করোনাভাইরাস আতঙ্কে অযথা দোলের আনন্দ মাটি করবেন কেন?

প্রতীকী ছবি
Biswajit-Pathak
বিশ্বজিত পাঠক

করোনাভাইরাস আতঙ্কে অনেকেই সাধের রঙের উৎসব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার কথা ভাবছেন। তবে দোলের রং-আবিরে এতটা বিচলিত হওয়ার তেমন কোনো জোরালো কারণ নেই বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট কয়েকটা সাবধানতা অবলম্বন করেও নির্বিঘ্নে রাঙিয়ে দেওয়া এবং নেওয়ার আনন্দে শামিল হওয়াই যায়।

প্রথমেই মাথায় রাখা দরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে কী ভাবে?

হাঁচি, কাশি, থতু-কফের মাধ্যমে এটা যে ভাবে ছড়ায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে তেমনটা নয়। ফলে একটু সাবধানতা মেনে চললে এর থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখা যেতে পারে। নাক, মুখ, চোখ অথবা কোনো ক্ষতস্থান দিয়ে যখন এর সংক্রমণের সম্ভাবনা সব থেকে বেশি, তখন মাস্ক বা মুখোশ এবং চশমা ব্যবহার করা উচিত। যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য প্রয়োজন বাহক এবং ওই ভাইরাস ও তার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়ার।

করোনাভাইরাস (coronavirus) আশেপাশে ঘুরছে কি না, তা নির্ণয় করা অসম্ভব। কিন্তু তার থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব থেকে আগে প্রয়োজন সতর্কতা। যেমন নিয়মিত হাত-মুখ ধোয়া, জনবহুল স্থানে মুখোশ ব্যবহার করা ইত্যাদি। তাই বলে রং বা আবির এড়িয়ে চলার কোনো মানে রয়েছে কি না, তা জটিল পরীক্ষার বিষয়।

অনেকেই জানেন, আমরা রান্নার কাজে যে হলুদ ব্যবহার করি, ব্যাকটেরিয়া নাশ করতে এটা যথোপযোগী। অন্য দিকে এ ব্যাপারে সুনাম রয়েছে নিমপাতারও। ফলে আবির অথবা রঙের সঙ্গে এই দুই উপকরণ মিশিয়ে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন বিভিন্ন জীবাণু ধ্বংস হবে, হাতে লেগে থাকা ভাইরাস হোক বা ব্যাকটেরিয়াকেও সহজে ঝেড়ে ফেলা যাবে। বাড়তি পাওনা হিসাবে ত্বকও উপকৃতও হবে। উজ্জ্বলতা বাড়বে।

একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও মজবুত রাখা প্রয়োজন। কোনো জীবাণুর মাধ্যমে যাতে সহজে আক্রান্ত হতে হয়, তার জন্য একটা বিশেষ রেসিপি বানিয়ে ফেলুন বাড়িতেই।

একটা শিউলি পাতা, দু’-তিনটে ডাঁটা সমেত ব্রাহ্মীশাক, তিন-চারটে থানকুনি পাতা, পাঁচ-ছ’টা তুলসী পাতা এবং এক-দু’টি কালো মরিচ দেড় কাপ জলে ভালো করে ফুটিয়ে আধ কাপে নামিয়ে নিয়ে আসুন। তাতে অল্প মধু মিশিয়ে শিশুদের এক-দু’চামচ এবং বড়োরা দু’-তিন চামচ দিতে হবে খাবার খাওয়ার ঘণ্টা দেড়েক পরে এবং ঘণ্টা দেড়েক আগে।

এতে অবাঞ্ছিত জীবাণুর হাত থেকে বাঁচার জন্য শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে ঠান্ডা লাগা থেকেও বাঁচা যাবে।

(লেখক ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ/মতামত নিজস্ব)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.