tetanus injection
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

বেশি কিছু বলার আগে জেনে নিই টিটেনাস রোগে কী কী হয় এবং কতটা ক্ষতিকর এই রোগ। এই রোগের জীবাণুর নাম ক্লস্ট্রিডিয়া টিটানি। এর স্বাভাবিক বাসস্থান মল দ্বারা দূষিত মাটি, নোংরা পাথর, রাস্তা ইত্যাদি। সাধারণত মলের মধ্যেই এই জীবাণুর অবস্থান। এই রোগ শরীরে ঢুকলে চার থেকে পনেরো দিনের মধ্যেই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। এতে গোটা শরীরের মাংসপেশির খিঁচুনি আরম্ভ হয় এবং এতটাই শক্তিশালী এই খিঁচুনি যে শরীরের হাড়গোড় ভেঙে যায় – শেষ পর্যন্ত বুকের পেশি এতটাই সঙ্কোচিত হয়ে যায় যে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। রোগটি বড়োই ভয়ংকর। তাই আমরা কেটে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ইনজেকশন নিতে ছুটি। কিন্তু সেটা কি আমাদের সঠিক সুরক্ষা দেয়?

টিটেনাস ইনজেকশনের মাধ্যমে আমাদের শরীরে অক্ষম জীবাণুদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তাদের দেখে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আসলে আমাদের শরীরে ঢুকে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে। যার আগে ভ্যাকসিন নেওয়াই নেই, কাটার পরে একটা ইনজেকশন তার কিন্তু প্রায় কোনো কাজ‌ই করে না। প্রথম ইনজেকশনের খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহের মাথায় আর একটা এবং ছয় মাসের মাথায় তিন নম্বর ইনজেকশন নিলে দশ বছর পর্যন্ত প্রতিরোধক্ষমতা বজায় থাকে। এবং অবশ্যই কাটা ছেঁড়ার আগেই ইনজেকশনগুলো নিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ কাটার আগেই সাবধান হবেন। সুতরাং প্রতি দশ বছরে একটা করে বুস্টার ডোজ ইনজেকশন নিতেই হবে।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: প্রস্টেট গ্ল‍্যান্ড ও তার অসুখ

যদি আগের সব ডোজ ঠিকমতো না নেওয়া থাকে অথবা ক্ষতটা মাটি বা রাস্তার বা পায়খানার মলে দূষিত হয়ে থাকে তা হলে টিটেনাস ইনজেকশনের ডোজ আরম্ভ করতে হবে এবং যে হেতু এই ওষুধ শরীরের ভেতর প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে বেশ কিছু দিন সময় নেয় তাই বাইরে থেকে তৈরি করা ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা রেডিমেড প্রতিরোধ অন্য একটা ইনজেকশনের মাধ‍্যমে ঢুকিয়ে দিতে হবে। টিটেনাস জীবাণু শরীরে ঢুকলে সাধারণত দশ দিনের মাথায় রোগের লক্ষণ প্রকাশ করতে শুরু করে। এই রোগে প্রথমে চোয়ালের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। তার পর মুখের মাংসপেশির সঙ্কোচন হয়ে বীভৎস একটি হাসির মতো মুখের আকৃতি হয়ে ওঠে। এই হাসির পোশাকি নাম রাইশাস সার্ডোনিকাস। তার পরে মৃত‍্যুদূতের মতো হাজির হয় সমস্ত মাংসপেশির খিঁচুনি – রোগীর হাড়গোড় সব মাংসপেশির সঙ্কোচনে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান : সন্তান লম্বা হচ্ছে না? কী করবেন?

সুতরাং শিশুর জন্মের পর থেকেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলুন। কাটার আগেই ইনজেকশন নিন। নিজেও নিয়মিত ইনজেকশন নিন। মনে রাখবেন প্রিভেনশন ইজ বেটার দ‍্যান কিওর।

(লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here