ডা: অঞ্জন ভট্টাচার্য(শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ)

দশমাস দশদিন তপস্যার পর একটি শিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর বেশ কয়েকদিন শিশুর শরীর সম্পর্কে ভীষণভাবে সচেতন থাকতে হয়। তবে সবার আদরে এবং পরামর্শে শিশুর যত্ন অনেক সময় অত্যাচারে পরিণত  হয়। তাই কতগুলি সতর্কতা বাণীই এই লেখার উদ্দেশ্য।

সবার আগে যেটা মনে রাখতে হবে শিশুর জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই শালদুধ খাওয়াতে হবে। শালদুধই শিশুর প্রথম টিকা। শিশুর জন্মের প্রথম দু-তিন দিন মায়ের বুকে শালদুধ আসে। দৈনিক ১৫ থেকে ৩০ মিলি লিটার পর্যন্ত ঘন আঠাল হলুদাভ শালদুধ তৈরি হয়।  এতে সাধারণ দুধের চেয়ে অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধক উপাদান আছে। যেমন ইম্যুনোগ্লোবোলিন, এনজাইম,  শ্বেতকণিকা ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে সাধারণ দুধের প্রায় ১০ গুণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, সোডিয়াম এবং জিংক। শালদুধ ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। ফলে এটি খেলে শিশুর কালো পায়খানা বা মিকোনিয়াম সহজে বের হয়ে যায়। মিকোনিয়াম বেশি সময় খাদ্যনালিতে থাকলে শিশুর জন্ডিস হতে পারে।


মাথায় রাখতে হবে শিশুর পরিচর্যা হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞাপনভিত্তিক নয়


জন্মের সময় মধু বা চিনি খাওয়ালে শিশু কোকিল কণ্ঠ হবে। এমনটা যারা ভাবেন তাদের বলি ভীষণ ভাবে ভুল ভাবেন। এতে জীবাণুর সংক্রমণে ভুগতে পারে আপনার শিশু। বাড়িতে শিশুর জন্ম হলে, এবং জন্মের পর শ্বাস না নিলে অনেকে পা ওপরে ধরে নবজাতককে ঝুলায়। অনেক সময় বাচ্চাকে থাপ্পড় দেয়, বুকের খাঁচায় চাপ দেয়, এগুলো একদম ঠিক নয়। বাচ্চার ঘাড় শক্ত হতে তিন মাস সময় লাগে। তাই বাচ্চাকে যেন কখনো মাথা ধরে না তোলা হয়।  শিশুকে হাসানোর জন্য বা অনাবশ্যক কোনও কারণে তার মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে দেন পরিবারের কোনো কোনো সদস্য।neonatal-1

কেউ কেউ নবজাতকের নাক পরিষ্কার করতে নিজের অপরিচ্ছন্ন আঙুলের ডগা শিশুর নাসারন্ধ্রে ঢুকিয়ে চেষ্টা চালাতে থাকেন। এটাও ঠিক নয়। অনেকে নবজাতকের ঘরে আগুন ধরান কিংবা ধূপ জ্বালান।  এই আগুন কিন্তু শিশুর শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্যান্য অসুখের কারণ হাত পারে।  যখন তখন আদর কিন্তু ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। ভারতে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ ইনফেকশন। তাই শিশুকে বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ না ধুয়ে কোলে নেওয়া বা চুমু দেওয়া থেকে দূরে থাকুন। 

বাচ্চার যেন নজর না লাগে সেজন্য অনেকেই বাচ্চাকে টিপ বা কাজল দেন।এতে বাচ্চার এলার্জি, শ্বাসকষ্ট কিংবা কাশি বেড়ে যেতে পারে। হতে পারে চোখ ও ত্বকের ক্ষতি। তাই এসব পরিহার করা উচিত। সব থেকে বড় কথা বাচ্চার খাওয়া পড়া সবকিছুর ক্ষেত্রেই আমরা বিজ্ঞাপনমুখী হয়ে পড়ি। মাথায় রাখতে হবে শিশুর পরিচর্যা হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞাপনভিত্তিক নয়।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here