অরিত্র খাঁ, পুষ্টিবিদ

ভারতে বুলেট ট্রেনের ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন হল। আরও দ্রুতলয়ে এগোবে জীবন। গোটা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে একমনে কাজ। দুপুরে সামান্য চিকেন রোল। বিকেলের দিকে একটা পিৎজা চারজনে। সঙ্গে শীতল পানীয়। রাতে হৈ হুল্লোর। বিয়ারের সঙ্গে ঝলসানো মাংস। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের ফল ইউরিক অ্যাসিড। এরপর সামনে পুজো। নিয়ম কানুন সব শিকেয় তুলে শুধু আনন্দময় জীবন। লেট নাইট পার্টি, মার্কেটিং, যা ইচ্ছে, যখন ইচ্ছে গপ গপ করে গেলা। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও একটা কথা না মাথায় ঢোকালেই নয়। উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির কারণে হতে পারে গেঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা।

মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ স্বাভাবিক ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায়, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ যখন শরীর তৈরি করে, তখনই সমস্যা দেখা দেয়।

তবে একটু সচেতন হয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ইউরিক অ্যাসিড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ইউরিক অ্যাসিডে কোন কোন খাবার ছোঁয়াও পাপ

  • বেশি চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া যাবে না। চলতি ভাষায় রেড মিট নৈব নৈব চ।
  • চিংড়ি মাছ, শামুক, সামুদ্রিক মাছ, এড়িয়ে চলতে হবে।
  • সব রকমের ডাল, বাদাম,  মটরশুঁটি,  শিমের বিচি,  কাঁঠালের বিচি জীবন থেকে সরিয়ে ফেলুন।
  • কিছু কিছু শাকসবজি খাওয়া যাবে না। যেমন: পালংশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, টমেটোর বীজ বাদ দিয়ে খেতে পারেন।
  • অ্যালকোহল, ক্যাফেইন-জাতীয় পানীয়, যেমন চা, কফি, কোমল পানীয় খাওয়া যাবে না।
  • মিষ্টি ফলে ফ্রুকটোস থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্ফটিককে বড় করে দেয়। তাই মিষ্টি ফল পরিহার করাই ভালো।

যেসব খাবারে বাধা নেই

  • চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। যেমন ছোট মুরগির মাংস, মিষ্টি জলের মাছ, পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে।
  • বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। এই আঁশ স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে মল আকারে বের হয়ে যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: লেবু-চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (পেয়ারা, আমলকি, কমলা,), খাওয়া যেতে পারে।
  • এই সময় চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ জল খেতে হবে। প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন লিটার ।

কারা আক্রান্ত হয় বেশি?

  • যাদের বংশে বাতের সমস্যা আছে।
  • যারা শাকসবজি কম খান।
  • যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে।
  • কিছু কিছু ওষুধ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের সমস্যা থাকলে তাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
  • যাদের ওজন বেশি, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
  • যারা জল কম খান, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন