ডাঃ অমিতাভ চন্দ, নিউরোসার্জন

ষাট পেরিয়ে গেছে। অবসর নিয়েছেন কর্মক্ষেত্র থেকে। একটি মেয়ে, একটি ছেলে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটাকে নিয়েই চিন্তা। এমনিতে লেখা পড়ায় মন্দ ছিল না। কিন্তু ২৭ হতে চলল এখনও জুৎসই কোনও চাকরি জুটছে না। পার্কে বসে আছেন। ইদানিং একটা চাপা অবসাদ গ্রাস করছে। লিখতে গেলে হাত কাঁপে। মাথাটা সবসমই কেমন যেন একটা ঝিম ঝিম করে। বিষয়টি ফেলে রাখবেন না। তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে। হতে পারে পার্কিনসন। পার্কিনসন এমন একধরনের রোগ যা মূলত নার্ভের সমস্যা থেকে হয়। ইংরেজ চিকিৎসক জেমস পার্কিনসনের নাম অনুযায়ী এই রোগের নামকরণ করা হয়েছে। মূলত মস্তিষ্কের যে অংশে ডোপামিন তৈরি হয়, সেখানকার সেলগুলোকে আক্রমণ করে পার্কিনসন। ফলে একবার এই অসুখ শরীরে বাসা বাঁধলে, ধীরে ধীরে সেলগুলি ধ্বংস হতে থাকে। তখনই শরীরে একাধিক উপসর্গ দেখা যায়। প্রথমদিকে এই রোগের উপসর্গ গুলি দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। পার্কিনসনের রোগ শনাক্ত করা কৌশলী কাজ। সব রোগীর একই রকম লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

পার্কিনসনসের প্রধান লক্ষণগুলো হল :

১. শার্টের বোতাম লাগাতে বেশি সময় লাগছে। সহজে মোবাইলে ডায়াল করা যাচ্ছে না। হাতগুলি ঠিক বশে থাকছে না। নড়া-চড়ার এই রকম শ্লথগতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ব্রাডিকাইনেসিয়া। এর পরবর্তী ক্ষেত্রে পার্কিনসনস রোগীদের হাঁটা চলার ক্ষেত্রে স্থবিরতা আসতে পারে।

২.  ৭০-৮০ ভাগ ক্ষেত্রে রোগীর হাত, পা, চোয়াল ও মুখ নিশ্চল অবস্থায় কাঁপতে থাকে

৩. শরীরের পেশি কঠিন হয়ে আসে বা ব্যথা অনুভুত হয় । হাত, পা ও শরীরের পেশিতে টান অনুভুত হয়, সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে বা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হয়।

অন্যান্য আরো লক্ষণ

পার্কিনসনসের রোগীর পা টলমল করে। ভারসাম্য কম থাকে। হঠাৎ করেই অকারণে পড়ে যেতে চান। তারা ছোট ছোট পদক্ষেপে পা টেনে টেনে বা ঘষে ঘষে হাঁটেন।

আঙুলের কাঁপুনি থেকে বা পায়ের অদ্ভুত নিশ্চলতা থেকে, চলনক্ষমতা হ্রাস পায়।

এমন রোগীদের হাতের লেখা ছোট আকারের হয় এবং আড়ষ্ট হয়ে যায়।

অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মেজাজের এই সমস্যা এ রোগের বৈশিষ্ট্য।

চলার গতি কমে যায়। চলার সময় এক হাত দোলে কম অন্যটির চেয়ে।

গন্ধ চেতনা লোপ পায়। এই রোগে আক্রান্ত মানুষদের কথা স্পষ্টভাবে বোঝা ও শোনা যায় না।

ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পাওয়া পার্কিনসন রোগে এটি কমন প্রবণতা।

অনিদ্রা এখন প্রায় সকলেরই সমস্যা হয়ে গিয়েছে। পার্কিনসনস রোগেরও এটি অন্যতম লক্ষণ।

 অতিরিক্ত টেনসন থেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন হতাশা ও চাপমুক্ত থাকার। নিয়ম করে খাবার খান। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্যায়াম করুন। সারাদিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমোন। ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় থেকে দূরে থাকুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here