শীতে শরীর গরম রাখতে খান এই ৬টি খাবার

0

ওয়েবডেস্ক : কলকাতা কাঁপছে কনকনে শীতে। এই অবস্থায় অনেকেই ভাবছেন এবার ঠাণ্ডাটা গেলে বাঁচি। আবার অনেকেই এই ঠাণ্ডাকে জমিয়ে উপভোগ করছেন। তবে সে যাই হোক। শীতকালে কিন্তু আবাল বৃদ্ধবনিতা সঠিক খাদ্যগ্রহণ করে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ ও গরম রাখা দরকার। তার জন্য দরকার উপযুক্ত ও পরিমাণ মতো ঠিকঠাক খাবার-দাবার খাওয়া।

কোনো যন্ত্র বা যান চালাতে গেলে যেমন দরকার পড়ে জ্বালানির। তেমনই শরীর নামক এই যন্ত্রটিকে চালাতে গেলেও দরকার জ্বালানির। বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের শরীরের সচলতা অর্থাৎ শক্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে শরীরের জ্বালানির ওপর। অর্থাৎ যদি ঠিক মতো জ্বালানি সরবরাহ না হয় তা হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল…

১। প্রচুর পরিমাণে জল – শীতকালে সাধারণ ভাবে বেশির ভাগ মানুষেরই জল তেষ্টা কম পায়। ফলে জল খাওয়া কম হয়। আবার অনেকেই ঠাণ্ডা জল খেতে কষ্ট হয় বলে জল কান না। এর ফলে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়। শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। তাই খাওয়া যেতে পারে হালকা গরম জল। তা ছাড়া যেটি করা উচিত এই সময়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস গরম জল খাওয়া উচিত। এতে পেট পরিষ্কার থাকে, শরীর ভালো থাকে। এতে হজম শক্তির উন্নতি ঘটবে। শুধু তাই নয়, যদি এই গরম জলে লেবু চিপে খাওয়া যায়,তা হলে  তেমনি শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠে। ফলে ঠাণ্ডা লেগে রোগ হওয়ার ভয় অনেক কমে যায়। তা ছাড়া জল কম খেলে তো বটেই তার ওপর শীতকাল হওয়ার কারণে চামড়ায় সমস্যা দেখা যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে জল ভিটামিন সি-এর সরবরাহ শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ থাকলে এই সমস্ত সমস্যায় পড়তে হয় না।  

২। রোগ প্রতিরোধক শক্তি সরবরাহকারী খাবার – এই সময় ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া এবং শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এই সময় খুব বেশি পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের লেবু, কমলা লেবু, টমেটো, প্রচুর মাছ, দই, ঘি, শস্য জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। এই সব খাবারে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড। এই সমস্ত উপাদানের মাত্রা শরীরে বাড়ানো গেলেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরালো হয়। ফলে কোনো রকম রোগেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

৩। সবুজ খবার – শীতকালে প্রচুর মরশুমি ফসল আনাজ ওঠে। ফলে সবজি বাজারে রকমারি রং। সেই নানান রং-এর খাবার খেলে শরীর ভালো প্রতিদিনের খাব্রের তালিকায় অবশ্যই এই সব খাবার রাখতে হবে। খেতে হবে গাজর, পালং শাক, বিনস, টমেটো-সহ আরও নানা সব সবজিকে। এই সব খাবারে থাকে ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন। আর এই দু’টি উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখে ও বাইরে থেকেও সুন্দর রাখে।

৪। কাজু বাদাম ও কিসমিস – সারা বছরেঅন্য সময় তো অবশ্যই, বিশেষ করে শীতের দিনে বেশি করে কাজু বাদাম এবং কিশমিশ খাওয়া উচিত। ব্রেকফাস্ট অর্থাৎ প্রাতরাশে যেন প্রতিদিনই এই খাবারগুলি অবশ্যই থাকে। কোনো দিনই যেন ছাড় না যায়। কারণ এই খাবারগুলি সারা দিন শরীরকে গরম রাখে। শুধু তাই নয়, কাজু বাদাম এবং কিশমিশ আরও নানান উপকার করে। তাই শীতকালে অবশ্যই কাজু বাদাম আর কিশমিশ খেতে হবে।

৫। তুলসী মধু – আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে জানা যায়, শীতকালে শরীরকে সুস্থ এবং কর্মক্ষম রাখতে তুলসী এবং আদার কোনো বিকল্প হয় না। এই দুইটির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এই উপাদানগুলি শীতের কষ্ট থেকে শরীরকে বাঁচায়।

৬। আঁশ জাতীয় খাবার বেশি খেতে হয় –  বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, শীতকালে আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত বেশি করে। আঁশ জাতীয় খাবার বেশি করে খেলে হজম শক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে শরীরের ভেতরের তাপমাত্র বাড়ে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাইরের ঠাণ্ডা থেকে শরীরকে রক্ষা করা সহজ হয়।  ঠাণ্ডা শরীরকে কাবু করতে পারে না।

প্রসঙ্গত, এই সময় প্রতিদিন অন্তত এক চামচ করে ঘি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এর কারণ হিসাবে বলা হয়ে থাকে, এটি নিয়মিত খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজন বাড়ার আশঙ্কাও অনেক কমে। পাশাপাশি শরীরও গরম থাকে।

মনে রাখতে হবে, এই সময় যতটা সম্ভব ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এই সময় হজম হতে সময় লাগে বেশি। ফলে পেট গরম হয়, ফলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হারিয়ে যায়।

পড়ুন – পেটের মেদ কমাতে ৫টি খুব সহজ ব্যায়াম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.