tree1
biswajit-parhak
বিশ্বজিৎ পাঠক

রাস্তাঘাটে-বনেবাদাড়ে সোনালি রঙের সুতোর মতো এই গাছ দেখতে যতটা ভালো লাগে ততটাই ক্ষতিকর অন্য কোনো গাছের কাছে। কারণ এই পরজীবী উদ্ভিদটি যে পুরোপুরি নির্ভর করে অন্যের উপর। শুধু কি পরনির্ভরতা! যে কাছে আশ্রয় নেয়, তাকে শেষ করে দিতেও পারে কয়েক মাসের মধ্যে। নামে স্বর্ণলতা হলেও কাজে কিন্তু অন্যে অর্থে ব্যবহৃত লতা (সাপ)-র মতোই মারাত্মক। কিন্তু মানুষের শরীরে এর কার্যকলাপ বহুদিন থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের কাছে প্রাধান্য পেয়ে আসছে।

এ গাছের পাতা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। রসে-বসে থাকার পরিবেশ থাকলে পাতা গজায়। কিন্তু সেটাও আকারে ক্ষুদ্র। কখনো বেড়ার ধারে বা কখনো বড়ো কোনো বৃক্ষের রুক্ষ্ম কাণ্ড এবং ডাল-পালায় হলুদে হদুল করে তোলে এই স্বর্ণলতা। এর কেতাবি নাম অবশ্য অমরবেল বা আকাশবেল। চিবিয়ে দেখার দরকার পড়ে না সচরাচর। তবে স্বাদে কটূ।

মনে রাখতে হবে, এই লতা যে গাছে আশ্রয় নেয় তার গুণগত উপাদান খাদ্যের সঙ্গে শুষে নেয়। ফলে ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করলে অবশ্যই কোন গাছে আশ্রয় নিয়েছে সেটা লক্ষ্যণীয় বিষয়।

স্বর্ণলতা

মাথায় চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। হরেক রকমের পদ্ধতি অবলম্বন করেও জটিলতা মিটছে না চুল নিয়ে। ব্যবহার করে দেখতে পারেন এই স্বর্ণলতা। দেখবেন চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুসকি, উকুন সমস্যাও গায়েব করতে পারে এই লতা। বহুজাতিক সংস্থার দামি শ্যাম্পু যেখানে দিনের পর দিন আপনার কাছে শুধু টাকা আর সময় চেয়ে যাবে সেখানে অমরবেল কাজ করবে অনেক দ্রুতগতিতে। তবে এর ব্যবহার কিন্তু নিয়মিত করতে হবে। এই লতার রস মাথায় লাগালে চুল ওঠা এবং খুসকি অপেক্ষাকৃত ভাবে কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ দিনের ব্যবহারের ফলে বাকি সমস্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলে টাক মাথায় নতুন চুল গজানোর ঘটনাও ঘটেছে।

এ তো গেল মাথা। মলদ্বারে এর কাজ কী?

বর্তমানের জীবনযাপন পদ্ধতির প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই ডেকে নিয়ে আসছে পাইলস এবং ফিসচুলার মতো দুরারোগ্য রোগের। এই সমস্যায় কিন্তু পরীক্ষামূলক ভাবে কার্যসিদ্ধি করে দেখিয়েছে স্বর্ণলতা। পদ্ধতিটা হল- ১০ এমএল স্বর্ণলতার হালকা গাঢ় রস এবং তার সঙ্গে ৩ গ্রাম গোলমরিচের গুঁড়ো প্রতিদিন পান করলে নিত্যনৈমিত্তিকের রক্ত পড়া এবং ব্যথার উপশম মিলবে। একই ভাবে দীর্ঘ দিন ব্যবহার করলে রক্ত ক্ষরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ারও নজির রয়েছে।

তবে হ্যাঁ, এই লতা ব্যবহারের সময় মাথায় রাখবেন সেটি কোন গাছে আশ্রয় নিয়েছে? পাশাপাশি অন্ত:সত্ত্বা মহিলারা এর ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। ওই সময় কিন্তু এর প্রভাব বিপজ্জনক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here