cabbage
বাঁধাকপি
Biswajit Pathak
বিশ্বজিৎ পাঠক

ইঁদুরের উপর গবেষণা চালিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে বাঁধাকপির কার্যকারিতার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক দল গবেষক। অন্য দিকে কিছু দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এক দল গবেষক জানিয়েছিলেন, ক্যান্সারে বাঁধাকপি বিপজ্জনক। ভারতের ভেষজ চিকিৎসাবিজ্ঞানেও রয়েছে বাঁধাকপির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বিশদ বিবরণ।

বেশ কয়েক বছর ধরে এমন একটা কথা শোনা যাচ্ছিল-বাঁধাকপি খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব। তবে ওই ধরনের মত এত দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একটি জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, লন্ডনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের এক দল গবেষক হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, কী ভাবে মলদ্বারের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব এই বাঁধাকপির মাধ্যমে। ভালো কথা, বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে ফলে এগোবে চিকিৎসাবিজ্ঞানও। কিন্তু ক্যান্সার প্রতিরোধ আর ক্যান্সার নিরাময়, এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেললেই হল। সেটাই হয়ে চলেছে সাধারণ মানুষের একাংশে।

cabbageঅ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারগুলি ক্যান্সারে মতো রোগ দূরে রাখতেও সাহায্য করে। এটা হতে পারে বাঁধাকপি অথবা পালং শাক বা সবুজ রঙের পাতাওয়ালা যে কোনো সবজি।

শুধু বাঁধাকপি নয়, নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা অনেকাংশে কমে কমে যায়। কারণ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে সহায়তা করে থাকে। এই একই কারণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারগুলি ক্যান্সারে মতো রোগ দূরে রাখতেও সাহায্য করে। এটা হতে পারে বাঁধাকপি অথবা পালং শাক বা সবুজ রঙের পাতাওয়ালা যে কোনো সবজি।

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, এই ধরনের শাক সবজির পেটে পৌঁছালে আমাদের পাকযন্ত্র যে ইন্দোল-৩ কার্বিনল নামের রাসায়নিকটি নিসৃত করে সেটাই অন্ত্রের প্রদাহ হ্রাস এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। যদিও এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আনুষঙ্গিক কার্যক্রম এখনও অজানাই থেকে গিয়েছে।

cabbagপাকযন্ত্র যে ইন্দোল-৩ কার্বিনল নামের রাসায়নিকটি নিসৃত করে সেটাই অন্ত্রের প্রদাহ হ্রাস এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তবে গবেষকরা বেশ স্পষ্ট ভাবেই প্রমাণ করেছেন, ইন্দোল ৩ কার্বিনল হজম প্রক্রিয়া চালানোর সময় কী ভাবে অন্ত্রের প্রদাহ ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইন্দোল-৩ কার্বিনল তৈরি করে অ্য়ারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপটর বা এএইচআর নামে একটি প্রোটিন। এই এএইচআর পরিবেশগত সেন্সর হিসাবে কাজ করে। অন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলির জন্য বিপদ ডেকে নিয়ে আসে এই এএইচআর নামের প্রোটিন। যে কারাণে অন্ত্রের প্রদাহ কমতে পারে।

পুরো গবেষণাটি চলেছে ইঁদুরের উপর। গবেষকরা দুই ধরনের ইঁদুরকে বেছে নিয়েছিলেন পর্যবেক্ষণের জন্য। একটি অংশ আগে থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত অন্যটি নয়। যে ইঁদুরগুলি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত তাদের ইন্দোল-৩ কার্বিনল সমৃদ্ধ খাবার দেওয়ার পর দেখা গিয়েছে,তাদের শরীরে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের সংখ্যা সে ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। অন্য দিকে সুস্থ ইঁদুরগুলি কোনো ভাবেই অন্ত্রের প্রদাহ অনুভব করেনি।

cabbagএক কাপ বাঁধাকপির মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ ৫.৮ গ্রাম। যে কারণে বাঁধাকপি খাদ্য পাচনের পর বর্জ্য উৎপাদন করে অধিক পরিমাণে।

মিচিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষকের মতে, এক কাপ বাঁধাকপির মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ ৫.৮ গ্রাম। যে কারণে বাঁধাকপি খাদ্য পাচনের পর বর্জ্য উৎপাদন করে অধিক পরিমাণে। যে কারণে বাঁধাকপি ডায়ারিয়া এবং অন্ত্রের বিভিন্ন রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে সিদ্ধহস্ত। ফলে ক্যান্সারের রোগীর পক্ষে বাঁধাকপি ক্ষতিকারক। বিশেষ করে যাঁদের কেমো থেরাপি চলছে তাঁদের পক্ষে তো বটেই।

অন্য দিকে এ দেশের ভেষজ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে-

১. ইউরিক অ্যাসিডের আধিক্য রয়েছে বা বাতের রোগীরা বাঁধাকপি খেলে আরও সমস্যায় পড়তে পারেন।

২. হাইপো থাইরয়েডে আক্রান্তরা বাঁধাকপি খেলে রোগ বাড়বে বই কমবে না।

৩. বাঁধাকপির অধিক আহারে গ্যাস, অম্ল ছাড়াও অন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যায় পড়তে পারেন। ইত্যাদি

cabbageকমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেড এবং ব্যাখ্যাতীত ফাইবারের উপস্থিতি। এ ছাড়া বাঁধাকপির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-কে। যা রক্ততঞ্চনে সহায়তা করে।

এগুলির কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেড এবং ব্যাখ্যাতীত ফাইবারের উপস্থিতি। এ ছাড়া বাঁধাকপির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-কে। যা রক্ততঞ্চনে সহায়তা করে। ফলে যে সমস্ত রোগের ক্ষেত্রের রক্তের জমাট বাঁধা অন্তরায়, সে সবে বাঁধাকপি বিপদ ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

এ বার আপনিই স্থির করে নিন হুজুগে মেতে বাঁধাকপিকে কতটা গুরুত্ব দেবেন!

(লেখক ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন