নিক পদার্থে ভরা শ্যাম্পু ইত্যাদিতেও অনেক সময়ই কাজ হয় না। তাই এই সমস্ত থেকে মুক্তি পেতে রোজের খাদ্যতালিকায় রাখুন এমন কিছু খাবার যেগুলো এই সমস্যা থেকে প্রাকৃতিক ভাবে মুক্তি দিতে পারে।

পালং শাক :  পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ভিটামিন, প্রোটিন। এর মধ্যের খাদ্যগুণ প্রাকৃতিক উপায়ে চুলকে কন্ডিশনিং করে। তা ছাড়াও রয়েছে ওমেগা-৩, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম। এগুলো স্ক্যাল্পকে সমৃদ্ধ করে। চুলের স্বাস্থ্য ফেরায়।

ডেয়ারি প্রোডাক্ট :  দুধ, ডিম, ইয়োগাটস ইত্যাদি হল চুলের জন্য আদর্শ খাবার। নতুন চুল গজাতে, চুলের থিকনেস বাড়াতে এই সব খাবার খুবই ভালো। ডেয়ারি প্রোডাক্টে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি ১২, আয়রন, জিঙ্ক, ওমেগা ৬, ফ্যাটি অ্যাসিড। তা ছাড়া ভিটামিন বি-৭ চুল পড়া আটকাতে মোক্ষম উপাদান।

আখরোট :  আখরোটে আছে প্রচুর পরিমাণ বায়োটিন, ভিটামিন বি১, বি৬, বি৯, ভিটামিন ই, প্রোটিন ও ম্যাগনেশিয়াম। এর খাদ্যগুণ স্ক্যাল্পে পুষ্টি যোগায়। চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে।

পেয়ারা :  চুলের স্বাস্থ্যের জন্য পেয়ারা। কমলা লেবুর থেকে অনেক বেশি পরিমাণ প্রোটিন থাকে পেয়ারায়। চুল গজাতেও সাহায্য করে।

ডাল কড়াই :  বিভিন্ন প্রকারের ডালে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, জিঙ্ক, প্রোটিন, বায়োটিন। এতে প্রচুর পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড আছে। ফলিক অ্যাসিড লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে খুবই সাহায্য করে। লোহিত রক্তকণিকা স্ক্যাল্প ও আর চুলে স্বাস্থ্য ভালো করে। চুলো ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

বার্লি : বার্লিতে থাকে ভিটামিন ই, আয়রন ও তামা। ভিটামিন ই চুলের শক্তি বাড়ায়। এর খাদ্যগুণ লোহিতকণিকা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এটি চুলকে পুষ্টি দেয়।

ফ্লেক্সসিড : ফ্লেক্সসিডে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, এগুলি চুলকে নারিশ করে, চুল ভাঙার সমস্যার সমাধান করে।

চিকেন :  চুল তৈরি হয় প্রোটিন দিয়ে। আর প্রাকৃতিক ভাবে চিকেন প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। ফলে চিকেন চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তা হলে চিকেন প্রেমীদের আরও চিন্তা রইল না। মন খুলে পেট পুরে চিকেন খান।

গাজর :  গাজরে অনেক পুষ্টিগুণ। গাজর খালি চোখের জন্যই নয়, চুলের জন্যও দারুণ ভালো। এতে থাকে ভিটামিন এ। এর খাদ্যগুণ প্রাকৃতিক ভাবে চুলকে নারিশ করে। কন্ডিশনিং করে, ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। বিশেষ করে যে গাজরগুলো মিষ্টি হয় তাতে ভিটামিন এ-র পরিমাণ বেশি থাকে।

চুলের সমস্যায় মাথায় হাত! রোজের খাবারের সঙ্গে এগুলো নিয়ম মেনে খেয়েই দেখুন না। আশা করি সুরাহা নিশ্চয়ই হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here