ডাঃ অঞ্জন ভট্টাচার্য ও রাজা ধর

হেমন্তের হিমেল হাওয়া সকাল সন্ধ্যে গায়ে লাগছে। এখনও জ্যাকেট শোয়েটার যদিও নামেনি তবুও ভোর রাতের দিকে গায়ে একটা হালকা চাদর হলে মন্দ হয় না। তবে এই শীতের শুরুতেই কয়েকটা কাজের কথা মাথায় রেখে দিন।শীতে বড়োরা যেমন তেমন, ভয় বেশী বাড়ির বিচ্ছুগুলিকে নিয়ে। অথবা যেগুলি এখনও বিচ্ছু স্তরেও পৌঁছতে পারেনি।

বড়োদের তুলনায় শিশুদের ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। যার কারণে শীতের মরসুমে শিশুর ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। শুষ্ক চামড়া বাচ্চাদের বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দেয়। তাই শীতের এই সময়টাতে শিশুর ত্বকের যত্নের ব্যাপারে হতে হবে আরএকটু বেশী সতর্ক।

স্নান

শিশুদের স্নান করানোর সময় সুগন্ধিবিহীন বাচ্চাদের সাবান ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখবেন যেন বাচ্চাদের শরীরে বড়োদের সাবান লাগানো না হয়। স্নানের জন্য ইষদোষ্ণ জল ব্যবহার করুন। স্নানের শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে।

আরও পড়ুন: গবেষণা বলছে প্রসব-পরবর্তী অবসাদ তুলনামূলক কম হয় শীত-বসন্তে মা হওয়া মহিলাদের

ময়েশ্চারাইজার

শীতে আপনার বাচ্চার ত্বকের যত্নে সব থেকে যেটি বেশি জরুরি সেটা হল ময়েশ্চারাইজার। শিশুকে স্নান করানোর পর শরীর মুছিয়ে তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগান। তবে এটি লাগানোর আগে চিকিৎসকের একটু পরামর্শ নিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ আপনার শিশুর যত্ন হওয়া উচিৎ বিজ্ঞানসম্মত, বিজ্ঞাপনসম্মত নয়।

ঘন ঘন ডায়পার পরিবর্তন

যেই সব শিশু এখনও ডায়াপার ব্যবহারের স্তরে রয়েছে, শীতে আর্দ্রতা থেকে আপনার শিশুর ত্বক বাঁচাতে ঘন ঘন ডায়পার পরিবর্তন করুন। ভেজা ডায়পার যতবেশি আপনার শিশুর ত্বকের সংস্পর্শে থাকবে ত্বকে ততবেশি বুটি ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

সুতির কাপড় ব্যবহার

শিশুর ত্বকের অভ্যন্তরে বাতাস চলাচল করতে সুতির কাপড় ব্যবহার করুন। এমনকি আপনার শিশুর ত্বক নরম রাখতেও সুতির কাপড় খুব কাজের।

আরও পড়ুন: ক্যালেন্ডার দেখে নয়, শীত পড়লেই শীতের পোশাক পরুন

শিশু ও বড়োদের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা

শীতে শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো সাধারণত বেড়ে যায়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট। এই সময়ে আবহাওয়ার একটি তারতম্য হচ্ছে। এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগ, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জিজনিত রোগ- এসবের প্রকোপ খুব বেশি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ব্রঙ্কিউলাইটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শ্বাস কষ্টের কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর দিতে হবে।

লক্ষণ

দেখবেন যে আপনার প্রিয় মানুষটি শ্বাস নিতে মোটামুটি পারছে। তবে ফেলতে কষ্ট হচ্ছে। রোগীর মনে হচ্ছে বুকটা একেবারে আঁটসাট হয়ে আছে। শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে, কাশি আছে। সেইসাথে দূর থেকে একটা শাঁ শাঁ আওয়াজ পাওয়া যায়। এগুলো হলো লক্ষণ। এর সঙ্গে ধূমপানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটা প্রধানত অ্যালার্জিজনিত কারণে হয়।

আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে:নিয়ন্ত্রণে রাখুন শ্বাসকষ্ট

কোন দিকে নজর রাখবেন

এই যেমন শীত আসছে, গত বছরের বাক্স বন্দি করা কাপড়, সেগুলো আবার না ধুয়ে, না লন্ড্রিতে দিয়ে সরাসরি আমরা পরছি। সারাবছর সেগুলোতে মাইট বলে এক ধরনের অণুজীব বাস করে। এটি খালি চোখে দেখা যায়  না। সারা বছর এটি বংশ বিস্তার করে। যেই মাত্র ব্যক্তি সোয়েটারটা পরল বা গরম কাপড় পরল সেই মাইট তার নাক দিয়ে শ্বাসতন্ত্রে ঢুকছে। অনেক ধরনের অ্যালার্জি আছে। যে কোনো কারণে অ্যালার্জি যদি শ্বাসতন্ত্রে ঢোকে একটি অতিস্পর্শকাতরতা তৈরি হয়। অতি সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। তখন শ্বাসনালিগুলোতে খিঁচুনি হয়। তখনই শ্বাসকষ্ট হয়। এ ছাড়া শীতে বিভিন্ন ফুলের পরাগরেণু বাতাসে ভাসতে থাকে। এছাড়াও শুষ্ক হাওয়ায় ধুলো কিংবা পোষ্যের লোম বেশি ওড়ে আর তা  শ্বাসতন্ত্রে গিয়ে ক্ষতি করতে পারে। যদিও হাঁপানির সঙ্গে সিগারেটের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবুও যাদের হাঁপানি হচ্ছে সিগারেট খেলে দেখা যায় তাদের অস্বস্তি হচ্ছে, কাশি বাড়ছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ঠান্ডা নিজেই একটি অ্যালার্জি হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: হাঁপানি নিরাময়ে ফলদায়ী হতে পারে ভিটামিন-ডি

কী করবেন, কী করবেন না

 একজন হাঁপানি রোগী যাতে শীতকালকে উপভোগ করতে পারে, তার উচিত গরম কাপড় এখনই বাক্স থেকে বের করে লন্ড্রিতে দিয়ে দেওয়া। কিংবা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ভালো করে রোদ্রে শুকিয়ে নিলেও হয়। ভালো করে আয়রন করে নিতে হবে যাতে মাইট না থাকে। ঘরে কার্পেট রাখবেন না। কার্পেটের মধ্যে মাইট বাড়ে। আর ঘর ঝাড়ু না দিয়ে মুছে ফেলবেন। অনেকে রয়েছে যাদের ঝুল ঝাড়ার অভ্যাস আছে, ঝুল ঝাড়বেন না। এখানেও মাইট বাস করে। এগুলো থেকে সাবধান হতে হবে। যাদের অ্যাজমা নেই তাদের দিয়ে ঝুল পরিষ্কার করাতে হবে। যাদের অ্যাজমা আছে তারা ঝুল পরিষ্কার করার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর ঘরে ঢুকবে। জোরে ফ্যান ছেড়ে দেবে। যাতে করে মাইটগুলো চলে যায়। সূর্যের আলো যাতে ঘরে প্রবেশ করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকের মধ্যে ইনহেলার ভীতি আছে। এটি কিন্তু খুবই একটি কার্যকরী প্রযুক্তি। এর মধ্যে ওষুধ আছে যা তাৎক্ষণিক কাজ করে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম, দামও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই ইনহেলার দিয়ে চিকিৎসা করাটাই হাঁপানির জন্য শ্রেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here