পুনে: তিন বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে সোলাপুরের ২১ বছর বয়সি মহিলার শরীরে সফল ভাবে গর্ভ প্রতিস্থাপন হল। দেশে এই প্রথম গর্ভ প্রতিস্থাপন হল পুনের ‘গ্যালাক্সি কেয়ার ল্যাপেরোস্কোপি ইনস্টিটিউটে’ (জিসিএলআই)। এবং এই অস্ত্রোপচার হল একেবারে নিখরচায়।

২১ বছরের ওই মহিলার শরীরে ডিম্বাশয় আছে, হরমোনের কাজকর্ম স্বাভাবিক। শুধু জরায়ু ছিল না। ল্যাপেরোস্কোপিক সার্জারি করে মায়ের শরীর থেকে জরায়ু নিয়ে মেয়ের শরীরে প্রতিস্থাপন করলেন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং আইভিএফ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ১২ জন চিকিৎসকের একটি দল। টানা ১২ ঘণ্টা ধরে চলল অস্ত্রোপচার। গ্যালাক্সি হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ শৈলেশ পুনতাম্বেকর জানান, “অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। গ্রহীতা এবং দাতা দু’ জনেই সুস্থ আছেন। আমরা খুব খুশি।”

তিন বছর প্রস্তুতি চলেছে, শবের ওপর অস্ত্রোপচার করে প্র্যাকটিস করা হয়েছে। তার পর রাজ্যের ডায়রেক্টোরেট অব হেলথ্‌ সার্ভিসেস-এর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই অস্ত্রোপচার হল। যাঁর শরীরে জরায়ু বসানো হল, তাঁর কখনও ঋতুস্রাব হয়নি। নতুন অঙ্গ নেওয়ার পর এ বার তাঁর ঠিকঠাক ঋতুস্রাব হবে বলে আশা করা যায়। আগামী ছ’ মাস তাঁকে কড়া নজরে রাখা হবে। দেখা হবে তাঁর শরীর নতুন অঙ্গটিকে ঠিকঠাক গ্রহণ করছে কি না। বছর খানেক পরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করে আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর সন্তান প্রসবের চেষ্টা করা হবে।

আজ শুক্রবার গ্যালাক্সি হাসপাতালে আরও এক জনের শরীরে গর্ভ প্রতিস্থাপন করা হবে। গ্রহীতা গুজরাতের ২৩ বছর বয়সি এক মহিলা। এ ক্ষেত্রেও তাঁর মা-ই দাতা। মহারাষ্ট্রের ডায়রেক্টোরেট অব হেলথ্‌ সার্ভিসেস আপাতত জরায়ু প্রতিস্থাপনের জন্য পাঁচ বছরের লাইসেন্স দিয়েছে পুনের জিসিএলআই হাসপাতালকে।

জন্ম থেকে জরায়ু অনুপস্থিত অথবা জরায়ু পুরোপুরি সুস্থ নয়, এমন মহিলার শরীরে বাইরে থেকে শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ জরায়ু প্রবেশ করানোর জটিল প্রক্রিয়াই হল গর্ভ প্রতিস্থাপন। সারা পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত ২৫টি গর্ভ প্রতিস্থাপন হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি সফল। প্রথম সফল গর্ভ প্রতিস্থাপনটি হয়েছিল ২০১৩ সালে, সুইডেনে। আগামী মাসে বেঙ্গালুরুর মিলান ফার্টিলিটি সেন্টারেও দুই মহিলার জরায়ু প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা আছে।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন