কিডনিতে পাথর: প্রচুর জল খান, খাদ্যের দিকে নজর দিন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

0
কিডনিতে পাথর।

খবরঅনলাইন ডেস্ক:  কিডনিতে পাথর। আজকাল অনেকেরই ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়। এ নিয়ে অনেকে দীর্ঘ রোগযন্ত্রণায় ভোগেন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজিক ইনফরমেশন-এর তথ্য অনুয়াযী, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে আবার ৫০ শতাংশ মানুষ এই রোগ সম্পর্কে অবগত নন, ফলে এটি বড়ো আকার ধারণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিডনিকে।

কিডনি স্টোন হওয়া মানেই যে অপারেশনের প্রয়োজন তা কিন্তু নয়। কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখলে দূর করা যেতে পারে এই সমস্যা। এ ক্ষেত্রে সবার আগে নিজের ডায়েট ও লাইফস্টাইলের উপরে নজর দিতে হবে। এ বার বিশদে জেনে নেওয়া যাক কিডনির পাথর দূর করার উপায়গুলি!

Loading videos...

কিডনি স্টোন কী এবং কেন হয়?

কিডনির ভিতরে মিনারেল জমে ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের মতো পদার্থ তৈরি করে। একে কিডনি স্টোন বলা হয়। অর্থাৎ ক্যালসিয়াম অক্সালেটের ডিপোজিশন হলে এই রোগের উৎপত্তি হয়। এই পাথর যখন বড়ো আকার নেয় এবং সরু মূত্রনালির মধ্যে দিয়ে যায় তখন মূত্রনালির ভেতরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং প্রস্রাবের গতি রোধ করে দেয়। ফলে প্রচণ্ড ব্যথার উৎপত্তি হয়। মূলত শরীরে জলের অভাবের ফলে কিডনিতে স্টোন তৈরি হয়।কারণ, জলের অভাবে নুন, মিনারেল-সহ ইউরিনের অন্যান্য উপাদান শুকিয়ে যায় এবং স্বাভাবিক ভারসাম্য বদলাতে শুরু করলে এই রোগ দেখা দেয়।

রোগের লক্ষণ

বমিবমি ভাব বা কখনও কখনও বমি হওয়া। তলপেটের নীচে এবং কুঁচকিতে ব্যথা হওয়া। পাঁজরের নীচে যন্ত্রণা হওয়া এবং এই ব্যথার তীব্রতা ওঠানামা করে। প্রস্রাব করতে গেলে ব্যথা হওয়া এবং কালচে লাল, লাল কিংবা বাদামি রঙের প্রস্রাব হওয়া। বার বার প্রস্রাব পাওয়া এবং স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাব বেশি পরিমাণে হওয়া।

তুলসীপাতার রস ও পাতিলেবুর রস।

মুক্তির উপায়

রোগমুক্ত থাকতে হলে অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল থেকে দূরে থাকা উচিত। সব রোগ ঠেকানোর ক্ষেত্রেই এটা মানা বাধ্যতামূলক। কিছু শারীরিক নিয়ম পালন করা দরকার। কিডনিতে পাথর হওয়া ঠেকাতে প্রচুর পরিমাণে জল খেতে বলছেন চিকিৎসকরা এবং ডায়েট-বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া খাদ্যের উপাদানের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। তুলসীর রস, ডালিমের রস, পাতিলেবুর রস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি পাথর হওয়া ঠেকাতে অনেকটাই সাহায্য করে।

জল পান

এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা আবশ্যক। এই একই পরামর্শ চিকিৎসকরাও দিয়ে থাকেন। খুব ছোটো আকারের স্টোন দেখা দিলে পরিমাণমতো জল পানের মাধ্যমে তা সারিয়ে তোলা সম্ভব।

তুলসীর রস

তুলসীতে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কিডনির পাথর ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে।পাশাপাশি, এর রসে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট কিডনির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ক্যালসিয়াম

অত্যন্ত জরুরি খাদ্য উপাদান। কিডনির পাথর দূর করতে ক্যালসিয়াম মোক্ষম দাওয়াই। তাই শরীরে যদি পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকে, তা হলে কিডনির পাথর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে দুধ, পনির খাওয়া যেতে পারে।

ম্যাগনেসিয়াম

শরীরে শক্তির সঞ্চার ও মৌল বিপাকীয় হার ঠিক রাখার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজ উপাদান কিডনির পাথর তৈরির ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্স্যালেট গঠনে বাধা দেয়। এ ক্ষেত্রে অ্যাভোকাডো, কড়াইশুঁটি, সিম খাওয়া যেতে পারে। ডায়েট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি দিন অন্তত ৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম জরুরি।

ডালিমের রস

ডালিমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনি  সুস্থ রাখতে এবং পাথর ও অন্যান্য টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। যে কারণের জন্য বহু কাল আগে থেকেই কিডনির সমস্যাকে দূর করতে ডালিমের জুস ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পাতিলেবুর রস

লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামজাত পাথর তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং ছোটো পাথরগুলি ভেঙে বার করে দিতেও সাহায্য করে। এ ছাড়াও, লেবুর রসে অনেক স্বাস্থ্যকর উপকারিতাও রয়েছে।

আপেলসিডার ভিনিগার

আপেলসিডার ভিনিগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কিডনিতে হওয়া পাথর দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।

মেথি ও কালোজিরে।

মেথি

মেথির বীজ কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বীজগুলো কিডনিতে জমাকৃত পাথর হ্রাস করে ও কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে। উত্তর আফ্রিকায় মেথিবীজ কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

কালোজিরে

একটি গবেষণা অনুযায়ী, কালোজিরের বীজ কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন গঠনে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাধা বা নিরাময় করে।

জরুরি পরামর্শ

এই সমস্ত ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে – কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে বা গুরুতর কিছু মনে হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ওভারিয়ান সিস্টের আশঙ্কা কমায়, বলছেন চিকিৎসকরা   

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন