সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ওভারিয়ান সিস্টের আশঙ্কা কমায়, বলছেন চিকিৎসকরা

0
ওভারিয়ান সিস্টের আশঙ্কা।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ওভারিতে সিস্ট হওয়া এখন খুব সাধারণ সমস্যা। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ব্যায়াম না করা, বিভিন্ন ধরনের নেশা, অতিরিক্ত টিভি ও মোবাইলে ডুবে থাকা ইত্যাদি হতে পারে এই রোগের প্রধান কারণ। ঋতুচক্র অনিয়মিত হলে, বন্ধ্যাত্ব রোগের জন্য ওষুধ খেলে, ১১ বছর বা তার আগে ঋতুচক্র শুরু হলে, হরমোনাল ইমব্যালান্স থাকলে, শরীরের উপরের অংশে মেদ জমলে সতর্ক হতে হবে ওভারিয়ান সিস্ট নিয়ে। সমস্যা শুরু হচ্ছে বয়ঃসন্ধিতে। কিন্তু দেরিতে বিয়ে, অনিয়মিত যৌনজীবন, দেরিতে সন্তানের কারণে ক্রমশই বাড়ছে এই সমস্যা।

মহিলাদের মধ্যে ওভারিয়ান সিস্ট খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এবং তার কোনো উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে, অর্থাৎ দীর্ঘদিন উপসর্গহীন অবস্থায় থাকতে পারে। এই অবস্থার সাধারণ ইঙ্গিত হচ্ছে তলপেটে ব্যাথা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং আকস্মিক ওজন বেড়ে যাওয়া। মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয় অনিয়মিত হরমোন নিঃসরণ। অন্যান্য কারণ স্বাস্থ্যের অবস্থার মধ্যে নিহিত থাকে, যেমন ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিস, যা একজন মহিলার ওভারিয়ান সিস্ট তৈরি হওয়ার পক্ষে অনুকূল অবস্থা। ওভারিয়ান সিস্ট-এর চিকিৎসায় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গর্ভনিরোধক বড়ি ব্যবহার করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সাহায্যে সিস্ট অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। তাতে সাধারণত ফল ভালো হয়। চিকিৎসা না করে ফেলে রেখে দিলে ওভারিয়ান সিস্ট থেকে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

Loading videos...

প্রকারভেদ  

পলিসিস্টিক সিস্ট

ওভারিতে যে ছোটো ফলিকল থাকে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না হলে এই ধরনের সিস্ট হয়ে থাকে। এই সিস্টের ফলে অল্প বয়সে মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক হয়ে। এর ফলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।

ফাংশনাল সিস্ট

বেশির ভাগ মহিলাদের এই সিস্ট দেখতে পাওয়া যায়। ওভারি থেকে ডিম না ফুটলে সৃষ্টি হয়ে এই সিস্টের। এতে সাধারণত খুব একটা সমস্যা হয় না।

এডিনোমা সিস্ট

ডিম্বাশয় থেকে এক ধরনের তরল পদার্থ বেরিয়ে জমাট বেঁধে এই ধরনের সিস্টের জন্ম হয়।

এন্ডমেট্রিয়াল সিস্ট

ওভারিতে যে টিস্যুগুলি থাকে সেই টিস্যু যদি জরায়ু ছাড়া পেটের অন্য কোথাও হয়ে তখন তাকে এন্ডমেট্রিয়াল সিস্ট বলে। এর ফলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে এবং অনিয়মিত মাসিক হতে পারে।

ডারময়েড সিস্ট

এই সিস্টের ভেতর চামড়া, চুল, দাঁত আটকে থাকতে পারে। এই ধরনের সিস্টও প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের সিস্ট থেকে বিনাইন ক্যানসার হতে পারে। এই সিস্টের ফলে তীব্র ব্যথা হয়। অনেক সময় ওভারি পেঁচিয়েও যেতে পারে।

কী করণীয়, চিকিৎসকরা কী বলছেন

চিকিৎসকরা বলেন, ওভারিয়ান সিস্টের অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়মিত লাইফস্টাইল। ডিম্বাশয়ে সিস্ট কমাতে হলে ব্যায়াম করতে হবে। ভাজাভুজি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়াও, বেশ কিছু খাদ্য নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। এটা ডিম্বাশয়-সহ সারা শরীরের যত্নে কাজে আসবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও খুব জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে সুস্থ রাখার একটা প্রধান উপায় ওজন নিয়ন্ত্রণ।  

বিট, ড্যান্ডেলিয়ন, মিল্ক থিসল।

খাওয়াদাওয়া

ডায়েটে রাখুন ফল, সবুজ শাক-সবজি। থাকুক বেশি মাত্রায় গোটা শস্য।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত ওজনের জন্যও ওভারিয়ান সিস্টে আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। মেদ ঝরিয়ে ফেলুন। আশঙ্কা কমবে ওভারিয়ান সিস্টের।

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট

হরমোনের ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে কিছু ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট। ভিটামিন ই, ফ্লাক্সসিড অয়েল, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি তার মধ্যে অন্যতম।

প্রচুর পরিমাণে জলপান

বেশি পরিমাণে তরল, বিশেষ করে জল বেশি পান করলে তা শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। শতাব্দী ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাসযোগ্য প্রতিকারটি ওভারিয়ন সিস্ট হওয়াকে হ্রাস করতে পারে।

ক্যামোমাইল টি

সিস্টের কারণে একজন মহিলাকে যে ব্যথা ও অসুবিধায় ভুগতে হয় তার থেকে নিস্তার পেতে এক কাপ ক্যামোমাইল টি খুবই কার্যকর। বহু পুরাতন এই কার্যকর প্রতিকার, আরামদায়ক ও যন্ত্রণা প্রশমণকারক এবং একই সঙ্গে পেশির খিঁচুনি লাঘব করতে সাহায্য করে।

বিট

বিটে বিটাসায়ানিন নামে একটি বিশেষ উপাদান প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই উপাদানটি বিটে উপস্থিত ক্ষারীয় এজেন্টের সঙ্গে মিশে একত্রে সিস্টের কারণে হওয়া খিঁচুনিকে প্রশমিত করতে খুবই কার্যকর বলে পরিচিত।

ভেষজ উপায়

ওভিউলেশন নিয়মিত করতে ও জননতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে গাছগাছালির মূল। ইস্ট্রজেনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে ড্যান্ডেলিয়ন, মিল্ক থিসল প্রভৃতি ভেষজ।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বংশগত ভাবে সম্ভাব্য ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে, বলছে গবেষণা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন