ত্রিফলা ওজন কমাতেও সাহায্য করে, জানুন কী ভাবে

0

ত্রিফলার সঙ্গে কমবেশি পরিচিত সকলেই। এই আয়ুর্বেদিক ভেষজ মিশ্রণ তৈরি তিনটি ফলে। আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা। কার্যকারিতা অনেক। তবে সম্প্রতি ওজন কমানোর উপকরণ হিসেবেও উঠে এসেছে ত্রিফলার নাম। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ত্রিফলা খেলে ওজনও কমতে পারে।

ত্রিফলার তিনটি ফলেরই বিশেষ গুণ রয়েছে। তবে আয়ুর্বেদে এই মিশ্রণ সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিটক্সিফিকেশন, হজমজনিত রোগ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ জটিল রোগের ওষুধ হিসেবে। সব মিলিয়ে, আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে স্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক উপকারিতা রয়েছে ত্রিফলার।

আমলকি

আমলকির গুণ অনেক। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। পেটের সমস্যা দূর করা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অব্যর্থ আমলকি।

হরিতকি

এতে রয়েছে ট্যানিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্রুকটোজ, সাকসিনিক অ্যাসিড ইত্যাদি। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মজুত থাকায় অন্ত্রের উপর বিস্তৃত কার্যকরী। পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি পাইলস, হাঁপানি, চর্ম রোগ, ক্ষত সারাতে ব্যবহৃত হয়।

বহেরা

আমাশয়ে কাজ দেয় বহেরা। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও রয়েছে এর। আবার শ্লেষ্মা, কৃমি দূর করার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

ওজন কমাতে ত্রিফলা

weightloss

আমাদের শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে অন্যতম হল হজম প্রক্রিয়া। শারীরিক কার্যকারিতা এবং কাঠামোকে সরাসরি প্রভাবিত করে এই প্রক্রিয়া। যেহেতু ত্রিফলা হজম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং পরিপাকতন্ত্রের নিখুঁত ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে তাই এটা আমাদের শরীরের ওজন কমানোর এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ত্রিফলা কোলন টিস্যুকে শক্তিশালী ও টোন করে এবং পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে এবং বিপাককে বাড়িয়ে তোলে। ফলে এটাই হতে পারে স্বাস্থ্যকর, পছন্দসই শরীরের ওজনের অর্জনের সরাসরি পথ।

স্থূল প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ত্রিফলার প্রভাবে অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস, কোমরের পরিধি এবং নিতম্বের পরিধি হ্রাস পাওয়ার প্রমাণও উঠে এসেছে গবেষণায়। যাঁরা স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁরা যদি ত্রিফলা খান, তা হলে ফল মিলতে পারে হাতেনাতে।

কী ভাবে খেতে হয় ত্রিফলা?

আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা ভেজানো জল পান করতে হয়। সারা রাত ভিজিয়ে তা সকালে সেই জল পান করতে হবে। এ ছাড়া ত্রিফলা চূর্ণ এবং বড়ি আকারেও পাওয়া যায়।

সতর্কীকরণ

গর্ভবতী অথবা স্তন্যদান করেন, এমন মহিলাদের ত্রিফলা খেতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এর প্রভাবে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। অন্য দিকে, স্তন্যদানকারী মা ত্রিফলা খেলে তা শিশুর শরীরে পৌঁছে যেতে পারে।

ডায়াবেটিসের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ত্রিফলা সেবন না করাই ভালো। শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণে ত্রিফলা খাওয়ালে পাতলা পায়খানা বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে। ফলে না খাওয়ানোই ভালো।

আরও পড়তে পারেন: 

৫টি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর খাবার, দেখুন শীতকালে আপনার বাচ্চার ভালো লাগবেই

৩০ বছর পেরনোর পর এই ৭টি খাবার আপনাকে খেতেই হবে

কুল থেকে কমলা, শীতে সুস্থ থাকতে যে ৫টি ফল অবশ্যই খাবেন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন