ওয়েবডেস্ক: দিন দু’য়েক আগেই নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী ভাবে নিজেকে শরীর চর্চায়  নিয়োজিত করেছিলেন। সত্যিই দেখে মুগ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়।

বয়স কিছুই না! শুধু একটা সংখ্যা মাত্র। তা তিনি নিজেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিজের ভিডিও পোস্ট করে দেশবাসীকে জানিয়েছেন, কী ভাবে তিনি নিয়মিত আসনের মধ্যে দিয়ে নিজেকে সুস্থ রেখেছেন। একাধিক আসনের সঙ্গে করছেন শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামও। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্ট্রেচিং করছেন।

আপনারা তো সবই দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে নিজের শরীর চর্চা করছেন। এবার একটু নিজের কথা ভাবুন। সবাই এখন কাজের চাপে খুব ব্যস্ত থাকায় আর মনে হয় না বাড়ি ফিরে বা ভোঁর বেলায় ঘুম থেকে উঠে ব্যায়ামের মধ্যে দিয়ে নিজের শরীরের যত্ন নিতে। কিন্তু তা বললে কী করে হবে।

শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটু নিজের জন্য সময় বের করে ব্যায়াম করেই দেখুন। কে বলতে পারে! আপনারও হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর মতোই বডি ফিটনেস।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া পদ্ধতিতে কি কি ব্যায়াম করবেন-

১। কপালভাতি প্রাণায়াম

এটা একটা খুব ভালো প্রাণায়াম। যেটা করাও খুব একটা শক্ত নয়। প্রথমে মেঝেতে বসুন। পা ক্রস করে। মানে বাবু হয়ে বসা যাকে বলে। তারপরে দুই হাত দুই হাঁটুতে রাখুন। বসে চোখ বন্ধ করুন। এ বার একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিন। তার পর দ্রুত শ্বাস ছাড়ুন।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন, যে শ্বাস নেওয়ার সময় ধীরে ধীরে গভীর ভাবে শ্বাস নেবেন। কিন্তু ছাড়ার সময় দ্রুত শ্বাস ছাড়বেন। দ্রুত শ্বাস ছাড়ার সময়, শ্বাস ছাড়ার একটা শব্দ হবে। এইভাবে ১০ বার শ্বাস  নিয়ে ১০ বার শ্বাস ছাড়ুন।

২। উজ্জায়ী প্রাণায়াম

অনেকটাই আগের মতো এই ব্যায়ামটি। প্রথমে বাবু হয়ে মেঝেতে বসুন। প্রত্যেক প্রাণায়ামের সময়ই আরামদায়ক ভাবেই বসবেন। তাই এমন কোন জায়গা বেছে নেবেন না, যেখানে কোনো রকমের অসুবিধা হয়।

ভালোভাবে বসে হাত দু’টো দুই হাঁটুর ওপর রাখুন। চোখ বন্ধ করুন। এ বার ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস নিন। পুরোপুরি শ্বাস নিয়ে জাস্ট কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস ধরে রাখুন। খুব বেশিক্ষণ কিন্তু নয়। শ্বাস ছাড়ার সময় একদম ধীরে ধীরে আরামে শ্বাস ছাড়বেন। এইভাবে ১০বার শ্বাস নিন ও শ্বাস ছাড়ুন।

আরও পড়ুন: মদ্যপানের ফলে আপনার শরীরেও এই সব জটিল রোগ বাসা বাঁধছে না তো!

৩। সর্বাঙ্গসন

এটা করা একটু কঠিন হলেও এর উপকারিতা কিন্তু অনেক। এর জন্য প্রথমে মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দু’টো কোমরের পাশে থাকবে। শুয়ে এ বার পা দু’টোকে উঁচুতে তুলতে হবে। হাতের ওপর ভর দিয়ে পা দু’টোকে যতটা পারেন উঁচুতে তুলুন। কোমরটাও উঁচুতে উঠবে। কোমরের দু’দিকে একটু পেছনে হাত দু’টো রাখুন। তার পর হাতের ওপর ভর দিয়ে বা হাতের সাহায্যে কোমরকে উঁচুতে তুলুন। খালি বুকের একটু অংশ মাটিতে থাকবে। তবে হাতের কনুই দু’টো থাকবে মাটিতে। কনুই পর্যন্ত হাতটা মাটিতে রাখুন। ৩০ সেকেন্ড। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন ও শ্বাস ছাড়ুন।

৪। হলাসন

প্রথমে মাটিতে শুয়ে পড়ুন সোজা হয়ে। এর পর আসতে আসতে পা তুলুন ওপরে। হাত থাকবে মাটিতে। এইভাবে ধীরে ধীরে হাতের ওপর ভর দিয়ে শরীরকে ওপর দিকে তুলুন। ঠিক আগের ব্যায়ামটার মতো। পা  একেবারে সোজা করে তুলে দিন হাতের সাহায্যে। এআবার পা ধীরে ধীরে মাথার কাছে নিয়ে যান এবং মাথার দিকেই নামান। পায়ের পাতা থাকবে মাথার পিছনে। এই ভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন ও শ্বাস ছাড়ুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here