ডাঃ মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়

অনিয়মিত মাসিক এখন একটি সাধারণ সমস্যা বিশেষ করে কিশোরীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সাধারণত নিয়মিত ঋতুচক্র প্রতিমাসে পাঁচ থেকে সাত দিন স্থায়ী থাকে। এই পাঁচ-সাত দিনে গড় রক্তক্ষরণের মাত্রা সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম হয়। এর বেশি রক্তক্ষরণ হলে তাকে অনিয়ন্ত্রিত ঋতুস্রাব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

কারণ

  • গর্ভধারণ জনিত কারণে ঋতুস্রাবে ছেদ ঘটতে পারে। গর্ভধারণের সম্ভাবনা আন্দাজ করতে পারলে গর্ভধারণ টেস্ট করা দরকার। গর্ভধারণের পর হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ শুরু হলে গর্ভপাতের আশংকা থাকে।
  • গর্ভনিরোধ বড়ি খাওয়ার ফলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।
  • শারীরিক ওজন বাড়লে বা কমলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।
  • আবেগজনিত মানসিক চাপের ফলেও অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।
  • জননাঙ্গের যক্ষা, গনোরিয়া, সিফিলিস, এইডস, ডায়াবেটিস প্রভৃতির কারণে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে৷

আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে: পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম

লক্ষণ সমূহ

  • মাসে ২/৩ বার মাসিক বা ঋতুস্রাব হতে পারে।
  • শুরু হওয়ার ১/২ দিন পরই শেষ হয়ে যায় এবং কয়েকদিন পর আবার শুরু হয়।
  • নাগাড়ে অনেকদিন ধরে চলতে পারে।
  • কোনো কোনো সময় স্বল্পকালীন মাসিক দেখা যায় এবং পরবর্তীতে মাসিক শুরু হলে তা প্রায় ২/৩ মাস পর্যন্ত চলতে থাকে।
  • মেজাজ খিটখিটে ও অস্বস্তি বোধ।

আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে: ওভারিয়ান সিস্ট, একটু সচেতনতা

জটিলতা

  • সন্তান ধারণে অক্ষমতা বা বন্ধ্যাত্ব দেখা যেতে পারে।
  • অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হতে পারে।
  • রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে।
  • ক্ষুধামন্দা ও শরীর দুর্বল বোধ হয়।

আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে: বন্ধ্যাত্ব

কী করবেন

  • প্রচুর পরিমাণে জল খান এবং নিজেকে ঠান্ডা রাখুন।
  • বিবাহিতরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বন্ধ করবেন না। কেননা এই সময়ে গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকেই যায়।
  • শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। নিয়মিত শরীর চর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
  • প্রতিদিন ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে এরকম ওষুধ খান।
  • রোগীকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্রামে থাকতে হবে।
  • মানসিকভাবে আশ্বস্ত হতে হবে।
  • রক্তাল্পতা দেখা দিলে রক্ত দিতে হবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন