স্বাস্থ্য সাবধান : হার্ট অ্যাটাক, কী করে বুঝবেন ? কী করবেন ?

0

দীপঙ্কর ঘোষ[/caption] সব্বার মনে একটা ভীতি আছে। বিশেষত একটু বয়স হলেই – এই বুঝি আমার হার্ট অ্যাটাক হল! সত্যি হৃৎস্পন্দন থেমে গেলে শরীরের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, ফলত সব অঙ্গ‌ই অল্প সময়ের মধ্যে থেমে যাবে। ঘটনাটা না বুঝে বহু মানুষ বিপন্ন হন। বহু মানুষ গ্যাস ভেবে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। এইখানে বলে রাখি, এতটা বয়স হয়ে গেল আজ অবধি গ্যাস ব্যাপারটা আমার ক্ষুদ্র মগজে ঢুকল না। এটা অবৈজ্ঞানিক চিন্তা। যাঁরা এত জানেন এত বোঝেন তাঁরা কী ভাবে পিঠে ব্যথা থেকে মাথায় ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক থেকে হাঁপানি, সব কিছুতেই গ্যাসের (আমি কিন্তু সত্যি সত্যি জানি না) ওষুধ বলে অম্বলের ওষুধ ঢকঢকিয়ে বা টপাটপ করে খেয়ে নেন আজও বুঝলাম না। অথচ সবাই ভালো মন্দ কোলেস্টেরল কিংবা বিটিং হার্ট, বাইপাস, সব‌ই জানেন! প্রসঙ্গ সিরিয়াস – তাই সুকুমারীয় উদ্ধৃতি দিলাম না। এটা একটা ছোট্টো বিষয় নয়। সুতরাং আমাদের হয়তো ধৈর্য ধরে এই লেখাটা কিছু দিন পড়তে হবে। প্রথমেই আমাদের জানতে হবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী কী হতে পারে। ডাক্তারি কোনো সময়েই অঙ্কের সমীকরণ নয়। এইটা হলে ওইটা হবে, এমনটা ঘটে না। তাই প্রথম কথাটাই হবে নিয়মিত নিজের হৃদয়ের খোঁজ খবর রাখুন। ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। আমার এই লেখা কেবলমাত্র হঠাৎ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে। (১) হঠাৎ বুকে ব্যথা এবং প্রচুর ঘাম হ‌ওয়া : এই মানুষদের সাধারণত আগের একটা গল্প থাকে যে হাঁটলে বা সিঁড়ি ভাঙলে বুকের ওপর চাপ লাগে। এই বুকে ব্যথাটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঙ্গে বমি নিয়ে আসে। দয়া করে গ্যাস ভাববেন না। হার্ট অ্যাটাক মানে হার্টের ধমনিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া। ফলত হৃদয়ের কিছু মাংসপেশির অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে পচন ধরে। সেই পচনের ফলেই শরীরে বমি সৃষ্টি হয়। এই ব্যথাটা কিন্তু বাঁ কাঁধে বা বাঁ হাতেও হতে পারে। কারও কারও চোয়ালে ব্যথা হয় বা পিঠে ব্যথা হয়। সুতরাং দুই দুই চার করবেন না। চিকিৎসা যতটা বিজ্ঞান ততটাই শিল্প –  মনে রাখবেন এই অবস্থায় কিন্তু ঘাম ‘প্রায়’ সবাইকার‌ই হয়। ঘাম মানে প্রচুর পরিমাণে ঘাম। জামাকাপড় ভিজে যেতে পারে। প্রাথমিক কয়েকটি ঘণ্টায় ইসিজিতে কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে। সুতরাং সাধু সাবধান!! এর পরেই হতে পারে শ্বাসকষ্ট। এটা হার্ট ফেলিওরের লক্ষণ। এর পরে আর একটা মুহূর্ত‌ও ঘরে রোগীকে রাখবেন না। বিশেষত কারও যদি হাঁপানি না থাকে, তার যদি বুকে চাপ ভাব এবং শ্বাসকষ্ট হয় তা হলে অবশ্যই অবিলম্বে চিকিৎসা করান। দুই আর দুই ডাক্তারিতে সব সময় চার হয় না, এবং এই লেখাটি অতিরিক্ত সহজে ভাষায় লেখা। ডাক্তার তৈরি করার জন্য নয় কেবলমাত্র বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লেখা । (২) এ বার দু’ নম্বর আলোচ্য বিষয়। ব্যথাহীন হার্ট অ্যাটাক। এটা সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন সুগারে ভুগতে ভুগতে ডিপ অর্গান ব্যথা বয়ে নিয়ে যাওয়ার নার্ভগুলি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তার ফলে, এমনকি হার্ট অ্যাটাক হলেও তেমন ব্যথা হয় না। ঘাম আর বমি, এ দু’টি প্রায় ধ্রুব হিসেবে বিরাজ করে। যে হেতু ব্যথা হয়নি, তাই এই রোগ অলক্ষ্যে পেরিয়ে যায়। অবশ্যই দুর্বলতা এবং লো প্রেসার থাকবে এবং দু’ এক দিনের মধ্যে পা ফুলতে আরম্ভ করবে। তবে একটা কথা ছিল, যদি রোগী ততক্ষণ বেঁচে থাকে। (৩) আরেক রকমের লক্ষণও আছে। যদি এমন কোনো ধমনি বন্ধ হয়ে যায় যে হার্টের নিজস্ব পেসমেকার যন্ত্রটা অক্সিজেন না পেয়ে খারাপ হয়ে যায়, তা হলে হার্টের ইলেকট্রিক সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন গোদের ওপর বিষফোঁড়া, একটা পেসমেকার কিনে বসাতেও হবে। হয়তো আমার লেখার গুণে সহজ ব্যাপারটা জট পাকিয়ে গেল। যাই হোক আমরা গ্যাস দেব না। এই রকম পরিস্থিতি হলে অ্যাস্পিরিন অ্যাটোর্ভাস্ট্যাটিন দু’টো অন্তত খাইয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাব। জীবন বড় দামি – ইউজ অ্যান্ড থ্রো, সুতরাং সামলে থাকুন। বিপদে সময় নষ্ট করবেন না। চিকিৎসা করান ঠিক সময়ে। অসুখের শুরু আর চিকিৎসার শুরু যেন এক‌ই সঙ্গে হয়। সুস্থ থাকুন। (লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)    ]]>

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here