অল্পতেই রেগে যাওয়া থেকে মুক্তির উপায় কিছু অনুশীলন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দিনটা শুরুই হচ্ছে তিক্ত অভিজ্ঞতায়। কেউ কিছু বলেই মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন। সামান্য বিষয়ে রেগে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর, গালাগালি, চিৎকার-চেঁচামেচি, এমনকি নিজেকে বা অপরকে আঘাত করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ হলেও এর প্রকাশ যদি অনিয়ন্ত্রিত বা অন্যের জন্য ক্ষতিকারক অথবা অপ্রীতিকর হয়, তখন এটি নিঃসন্দেহে মেনে নেওয়া যায় না। রাগের কারণে সম্পর্কের বিচ্ছেদ হতে পারে, বড়ো ধরনের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। তবে রাগের কারণে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু ব্যক্তি নিজেই। গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত রাগের ফলেই শরীরে বাসা বাঁধছে নান জটিল রোগ, যা থেকেই হতে পারে মৃত্যু।

অতিরিক্ত রাগ শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক চাপ থেকেই ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, বুকে ব্যথার মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবেষণা বলছে, প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে। যার জন্য মানসিক চাপ, স্ট্রেস, চাপা কষ্ট অনেকটাই দায়ী। এ ধরনের আচরণ যদি বেশি দিন চলে তা হলে কিন্তু বড়োসড়ো রোগ হতে পারে। তাই একটু সচেতন হলেই এই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। তার জন্য নিয়মিত অনুশীলন দরকার। তা হলেই রাগ পড়ে যাবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

Shyamsundar

কেন রাগ হয়

মানসিক চাপ

কোনো বিষয় নিয়ে আপনি যদি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকেন, সে ক্ষেত্রেও সেই অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা রেগে যাওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। অবসাদ কী ভাবে কাটানো যায় তার উপায় বার করুন। দুম করে রেগে যাওয়ার আগে একটু ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির কথা ভাবুন। চেষ্টা করুন মাথা ঠান্ডা রাখতে।

পারিবারিক পরিবেশ

ছোটোবেলায় যদি কেউ এমন পরিবেশে বড়ো হয়, যেখানে মা-বাবা বা অভিভাবকেরা অল্পতেই রেগে যান, সেই পরিবারে শিশুরাও একই ধরনের আচরণ শেখে। বিভিন্ন মানসিক সমস্যা, যেমন ব্যক্তিত্বের ত্রুটি, বিষণ্নতা রোগ, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, উদ্বিগ্নতা, শুচিবায়ুগ্রস্ততা, মাদকাসক্তি, বুদ্ধির প্রতিবন্ধীত্ব, কনডাক্ট ডিসঅর্ডার, ডিমেনশিয়া ইত্যাদির অন্যতম উপসর্গ রাগ।

রাগ থেকে মুক্তির উপায়

রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোন

রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। রাতে শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোন দেখবেন না। বরং শোয়ার আগে চোখ বুজে মেডিটেশন করুন।

যোগ করুন, ধ্যান করুন

যোগব্যায়াম করুন। ধ্যান করুন। এটা প্রমাণিত যে, নিয়মিত ধ্যান করলে, মানুষের রাগ কমে। আর ধৈর্য বৃদ্ধি পায়। তা হলে রোজ নিয়ম করে ধ্যান করুন খানিকটা সময়। আপনার রাগ কমবেই।

ডায়েরি লিখুন

দিনের শেষে ডায়েরি লেখা প্র্যাকটিস করুন। দিনের যাবতীয় ঘটনা কাগজে লিখে ফেলুন। দেখবেন এতে রাগও কমবে। পজিটিভিটি অনুভব করবেন।

পরিস্থিতি থেকে সরে আসুন

যখন বুঝতে পারছেন আপনি রেগে যাচ্ছেন, তখন একেবারে প্রাথমিক অবস্থাতেই সেই পরিস্থিতি বা জায়গা থেকে দ্রুত সরে আসুন বা কারও সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাগ হতে থাকলে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে ফেলুন অথবা তার সঙ্গে সেই মুহূর্তে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এ সময় কিছু ‘রিলাক্সেসন এক্সারসাইজ’, যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, গুনগুন করে গান গাওয়া, মজার কিছু ভাবা, মনে মনে নিজেকে শান্ত হতে বলা ইত্যাদি আপনার অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করবে।

গুণগত সময় কাটান

আপনার জীবনের গুণগত মান অন্যের ওপরে না, আপনার ভালো থাকার ওপর নির্ভর করে। সুতরাং নিজেকে ভালোবাসুন, ভালো রাখুন, গান শুনুন, বই পড়ুন, পছন্দের কাজ করুন। বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক মেলামেশা বাড়ান, নিয়ম করে মাঝেমধ্যে বেড়াতে যান। নিজের জন্য প্রতি দিনই কিছুটা গুণগত সময় রাখুন।

আরও পড়তে পারেন

সারা দিন ল্যাপটপ, মোবাইল ঘেঁটে চোখে ব্যথা? কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

কিডনিতে পাথর: প্রচুর জল খান, খাদ্যের দিকে নজর দিন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

খালি পেটে খান মৌরি-ভেজানো জল, এক সপ্তাহেই লক্ষ করুন পরিবর্তন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন