ভিটামিন বি১২-র অভাব ঘটিত রোগগুলি এড়াতে নিয়মিত খান এই ৪টি খাবার

0
b12
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক: ভিটামিনের বিভিন্ন প্রকারগুলির মধ্যে ভিটামিন বি১২ একটি প্রকার। শরীর গঠনে ও সুস্থ রাখতে এই ভিটামিন বি১২-র প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

দেহের প্রত্যেকটি কোষের বিপাক ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ভিটামিন বি১২। ভিটামিন বি১২-এর অভাবে রক্তের নানান রোগ এবং স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া শরীরে আরও অনেক সমস্যা দেখা যায়।

ভিটামিন বি১২-এর অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে দেখে নেওয়া যাক –

মাথা ঘোরা –

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে প্রায়ই মাথা ঘোরার সমস্যা হতে থাকে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো বা এ পাশ থেকে ও পাশ ফেরা, অথবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা ইত্যাদির মতো খুব সাধারণ ক্ষেত্রেই মাথা ঘোরার সমস্যা হয়ে থাকে। এমনটা হলে মোটেই ফেলে না রেখে চটপট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিস্মৃতি –

বিস্মৃতি বা ক্রমাগত কিছু না কিছু ভুলে যাওয়া। এটিও ভিটামিন বি১২ ঘাটতির ইঙ্গিত করে। আজকাল সকলের মধ্যেই কম-বেশি এই সমস্যা রয়েছেই। বিশেষ করে এটি হয় বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে। তবে মাঝ বয়সি বা কম বয়সিরা এর থেকে বাদ যান না। স্মৃতির লোপের এই সমস্যাকে ডাক্তাররা সাধারণত ডিমেনশিয়া বলেন। এই ডিমেনশিয়ার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে ভিটামিন বি১২-র অভাবও। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া যেতে পারে ভিটামিন বি১২-র পরিমাণ। তাই স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করতে অবশ্যই ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

দুর্বল পেশি –

ভিটামিন বি১২-এর অভাবে মাংসপেশিতে সমস্যা দেখা দেয়।  মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেনের অভাব হয়। ফল – মাংস পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

ব্যাথা অনুভব –

অকারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে পিন এবং সুঁচ ফোটানোর মতো ব্যথা অনুভব হয়? এর কারণও শরীরে ভিটামিন বি১২-র ঘাটতি। এর ফলে হাত পা অসাড় লাগে। বিভিন্ন অঙ্গে বৈদ্যুতিক শক তরঙ্গের মতো ছুটে যায়। এতে নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শরীর লৌহ রক্তকণা উৎপাদন কমিয়ে দেয়।  

ফ্যাকাসে চেহারা –

ভিটামিন বি১২-র অভাবে রক্তে লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা কমে যায়। ফলে শরীরে অনেক বেশি পরিমাণ বিলিরুমিন বের হয়ে যায়। তার ফলে চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। চোখে একটা হলদেটে ভাব আসে।

ক্লান্তি –

ভিটামিন বি১২-এর অভাবে শরীর অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম হলেও সারাদিনই ঘুম ঘুম ভাব থাকে। কারণে অকারণেই খুব ক্লান্ত লাগে। এর কারণও ভিটামিন বি১২-এর অভাব।

দৃষ্টিশক্তি হ্রাস –

অনেক সময় শরীরে ভিটামিন বি১২-এর অভাব হলে তার প্রভাব দৃষ্টি শক্তির ওপর পড়তে পারে। দেখা দেয় নানান সমস্যা। তার মধ্যে আলোক রশ্মি সহ্য ক্ষমতা কমে, সামনের সব কিছু ঝাপসা দেখায়। অনেক সময় ভিটামিন বি১২-র অভাবে কিন্তু চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায়, তার ফলে চোখের দৃষ্টি একেবারে চলে যায়।

সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া উচিত। সমস্যা হলে ফেলে না রেখে উচিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। পাশাপাশি রোজের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ রাখা উচিত।

ভিটামিন বি১২-র প্রয়োজনের পরিমাণ সব বয়সের মানুষের শরীরে সমান নয়।

ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের এটি দরকার ০.৪ মাইক্রোগ্রাম। তার থেকে বড়ো শিশুদের দরকার ০.৫ মাইক্রোগ্রাম।

এক থেকে তিন বছরের শিশুদের প্রতিদিন ০.৯ মাইক্রোগ্রাম দরকার।

চার থেকে আট বছরের শিশুদের দরকার ১.২ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন।

নয় থেকে তেরো বছরের জন্য দরকার ১.৮ মাইক্রোগ্রাম দিনে।

কিশোর এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দরকার ২.৪ মাইক্রোগ্রাম দিনে।

গর্ভবতী মহিলাদের দরকার ২.৬ মাইক্রোগ্রাম ও যদি শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে সে ক্ষেত্রে সেই মায়ের দরকার ২.৮ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি১২ দিনে।

তা হলে তার জন্য জানতে হবে যে, হাতের কাছে কোন কোন খাবারে ভিটামিন বি১২ আছে।

দুধ – এক কাপ দুধে প্রায় ২০% ভিটামিন বি১২ –এর চাহিদা পূরণ করা যাবে।

দই – জানলে আবাক লাগবে সব থেকে বেশি পরিমাণ ভিটামিন বি১২ থাকে দইয়ে। প্রায় ৫১% থেকে ৭৯%।

চিজ – নানান শাকসবজি ছাড়াও চিজে ভিটামিন বি১২ আছে প্রচুর পরিমাণে। ৩০ গ্রাম চিজে প্রয়োজনীয় পরিমাণের ৩০% ভিটামিন বি১২ থাকে।

ইস্ট – ভালো মানের ইস্টে ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ প্রচুর। প্রতি চামচ ভালো মানের ইস্টে থাকে ৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি১২।     

দেখে নিন – শরীর সুস্থ রাখার সহজ ৭টি উপায়, অবশ্যই করে দেখুন সুফল পাবেনই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.