refrigerator

ওয়েবডেস্ক : শীতের দিন। সামনে আবার ইংরাজি নববর্ষ। এখনই তো এসি মেশিন, পাখা, রেফ্রিজারেটরের দামে দারুণ ছাড় মেলে। আর ক্রেতাকুল তাতে আকর্ষিত হন। অনেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন এই সুযোগে বাড়ির পুরোনো ফ্রিজটা বদল করবেন। একটু বড়ো মাপের কিনবেন। তাঁদের তো বটেই বাকিদের উদ্দেশেও বলি সাবধান। একটু সচেতন হবেন। ফ্রিজ থাকলেই কিন্তু তাতে সব জিনিস রাখা নিরাপদ নয়। একবার দেখে নেওয়া যাক রোজের খাবারের তালিকায় ঠিক কী কী জিনিস ফ্রিজে রাখলে বিষে পরিণত হয়।

কফি: কফি আর বিনস এই দু’টোই সংরক্ষণ করতে ঠান্ডা, অন্ধকার আর শুকনো জায়গার দরকার। তার মানে এই নয় ফ্রিজ তার জন্য উপযুক্ত জায়গা। রোজের ব্যবহারের কফি ফ্রিজের ঠাণ্ডায় না রাখাই ভালো। তবে হ্যাঁ, যদি অনেক দিন ব্যবহার হবে না এটা নিশ্চিত করা যায় তা হলে এয়ারটাইট ব্যাগে করে মাস খানেকের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

পাউরুটি: কে বলুন তো পাউরুটিকে খুব দ্রুত শক্ত বানাতে পারে? উত্তরটা খুব সহজ। ফ্রিজ। শুধু পাউরুটি বা তা দিয়ে তৈরি যে কোনো খাবার ফ্রিজে রাখলেই তা শক্ত, খরখরে নিরস একটা স্বাদ হীন চামড়ায় পরিণত হয়।

মাখন: কেউ বলেন এটা ফ্রিজে রাখা ভালো, কেউ বলেন না। সাধারণত দু’ রকমের মাখন বাজারে পাওয়া যায়। একটা সল্টেড মাখন আর একটা শুধুই মাখন। যে ধরনের মাখন বাজার থেকে কেনা হয় তা পাস্তুরাইজ মিল্ক দিয়ে তৈরি। ফলে এতে জলের ভাগ কম থাকে। তাতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। দীর্ঘ দিন ফ্রিজে না রাখলেও মাখন তাই ভালোই থাকে।

কলা: বিশেষজ্ঞরা বলেন, কলা ফ্রিজে রাখলে তার খাদ্যগুণ নষ্ট হয়। ফ্রিজের ঠাণ্ডা আর অন্ধকার আবহাওয়া কলা পাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ডিম: একটা বিতর্কিত নাম ডিম। কেউ কেউ বলেন এটা ঘরের উষ্ণতায় রাখাই সব চেয়ে ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিম ফ্রিজে রাখলে তার খাদ্যগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। স্বাদ, গন্ধও হারিয়ে যায়।

মধু: মধু নিজেই ন্যাচারালি প্রিজার্ভড। তার জন্য আলাদা করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই। শুধু এটুকুই করা যায়, তা হল মুখটা ভালো করে বন্ধ রাখা যায়। তবে ফ্রিজের ঠাণ্ডায় এক দমই মধু রাখা উচিত নয়। মধু তাতে জমাট বেঁধে যায়। ফলে ব্যবহার করতে অসুবিধে হয়।

টমেটো: ফ্রিজে টমেটো রাখলে টমেটোর বাইরের অংশটার একটা কোঁচকানো ভাব আসে। এটা বাইরের ব্যাপার। ভেতর থেকেও টমেটোর খাদ্যগুণ, স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এটাও বাইরে থাকাই ভালো।

শশা: খেয়াল করে দেখবেন ফ্রিজ থেকে বের করে আনা শশার খোলাটা কেমন যেন কুঁচকে আছে। এর কারণ ফ্রিজের আবহাওয়া। বরং ঘরের স্বাভাবিক আবহাওয়ায় শুকনো আর ঠাণ্ডা জায়গায় তার থেকে অনেক বেশি দিন শশা ভালো থাকে।

গাজর: একই কথা গাজরের জন্যেও প্রযোজ্য। জলীয় আবহাওয়ার গাজর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। ঘরের তাপমাত্রায় ভালো থাকে।

আপেল: আপেল ঘরে উষ্ণতায় রাখলে তাতে এক রকমের উৎসেচকের কার্যকারিতা বাড়ে। আপেল ভালো থাকে। কিন্তু ফ্রিজে রাখলে তা হয় না। বরং পচনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তার থেকে একটা অন্য রকম গন্ধ বেরোয় যা অন্য ফলগুলোকেও খারাপ করে দেয় সেগুলোকে পাকিয়ে দেয়।

লঙ্কা:  যে কোনো রকমের লঙ্কাই ফ্রিজে রাখা ঠিক না। এতে স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে গন্ধ আর তার স্বাভাবিক রঙও নষ্ট হয়ে যায়। তাই লঙ্কা ফ্রিজের বাইরে থাকাই ভালো।

টমেটো ক্যাচআপ: মুখ খোলা হোক বা বন্ধ টমেটো ক্যাচআপ ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। এর মধ্যে থাকে ব্যাকটেরিয়া নিরোধক অ্যাসিড। তাই খারাপ না হওয়ার জন্য এটা নিজেই যথেষ্ট শক্তিশালী।

জ্যাম : এই তালিকায় রয়েছে জ্যাম। জ্যামের শিশিও বাইরে রাখলে তা খারাপ হয় না। বরং ফ্রিজে রাখার দরকার পড়ে না।

চকোলেট: গলে যায় বলে অনেকেই চকোলেট ফ্রিজে রাখে। কিন্তু তাতে শেষমেষ আকারের পরিবর্তন হয় না ঠিকই। কিন্তু স্বাদের পরিবর্তন হয়ে যায়।  সে তুলনায় গলে যাওয়া চকোলেট খেলে তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই যদি শক্ত চকোলেট খেতেই হয় তাহলে খাবার একটু আগে ফ্রিজে রেখে তার পর তা খেলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না।

এই তালিকায় রয়েছে বেগুন, পেঁপে, আলু, রাঙ্গালু, পেঁয়াজ, রসুন, সয়াসস, হট সস, সবুজ বিনস, পিনাটবাটার, ভিনিগারও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here