ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ এক যুগান্তকারী আবিষ্কার

0
ক্যানসার
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী আবিষ্কার। এক দল গবেষক কাজ করেছেন মানব দেহের বিশেষ এক ধরনের প্রতিরোধী কোষ নিয়ে। আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম গড়ে ওঠে যে কোষগুলির সাহায্যে যে সব কোষ নিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে সব কোষ এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে তারাই সব রকমের ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তুলতে পারবে।

কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা গবেষণাগারে প্রস্টেট, ব্রেস্ট, লাং-সহ  অন্যান্য ক্যানসারের কোষকে ধ্বংস করেছেন এই নতুন পদ্ধতিতেই। যদিও এটি কোনো রোগীর ওপর সরাসরি প্রয়োগ করা হয়নি। তবে গবেষকদের দাবি, এর ক্ষমতা প্রচুর। এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, নেচার ইমিউনোলজি পত্রিকায়।  

তাঁরা কী আবিষ্কার করেছেন?

গবেষণা অনুযায়ী, আমাদের শরীরে যে কোষগুলি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য দেহের নিজস্ব প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে গড়ে তোলে তারাই ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকেও অর্থাৎ ক্যানসারাস টিউমারকে আক্রমণ করে মেরে ফেলতে পারে।

বিশিষ্ট ক্যানসার চিকিৎসকরাও বলছেন, এর ফলে, অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ যেমন অনেক রকমের সংক্রমণ রুখতে ও সারাতে পারে, তেমনই এই আবিষ্কার সফল হলে একই গ্রুপের ওষুধে প্রায় সব রকমের ক্যানসারই সারান যাবে।

পড়ুন – ক্যানসারের প্রাথমিক ৫টি লক্ষণ, এগুলির একটিও থাকলে সচেতন হন/ পর্ব-২

অধ্যাপক অ্যান্ড্রিউ সি ওয়েল বলেন, এটি যে সম্ভব হতে পারে তা কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি। কিন্তু তা সম্ভব। এরা ক্যানসারের কোষের ওপর খুবই ব্যাপক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আর একই পদ্ধতিতে অর্থাৎ এক ধরনের টি সেল দিয়ে জন জাতির মধ্যে হওয়া সব রকমের ক্যানসারের চিকিৎসা হতে পারে।

কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন, কেমোথেরাপি বা প্রচলিত পদ্ধতিগুলি ছাড়াও অন্য কোনও উপায় রয়েছে কি না ক্যানসার কোষগুলিকে আক্রমণের ক্ষেত্রে। সেই খুঁজতে গিয়েই রক্তে থাকা এক ধরনের প্রতিরোধী কোষের উপর নজর পড়ে গবেষকদের। এই কোষটির নামই ‘টি সেল’। এই টি সেলের কাজ আমাদের শরীরটা ‘স্ক্যান’ করা।

শরীরে এই ‘স্ক্যানিং’-এর প্রয়োজন হয় কেন?

কোনো সংক্রমণের মুখে শরীর পড়তে চলেছে কি না, তা আগাম জানার জন্যই  শরীরে স্ক্যানিং-এর দরকার। এই বিশেষ কোষপ বা সেলগুলি এই স্ক্যানিং-এর পরই সেই সংক্রমণকে কী ভাবে রোখা যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সেই ব্যবস্থাও খুবই দ্রুত শুরু হয়ে যায়।

কী ভাবে এই ব্যবস্থা নেয় টি-সেল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেহে দুই ধরনের প্রতিরোধী কোষ রয়েছে। একটি- ‘বি-সেল’, অন্যটি টি-সেল।

বি সেলের কাজ কী ?

পড়ুন – ক্যানসারের প্রাথমিক ৫টি লক্ষণ, এগুলি দীর্ঘদিন থাকলেই সচেতন হন! পর্ব ১

বি-সেল কোনও সংক্রমণ হলেই রক্তে ছুড়ে দেয় বিশেষ ধরনের প্রোটিন। বিশেষ বিশেষ সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বিশেষ বিশেষ প্রোটিন।

টি সেলের কাজ কী?

টি-সেল প্রোটিন নিক্ষেপ না করে নিজেই সেই সংক্রমিত কোষের ওপর গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়।

টি সেলের গায়ে থাকে বিশেষ ধরনের রিসেপটার। এই রিসেপটারের সাহায্যে তারা সমস্যা নির্ধারণ করতে পারে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজন অনুযায়ী রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তারা সংক্রমণকে প্রতিরোধ করে। এই ক্ষেত্রে সেখানে উপস্থিত ভাইরাস বা কোনো সংক্রমণে আক্রান্ত কোষের গায়ে লেগে যায়। টি-সেলগুলি সেঁটে গিয়ে আক্রান্ত কোষের উপর আক্রমণ করে। সঙ্গে সঙ্গে সেই আক্রান্ত কোষে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। তার পর আক্রান্ত কোষটি মরে যায়।

তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ভাবেই আক্রান্ত কোষ ছাড়া অন্য ভালো বা সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

এই বিক্রিয়ার সময় একই সঙ্গে বিক্রিয়া হয় তার গায়ে সেঁটে থাকা টি-সেলটির মধ্যেও। এই বিক্রিয়ার ফলে টি-সেলের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যায়। এর ফলে পরে ওই ধরনের সংক্রমণের হামলার মোকাবিলা আরও জোরালো ভাবে করা যায়।

তবে প্রত্যেক রোগ সংক্রমণের জন্য টি সেলগুলি কিন্তু আলাদা হয়। অর্থাৎ একই রোগ প্রতিরোধী টি –সেল অন্য রোগ প্রতিরোধ করে না। তাই দেহে নানা ধরনের টি-সেল থাকে। গায়ে থাকে টি-সেলের ‘রিসেপ্টর’।

পড়ুন – সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস রেডিওথেরাপিতে, গবেষণা

গবেষণায় কী দেখা দিয়েছে?

এক ধরনের টি-সেল বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকে আক্রমণ করে তাদের মেরে ফেলতে পারে। যেমন – প্রস্টেট ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকে মারতে পারে। শুধু তাই নয় এ ছাড়াও আরও নানা ধরনের ক্যানসার আক্রান্ত কোষকেও আক্রমণ করে মেরে ফেলতে পারে সেই বিশেষ ধরনের টি-সেল।

গবেষকরা বলছেন,  টি-সেলের রিসেপ্টর আমাদের শরীরে থাকা একটি বিশেষ ধরনের অণুর সঙ্গে বার্তা বিনিময় করে। তার নাম ‘এমআর-ওয়ান’। আমাদের দেহের সব ধরনের কোষেই থাকে এই এমআর-ওয়ান অণু। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর কোনও কোষে বিপাক প্রক্রিয়ায় যে ব্যাঘাত ঘটতে শুরু করেছে, সেই খবরটা এই এমআর-ওয়ান অণুই টি-সেলের রিসেপ্টরকে দেয় ।

গবেষকদের অন্যতম কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রিউ সিওয়েল ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’-এর পাঠানো প্রশ্নের ই-মেল জবাবে লিখেছেন, আগে এটা আমরা কেউই বিশ্বাস করতাম না। এটা সম্ভব বলে মনেও হয়নি কোনও দিন ক্যানসার বিজ্ঞানীদের। এখনকার চিকিৎসায় কোনো একটি ক্যানসারের ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি অন্য ধরনের ক্যানসার সারাতে বা কমাতে কাজে লাগে না। কিন্তু এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক ধরনের ক্যানসার সারানো সম্ভব হতে পারে। তাই আমাদের বিশ্বাস, মানুষের উপর পরীক্ষায় সাফল্য এলে এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন নতুন ওষুধ বাজারে আসতে দেরি হবে না।

সিওয়েল জানিয়েছেন, এই বিশেষ ধরনের টি-সেল আর তার রিসেপ্টর ফুসফুস, ত্বক, স্তন, রক্ত, অন্ত্র, হাড়, প্রস্টেট, ওভারি (ডিম্বাশয়), কিডনি ও সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে আক্রমণ করতে পারছে। তাদের মেরেও ফেলতে পারছে। আর সেটা করতে গিয়ে ক্যানসার কোষের আশপাশে থাকা সুস্থ, স্বাভাবিক কোষগুলিকে তারা মেরে ফেলছে না। ক্যানসারের চালু চিকিৎসা পদ্ধতির বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয়। ক্যানসার কোষগুলিকে মারতে গিয়ে সুস্থ কোষগুলিকেও মেরে ফেলা হয়। এই পদ্ধতিতে সেটা হচ্ছে না।

পড়ুন – কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্যানসার নির্ণয়ে জ্যাকেটই যথেষ্ট!

অভিনবত্ব কোথায়?

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সুশান্ত রায়চৌধুরি জানিয়েছেন, এত দিন দেখা গিয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে সেখান থেকে টি-সেল সংগ্রহ করা হয়। তারপর তাকে ভালো ভাইরাস দিয়ে শক্তিশালী করে তোলা হয়। এর পর তার সংখ্যায় বাড়িয়ে সেই রোগীর শরীরেই  ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তাতে সেই ক্যানসার রোগী সেরে ওঠেন। এই পদ্ধতির নাম- ‘সিএআর-টি থেরাপি’।

কিন্তু এই পদ্ধতি প্রত্যেকের জন্য আলাদা ভাবে করতে হতো। তা সার্বিক ছিল না। অর্থাৎ যার রক্তের টি সেল কেবল তার শরীরেই এটি সুফল দেবে। অন্য জনের শরীরে তা প্রবেশ করানো যাবে না। শুধু আবার তাই নয়, একই রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পর্যায়ে তা কাজে নাও লাগতে পারে।

সুশান্তবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে এই নতুন পদ্ধতিতে টিসেল শক্তিশালী করে সকলের শরীরেই কাজে লাগানো যাবে। শুধু তাই নয়, সুস্থ মানুষের রক্ত থেকে টি সেল সংগ্রহ করে, তাকে শক্তিশালী করে তুলে, তা ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে টি-সেলকে ব্যবহার করে ক্যানসার নিরাময়ে অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে।  যেমন, ‘সিএআর-টি’। এই ওষুধের সাফল্যও কম নয়। কিন্তু সেই সাফল্য হাতেগোনা কয়েক ধরনের ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। তাঁদের মতে, এই ওষুধ তখনই বেশি কার্যকরী হয়, যখন শরীরের  কোথায় ক্যানসার বাসা বেঁধেছে, কোন কোন কোষগুলি আক্রান্ত হয়েছে সেই বিষয়ে এক দম ঠিক তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁদের আক্ষেপ, ক্যানসার চিকিৎসার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যররথতা থেকে যায়। তা ছাড়া কোনো কোনো ক্যানসারের ক্ষেত্রে মধ্যম বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রোগ পৌঁছে গেলে এই ওষুধ তেমন কার্যকরীও হয় না।

পড়ুন – অতিরিক্ত ফ্রুট জুস পানে ক্যানসারের হাতছানি, বলছে গবেষণা

জেনে নেওয়া যাক টি সেল দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতি অর্থাৎ ‘সিএআর-টি’ পদ্ধতিতে ক্যানসার চিকিৎসা হয় কী ভাবে?

প্রথমত, ক্যানসারে আক্রান্ত কোনও রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, সেই সংগৃহীত রক্ত থেকে প্রতিরোধ সৃষ্টিকারী টি-সেলগুলিকে পরিশ্রুত করে বের করে নেওয়া হয়।

তৃতীয়ত, সেই টি-সেলগুলিকে দেওয়া হয় একটি বিশেষ ভাইরাস। এই ভাইরাস ক্ষতিকারক নয়। সেই ভাইরাসগুলি টি-সেলকে দেয় জিন। অর্থাৎ টি সেলের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন সাধন করা হয়। তাতে করে টি সেলগুলি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।  শক্তিশালী হয়ে উঠে টি-সেলগুলি ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে চেনা ও তাদের আক্রমণ করার ব্যাপারে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে।

চতুর্থত, এই ভাবে শক্তিশালী করে তোলা টি-সেলগুলিকে সংখ্যায় বাড়ানো হয়।

পঞ্চমত, এর পর টি-সেলগুলিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ওই ক্যানসার রোগীর শরীরেই যার শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে টি সেলগুলি বের করা হয়েছিল।

নতুন পদ্ধতিতে কী হবে?

পড়ুন – স্বাস্থ্য সাবধান: স্তন ক্যানসার, কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর

নতুন পদ্ধতিতেও একই ভাবে রক্ত সংগ্রহ ও টি সেল শক্তিশালী করার কাজ করা হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সুস্থ মানুষের শরীর থেকেও রক্ত নেওয়া যাবে। এবং একই পদ্ধতিতে টি সেল শক্তিশালী করে তা যে কোনো ক্যানসার রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দিয়ে সারিয়ে তোলা যাবে ক্যানসার। তবে কোনো এক ধরনের নয়, বহু ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীকে।

তবে কী এই বিষয়ে রয়েছে ভিন্ন মতও –

কলকাতার অন্য এক জন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ স্থবির দাশগুপ্ত এই আবিষ্কার নিয়ে উল্লসিত নন। তাঁর মতে, “ক্যানসার দেখলেই তাকে মেরে ফেলা সম্ভব”, এই দাবিটা ক্যানসার বিজ্ঞান এবং ডাক্তারির দর্শন, দুই দিক থেকেই ভুল। কারণ, ক্যানসার কোনও একটি ব্যাধির নাম নয়। প্রতিটি ক্যানসারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। গবেষকরা গবেষণা যে সাফল্য পান, সেগুলো সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে, কেন না গবেষণা হয় প্রতিস্থাপিত ক্যানসার নিয়ে। বাস্তবে সেগুলো খাটতে চায় না। এটা বায়োলজির সমস্যা।”

আরও পড়ুন – পেটের ক্যানসারের জন্য দায়ী এই বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া: গবেষণা

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.