ডাক্তারের চেম্বার থেকে: সন্তান পালন করার সহজ উপায়

0
শিশুর যত্ন।

ড. দীপঙ্কর ঘোষ

(একটু ধৈর্য ধরে পড়ুন)

পাঁচু অর্থাৎ পাঞ্চজন্য মুখার্জি এবং চাঁদু অর্থাৎ চন্দ্রাণী মাহাতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে। এবং ওরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরা ওদের সন্তানের জন্য‌ আদর্শ মা-বাবা হয়ে উঠবে। তাই দু’জনে মিলে পাড়ার‌ এক বয়স্ক ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে পড়েছে। ঢুকে তো পড়েছে, এ বারে কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ডাক্তার নিজের টাকে হাত বুলিয়ে মোটা মোচে তা দিয়ে জিগ্গেস করলেন, “কী কেস?”

পাঁচু কিঞ্চিৎ লাল হয়ে বলল, “আমরা বিয়ে করতে চাই।” ডাক্তার গেলাসের ঠান্ডা চায়ে শেষ চুমুকটা  দিয়ে বললেন, “কংগ্র্যাচুলেশনস। কিন্তু আমি তো ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নই।” চাঁদু বলল, “আহাম্মুক।”  টেকো ডাক্তার বেজায় রকমের চমকালেন। পাঁচু মাথা নিচু করে বলল, “আজ্ঞে ওটা আমাকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে। আসলে আমরা আদর্শ মা-বাবা হতে চাই। এ বিষয়ে কিছু ইয়ে মানে জানতে এসেছি।”

চাঁদু যোগ করল, “আসলে আপনার চেম্বারটা আজ ফাঁকা দেখলাম। মানে আমি চাঁদু মানে চন্দ্রাণী আর‌ ও পাঁচু মানে পাঞ্চজন্য।”

ডাক্তার গেলাস তুলে দেখলেন পেয়ালা শূন্য, হাঁক পাড়লেন, “মনোজ তিনটে চা।” তার পর‌ আরম্ভ করলেন, “আমরা সবাই চাই সন্তান বড়ো হোক, শিক্ষিত হোক। ভালো করে পড়াশোনা করুক। যা পড়বে মনে রাখতে পারুক, তাই না? তাই আজ‌ একটা দ্বিপাক্ষিক‌ আলোচনা হোক। আমি তোমাদের তুমি করেই বলছি। তোমরা মন খুলে প্রশ্ন করো, আমি উত্তর দিই। চলো চায়ের কাপে চিয়ার্স করে মুক্ত মনে আলোচনায় বসি।” 

প্রঃ আমাদের ঘিলুর ভেতরে স্মৃতিশক্তি আর বুদ্ধি যেখানে তৈরি হয়, সেই জায়গাটা যদি একটু বড়ো করে দেওয়া যেত তা হলে আমাদের দুশ্চিন্তা একটু কমত। চিকিৎসাবিজ্ঞান কি আদৌ জানে ঘিলুর কোন জায়গাটায় বুদ্ধি, স্মৃতি আর জটিল সমস্যা সমাধানের ব্যাপারস্যাপার থাকে?

উঃ আজ্ঞে হ্যাঁ, জানা গিয়েছে।

প্রঃ সেটা কোথায় মশাই?

উঃ হিপ্পোক্যাম্পাস বলে মাথার মধ্যে একটা‌ অংশ‌ আছে যেটা আমাদের বুদ্ধি আর স্মরণশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

হিপ্পোক্যাম্পাস।

প্রঃ জানাই যদি গেছে তা হলে ওটাকে একটু ইয়ে মানে শক্তপোক্ত আর একটু ইয়ে মানে বাড়িয়ে কী ভাবে দেওয়া যায়… যদি কিছু ওষুধ বা কোনো হেল্থ ড্রিঙ্ক?

উঃ হুঁ পথ আছে বই-কি, পথ অবশ্যই আছে।

প্রঃ কী করতে হবে? কোন কোম্পানির‌ কত দামী ওষুধ লাগবে বলুন, কোন কোম্পানির প্রোটিন খাওয়াতে হবে জাস্ট নামটা বলুন।

উঃ এ তো  কিনতে পাওয়া যায় না গো। সন্তানসম্ভবা মা যদি গর্ভবতী অবস্থায়‌ও প্রতি দিন কিছু কিছু শরীরচর্চা করেন তা হলে তাঁর সন্তানের মস্তিষ্কের গঠন‌ উন্নত হয়। এ ছাড়াও কোনো বাচ্চা যদি স্কুলে যাওয়ার‌ আগের বয়স থেকেই প্রতি দিন‌ অন্তত এক ঘণ্টা শারীরিক পরিশ্রম অর্থাৎ দৌড়োদৌড়ি ইত্যাদি করে তা হলে দেখা গেছে তাদের মাথার হিপ্পোক্যাম্পাস অন্য বাচ্চাদের থেকে বড়ো হয়। এই হিপ্পোক্যাম্পাস আমাদের লার্নিং এবিলিটি বা শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। মনোসংযোগ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জটিল জিনিসের সমাধান করতে শেখায়। নতুন কিছু আবিষ্কারের ব্যাপারটা এখানেই থাকে। এ ক্ষেত্রে জেনেটিক ব্যাপারটা আমরা সরিয়ে রাখছি –  সোজা কথায় এটাই বুদ্ধি বাড়ায়। এটা আমার কথা নয়কো, বিদেশিদের কথা। আমেরিকার ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাজাত তথ্য। অর্থাৎ অনেকক্ষণ পড়ার থেকেও প্রতি দিন‌ একটু খেলার‌ উপকারিতা অনেক বেশি। ওই যে ছোটোবেলায় পড়েছিলে না অল‌ ওয়ার্ক‌ অ্যান্ড নো প্লে মেকস জ্যাক‌ আ ডাল বয়… ও ওটা পড়োনি? সিলেবাসে ছিল না? সরি। শুধুমাত্র মনের বা বুদ্ধির বিকাশ নয় মশাই, তার শরীরটাও কিন্তু শক্তপোক্ত হয়ে গড়ে উঠবে। সন্তান দীর্ঘজীবী হবে। এ ছাড়াও যে কোনো শারীরিক পরিশ্রমের পর‌ একটা রাসায়নিক পদার্থ মাথার মধ্যে থেকে বেরোয় – brain derived neurotrophic factor – যেটা মস্তিষ্কের গঠন‌ আর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তার মানে বহুল বিজ্ঞাপিত‌ ওই সব পানীয় কোনো কাজের নয়। হ্যাঁ গো, দায়িত্ব নিয়েই বলছি। এগুলোয় যে সব জিনিস থাকে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তার কোনোটাই সঠিক প্রয়োজনীয় মাত্রায় থাকে না। আর শুধুমাত্র ও সবে কিস্যু হয় না। ওগুলো অবৈজ্ঞানিক ফরমুলা। এমনকি কোনো হেলথ ড্রিঙ্ক খেয়ে কেউ লম্বা হয় না – হতে পারে না। টিভিতে সারা দিন বললেও হয় না। ওটা জিন‌ আর হরমোনদের খেলা। এ ছাড়াও খেলাধুলা করলে মস্তিষ্কের কর্টেক্স‌, টেম্পোরাল লোব‌ আর ক্যালকেরিয়ান অঞ্চল সুষ্ঠু ভাবে বেড়ে ওঠে। টেম্পোরাল লোবের সঙ্গে হিপ্পোক্যাম্পাস ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত। এগুলো আমাদের কাজের দক্ষতা আর বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে পরোক্ষ ভাবে জড়িত।  আর‌ একটা কথা। খেলাধুলায় বাচ্চা যদি আনন্দ পায় তা হলে সেরেটোনিন বলে একটা হতাশা কমানোর রাসায়নিক যৌগ আছে সেটা ঘিলু থেকে বেশি পরিমাণে বেরোয় – সন্তান ভালো থাকে – আনন্দে থাকে। ফলে পড়ার উৎসাহ অনেক বেড়ে যায়।

প্রঃ  সে কি মশায়‌? অ্যাতো খেললে পড়বে কখন? খেলাধুলা করেই তো ক্লান্ত হয়ে যাবে?

উঃ হুম! তাই? আচ্ছা বেশ বলো দেখি তোমরা তোমাদের সন্তানের থেকে কী কী জিনিস মানে গুণাবলি আশা করবে?

প্রঃ মানে? পড়াশোনা করবে, ভালো নম্বর পাবে, একটা ভালো চাকরি পাবে, অনেক টাকা মাইনে পাবে – এই সব‌ আর কী। পাড়ার সবাই মানে…বোঝেন‌ই তো…। 

উঃ আর বাধ্য থাকা অর্থাৎ ওবিডিয়েন্স, বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখা ভেঙে না পড়া বা রেজিলিয়েন্স – রেজিলিয়েন্স মানেটা কী যেন?

 প্রঃ রেজিলিয়েন্স? রিলিজিয়ন মানে ধর্ম রিলেটেড কিছু?

উঃ  না না। মানে লড়াই করার ক্ষমতা, সহনশীলতা, হেরেও এগিয়ে চলার জেদ, বিপদে লড়াই করার ক্ষমতা – এই সব‌ আর কী। কিংবা সত্যি কথা বলা, ভুল স্বীকার করা, ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠা – এ সব।

প্রঃ  আরে থামুন মশায়, আপনি তো রেলগাড়ি চালিয়ে দিলেন! প্রথম কথা আমার সন্তান মিথ্যে বলবে না আর যথেষ্ট বাধ্য হবে, বিনা প্রশ্নে যা বলব তা-ই মেনে নেবে – আর ওকে বিপদে পড়তেই দেব না, বুক দিয়ে আগলে রাখব।

উঃ কিন্তু পাঁচুবাবু যদি তোমার নিজের‌ই সাংঘাতিক খারাপ কিছু হয় তখন তো বাচ্চাকে নিজেকে নিজেই সামলাতে শিখতে হবে! এটাই ম্যাচুইরিটি বা রেজিলিয়েন্স। তা হলে এসো আমরা প্রথমে সন্তানের কী কী গুণাবলি থাকা উচিত সেটা নিয়ে আলোচনা করি। এই সবই মা-বাবাকে তৈরি করে দিতে হয়। প্রথম কাজ হবে বাচ্চার ভয় দূর করা।

চাঁদু বলে, “ভয়? কীসের আবার  ভয়?”

ডাক্তার টেবিলে একটু  টরেটক্কা বাজিয়ে বলেন, “একটা বাচ্চা যখন জন্মায় তখন‌ একটা নতুন‌ অচেনা জগতে এসে ঢুকে পড়ে। ওর‌ অ্যামিগ্‌ডালা বলে ঘিলুর‌ একটা অংশ‌ ওকে বাঁচার তাগিদে ভয় পেতে শেখায়। মেঘে ভয় – বৃষ্টিতে ভয় – অন্ধকারে ভয় – অচেনা জায়গায় ভয়। বাবা-মায়ের কাজ‌ ওকে এই সব ভয় থেকে মুক্ত করে বাচ্চাকে স্বাবলম্বী, সাহসী করে তোলা। দু’ নম্বর হল, অনুসন্ধিৎসা বা কিউরিওসিটি। একটা নবাগত মানুষ বহু কিছু জানতে চাইবে। আকাশ কেন নীল? পাতা কেন সবুজ? আকাশের তারা কত দূরে? জল না খেলে কী হবে? রক্ত লাল কেন? ফ্যানটা ঘুরছে কেন? আলো জ্বলছে কেন? এই সব আর কী! এ সব প্রশ্নের‌ উত্তর দিতে হবে। ওর প্রশ্নের‌ উত্তর না জানা থাকলে স্বীকার করতে হবে যে আমি জানি না। তার পর সন্তানের সঙ্গে বসে ব‌ই বা নেট খুলে উত্তরটা জানতে হবে।”

পাঁচু শুধু বলতে পারে, “খাইসে। ভেবেছিলাম‌ ইয়ে মানে বিয়ের পর‌ আমাদের ভালোবাসায় সন্তান তৈরি হবে, তার পর ভালো ইস্কুল‌ আর টিউশন‌…এ তো দেখছি বেশ ঝামেলার ব্যাপার।”

চাঁদু কিন্তু বেজায়  খুশি। ও বলে, “আমার কিন্তু বেশ মজার লাগছে।”

ডাক্তার হাসেন – “হ্যাঁগো পাঁচুবাবু, সন্তানকে কোয়ালিটি সময় দিতে হবে। ওকে শপিং মলে নিয়ে শুধু জিনিস কিনে দেওয়ার ব্যাপার থাকলে সেটা পাশের বাড়ির কাকু-কাকিমাও পারবে – আসল হচ্ছে তিন জনের সঙ্গটা তিন জনের‌ই ভালো লাগতে হবে। এর পর‌ আসছে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, নিয়মানুবর্তী হ‌ওয়া আর দায়িত্বশীল করে তোলা। এই তিনটে একে অপরের পরিপূরক। ধরো …”

চাঁদু বলল, “কী ধরব?” ডাক্তার ভুরু কুঁচকে বলেন, “ফক্কড় কোথাকার।”  

পাঁচু একটু দমে গেছে। বিশেষ কথা বলছে না।

“ধরো ওর পড়া শেষ করার সময়টা বেঁধে দিলে…ধরো রাত ন’টার বেশি পড়তে পারবে না এবং ওর হোম‌ওয়ার্ক করা, ব্যাগ গোছানো ইত্যাদি ওর‌ই দায়িত্ব। এতে ওর‌ আত্মবিশ্বাস আর সময়ানুবর্তিতা – দুইই বাড়বে। যে হেতু ন’টার পরে পড়া বারণ তাই ঠিক সময়ে পড়তে বসবে। যে হেতু ওকে ভুল করতে করতেই শিখতে হবে, তাই নিজে নিজে ঠিক জিনিসটা শেখার আগ্রহ বাড়বে। মাধ্যমিক তো দেবে সেই ষোলো বছর বয়সে, তার‌ আগে ভুল করবে আবার  শুধরে নেবে – তবে ঠিকঠাক শেখা হবে – এটার জন্যই তো অ্যাতোগুলো বছর ধরে পড়ানো হয়। এ ছাড়া তোমাদের বলতে হবে ঝুঁকি নাও – ভুল করলে – পা পিছলে পড়লে আমরা আছি; আমরা তোমার হাত ধরে তুলব। এতে ওর নিজের ওপর ক্রমশ ভরসা বাড়বে। এটা ওর ক্রিয়েটিভিটিও তৈরি করবে। নতুন ভাবে ভাবার, নতুন পথে চলার সাহস জোগাবে। একটা অঙ্ক কত ভাবেই তো করা যায়, তাই না? সন্তান যদি নতুন কোনো পদ্ধতি বার করে, সেটাকে উৎসাহ দাও। তবে তো ওর লুকোনো প্রতিভা বিচ্ছুরিত হবে। ও যদি অবসরে ছবি আঁকে – আঁকুক, গান গাইলে – গাক, ওর‌ আসল ভালোলাগাটা কিন্তু মা-বাবা ছাড়া আর কেউই খুঁজে পাবে না। তাই ওর‌ আসলে কী নিয়ে বড়ো হ‌ওয়া উচিত, সেটা মা-বাবাকেই খুঁজে বার করতে হবে। ওর সঙ্গে বুদ্ধির খেলা খেলতে হবে – জিগস্‌ পাজল, রুবিক কিউব অথবা দাবা। ওকে কঠিন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে হবে। হারজিত তো থাকবেই। জয়ে বা হারে সমান ভাবে ওর পাশে থাকতে হবে।

পাঁচু একেবারে স্তব্ধ। চাঁদু বলে, “এ তো ভারী কঠিন কাজ ডাক্তারবাবু?”

ডাক্তার চশমাটা খুলে ওর দিকে তাকান –  “ না মা, এটাই ভালোবাসা, এ ভাবেই যুগযুগান্ত চলছে।”  

চাঁদু ঘাড় নাড়ে। ডাক্তার আপনমনে বলে যান – “ওকে বিনয়ী করো। বাধ্য নয়। প্রশ্ন করতে দেবে। আমি বাবা বা আমি মা বলছি – সুতরাং এটাই ধ্রুব সত্য – তোমাকে মানতেই হবে, এটা শিখিও না। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিও কেন এমন বলছ। তোমরাও মানুষ – ভুল ত্রুটি দোষে গুণে মানুষ। ভুল হলে স্বীকার করবে। ওর ভুলে বা ভালো কাজে শাস্তি মানে শারীরিক শাস্তি, তিরস্কার, পুরস্কার তিরস্কার কিচ্ছু নয়। বরং উৎসাহ দিয়ো। সন্তানের গায়ে হাত তুলো না। পানিশমেন্ট মানে শাস্তি আর পুরস্কার মানে টাকাপয়সা, উপহার – এ দু’টোই বারণ। ওকে ভুলটা দেখিয়ে দাও – পরের বারের জন্য উৎসাহ দাও। বলো চিয়ার আপ। আগে বাঢ়ো। তুমি সব‌ই পারবে। পারবেই।

বরং প্রতিবাদ করতে শেখাবে, না হলে ভবিষ্যতে সবাই ওকে ঠকাবে। এর সঙ্গে একটু ভালোবাসতে শিখিও। না হলে যন্ত্র তৈরি হবে। ধরো তিন জনে রাস্তায় কিছু কিনে খাচ্ছো, একটা গরিব মানুষকে তোমাদের খাবার থেকে ভাগ দাও। আর হ্যাঁ, ওর সামনে নিজে কখনোই কোনো আইন ভেঙো না। তা হলে ও-ও আইন মানতে শিখবে। মানুষকে ভালোবাসতে শিখিও। তোমরা নিজেরা যেটা করবে সন্তান‌ও সেটাই শিখবে। আর যখন সদ্য কৈশোর‌ আসবে তখন‌ ওরা অনেক বেশি উদ্ধত হয়ে উঠবে – অনেক নতুন সমস্যার মুখোমুখি হবে। তখন সমব্যথী হয়ে উঠো – ওই বয়সটা বড়ো বিপজ্জনক। ওই সময়ে ওদের বিশ্বাস কোরো। তোমাদের শেখানো পথেই তো ওরা চলবে, তাই তোমাদের বিশ্বাস‌ আর ভরসাটুকু ওদের‌ ওই সময়ে খুব দরকার। নিজেরা ব‌ই পড়ো, খেলাধুলা করো, সুস্থ জীবন কাটাও – সন্তান‌ও সেটাই শিখবে। তোমরাই ওর শিক্ষক হয়ে ওঠো।”

আরও পড়ুন: সাবধান! ৫ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোনে কাটাবেন না, বলছে গবেষণা

পাঁচু আর চাঁদু চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। বুড়ো ডাক্তার দাঁড় করালেন, “আর শোনো সন্তানকে ভালবেসো – একেবারে হৃদয় উজাড় করে।” একটু উদাস হয়ে আপন মনে বলে যান বুড়ো ডাক্তার – “আমার সন্তান আমার হাত ধরে পৃথিবীর পথ চলা শিখবে – আমি তাকে পৃথিবী আকাশ মাটির দুর্জ্ঞেয় রহস্য চিনতে শেখাব। বৃষ্টি আর মেঘের ডাকের ভয় কাটাতে অঝোর বৃষ্টিতে নিয়ে ভিজতে বেরোব – গল্পের ব‌ইয়ের রহস্যময় স্বাদ উপভোগ করতে শেখাব – এটার থেকে আনন্দের আর কিছু আছে নাকি? সব কিছু কি টিউটোরিয়ালে শেখায়? নাকি সেরা ইস্কুলে দিলেই সেরা মানুষ তৈরি হয়? সন্তান আছাড় খেতে খেতেই তো হাঁটতে শিখবে, ভুল করতে করতেই ঠিক রাস্তাটা চিনে নেবে। তোমাদের কাজ হবে ওকে সঠিক দিশা দেখানো। সেটা কেবলমাত্র‌ অকপট ভালোবাসা দিয়েই সম্ভব। ভালোবেসে, বকে, ঝগড়া করে,  ভাব করে আদর্শ মা-বাবা হয়ে ওঠো।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here