ডাক্তারের চেম্বার থেকে: গর্ভাবস্থায় মানসিক সমস্যা

0

গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়, মনরোগ বিশেষজ্ঞ

মা হওয়া কি যে সে ব্যাপার? দশ মাস দশ দিন ধরে শরীরের ভিতর আর একটা শরীর বেড়ে ওঠে। তার নড়াচড়া তার ঘুমানো সব কিছু অনুভব করা যায় নিজের মধ্যে। যত দিন এগিয়ে আসে তত পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে চিন্তা। সে দিন গোপা পিসি বলে গেল এ সময়ে খুব সাবধান। তার কোন চেনাশোনার নাকি এসময়ে জল কেটে গিয়ে বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, চিন্তা বাড়ল এক প্রস্থ, কলেজ বিউটি কনটেস্টের উইনার আত্রেয়ী বলে গেল বাচ্চা হওয়ার পর চেহারা এরকম পিপের মতন হয়ে গেছে। বাড়ল চিন্তা। তারপর পরিবারের সকলে কেমন ভাবে নেবে সদ্যজাতকে, মা নিজে সঠিক যত্ন করতে পারবে তো?  চিন্তার কোনো শেষ নেই। প্রথমেই বলে রাখা ভাল, চিন্তাগুলি যতই অমুলক বলে মনে করা হোক না কেন?  চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করে নিন। প্রয়োজনে মনরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন গর্ভাবস্থায় যদি কেউ মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বা অবসাদে ভোগেন, তাহলে তা ঠিক ভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাবী সন্তানের ওপর তা রীতিমত খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বলাই বাহুল্য এসময়ে ভালোমন্দ খাওয়া দাওয়া বা মনমেজাজ ভালো রাখার দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারের সকলকে ।

গর্ভাবস্থায় বিষাদের বৃক্ষোরোপন করলে পরবর্তী কালে জীবন বিষাদময় হয়ে ওঠে।

এই সময়ের আশঙ্কা

  • প্রথমেই যে কথাটা মনে আসে নবজাতকের ফলে পুরনো সম্পর্কগুলি একই রকম থাকবে তো?
  • মা হওয়ার পরে ঘরে বাইরে কাজের জায়গায় ভূমিকা একই রকম ভাবে পালন করা যাবে তো?
  • মায়ের মতো মা হয়ে ওঠা যাবে তো?
  • দশ মাস দশ দিন গর্ভে সন্তান রাখার পর তাকে সুস্থ ভাবে ভুমিষ্ঠ করা যাবে তো?
  • চারিদিকের আপন মানুষগুলি আপন থাকবে তো? নাকি সবার মধ্যে হয়ে পড়বেন একা?

মনে রাখা দরকার

  • স্বাস্থ্যকর সুষম আহার এই সময়ে খুব প্রয়োজন মা ও শিশুর জন্য।
  • দিনের মধ্যে এমন কিছু মুহুর্ত তৈরি করা দরকার যা মাকে ফুরফুরে মেজাজে রাখবে।
  • গৃহস্থালীর কাজকর্ম বা বাজারহাট, সবকাজেই হবু মা এর সঙ্গে হাত মেলাতে হবে অন্যদের।
  • হবু মা একেবারে শুয়ে বসে দিন কাটাবেন না। সামান্য কাজ, শরীরচর্চা এ সময়ে খুব জরুরি। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে।
  • এই সময়ে মাথায় কিলবিল করে যে সমস্ত দুশ্চিন্তাগুলি, তা বাড়ির সকলের সঙ্গে শেয়ার করুন। বিশেষ করে স্বামী, এই সময়ে স্ত্রীর প্রতিটি কথা (অপ্রাসঙ্গিক হলেও) মন দিয়ে শুনবেন।
  • ঠিকঠাক ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ।
  • এ সময়ে নো নেশা, নো অ্যালকোহল, নো ধূমপান।

মোদ্দা কথা শারীরিক, মানসিক দিক দিয়ে শক্তিশালী থাকার চেষ্টা করুন। একজন পৃথিবীতে আসছে। আপনি এখানে স্রষ্টার ভূমিকায়। সব বিষয় পাত্তা দেওয়া আপনার সাজে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here