নয়াদিল্লি: কৃষকদের আত্মহত্যা, ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে কৃষকদের আন্দোলনের জেরে যখন দেশজুড়ে শোরগোল, তখনই জানা গেল স্থূলকায় শিশুদের সংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এমনই জানা গিয়েছে এক ব্রিটিশ পত্রিকার করা একটি সমীক্ষায়।

স্থূলতা নিয়ে ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এর করা একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে মোট স্থূলকায় শিশুদের সংখ্যা এক কোটি ৪৪লক্ষ । তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে চিন। সেখানে স্থূলকায় শিশুদের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লক্ষ।

বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ওপরে করা এই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে বিশ্বের প্রায় দুশো কোটি শিশু, স্থূলতাজনিত শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। সেই সঙ্গে আরও জানা গিয়েছে, অন্তত ৭০টি দেশে ১৯৮০-এর তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুন হয়েছে এই স্থূলতাজনিত সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ‘ইন্সটিটিউট অফ হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’-এর আশকান আফশিন বলেন, “বাড়তি ওজন, এই মুহূর্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সমস্যা। তিন জনের মধ্যে একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত।”

এই সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একশো জনের মধ্যে অন্তত তেরোজন শিশু স্থূলকায়, অন্যদিকে মিশরে একশো জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক এই সমস্যায় আক্রান্ত। স্থূলতা বেশি হলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসের মতো রোগ হতে পারে বলে সতর্ক করেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস্টোফার মারে।

২০১৫-তে স্থূলতাজনিত সমস্যায় মোট মৃতদের মধ্যে অন্তত চল্লিশ শতাংশ মানুষ এমন ছিলেন যাদের বিএমআই ছিল তিরিশের কম।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সব থেকে খারাপ বছর গিয়েছে বলে জানায় সমীক্ষাটি। ওই বছরে, শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক  মিলিয়ে অন্তত দুশো কোটি মানুষ স্থুলতাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি দশ কোটি শিশু এবং ষাট কোটি প্রাপ্তবয়স্কের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) তিরিশের কিছু বেশি ছিল, যা প্রায় স্থূলতার পরিস্থিতি বলে জানা গিয়েছে।

আরও জানা গিয়েছে যে, ২০১৫-তে স্থূলতাজনিত সমস্যায় মোট মৃতদের মধ্যে অন্তত চল্লিশ শতাংশ মানুষ এমন ছিলেন যাদের বিএমআই ছিল তিরিশের কম। অর্থাৎ ডাক্তারি পরিভাষায় তারা স্থূলতার শিকার হওয়ার আগেই স্থুলতাজনিত সমস্যায় মারা গিয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন