কফির ভালো-মন্দ, পানের আগে অবশ্যই জেনে নিন

0
coffee

ওয়েবডেস্ক : কেউ চা খেতে ভালোবাসেন, কেউ কফি। তবে সব কিছুরই ভালো, মন্দ দুই দিক থাকে। তা যেমন চায়ের ক্ষেত্রে আছে, তেমনই আছে কফির ক্ষেত্রেও। আজকে আলোচনা করা যাক কফির ভালোমন্দ বা গুনাগুণ নিয়ে।  

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরের জন্য কফি কিন্তু খুব খারাপ নয়। এতে আছে ক্যাফেইনের অনেক উপকারিতা রয়েছে।

তবে দিনে কতবার, কী ভাবে এবং কখন খাওয়া হচ্ছে তার ওপ নির্ভর করে কফির কু-প্রভাব পড়বে, না ভালো কিছু ফল পাওয়া যাবে, সেই বিষয়টি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খালি পেটে কফি খেলে তা শরীরের পক্ষে মারাত্মক হয়ে যায়। তা যদি হয় ব্ল্যাক কফি, তা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক গুণ বেড়ে যায়।

দেখে নেওয়া যাক কফি পানের উপকারিতা কী কী?

উদ্যম বৃদ্ধি –

কফি খেলে খেলাধুলোয় অনেক বেশি উদ্যম বা এনার্জি পাওয়া যায়। কারণ এতে ক্যাফাইন আছে তা শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে। তাই যে কোনো রকম খেলার আগে কফি পান করলে শরীরে আনে আলাদা শক্তি।

মানসিক শক্তি বৃদ্ধি –

গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোনো রকম মানসিক চাপের সময় যদি ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করে তাতে মনোযোগ বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

স্মৃতিশক্তি –

আলঝেইমার (স্মৃতিভ্রংশ) রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী পদার্থ এই ক্যাফেইন, সে ক্ষেত্রে কফি খাওয়া উপকারের।

ক্যানসারের ক্ষেত্রে –

সম্প্রতি কালে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্যানসারের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে পারে কফি অর্থাৎ এর মধ্যে থাকা ক্যাফাইন। তার মধ্যে রয়েছে মুখগহ্বরের ক্যানসার, মস্তিষ্ক এবং জরায়ুর ক্যানসার। এই রোগগুলির ঝুঁকি কমাতে পারে কফি খাওয়ার অভ্যাস।

ডায়াবেটিসে –

এটি শরীরে প্রচুর পরিমাণে এডিপোনেক্টিন উৎপন্ন করে। এডিপোনেক্টিন উপাদানটি শরীরে সুগার লেভেল এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ডায়াবেটিস বিশেষ করে কফি টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে। কিন্তু একবার ডায়াবেটিস হয়ে গেলে কফি তা থেকে রক্ষা করতে পারে না।

চোখের জন্য –

কফিতে আছে ক্লোরোজেনিল অ্যাসিড। এই অ্যাসিড আমাদের চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

কলিজার রক্ষাকবজ –

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, কোনো কোনো সময় লিভার বা যকৃতের মেদ কমাতে ক্যাফেইন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রসঙ্গত অ্যালকোহল সেবন ও স্থুলতা, যকৃতে মেদের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তার থেকে ব্যথার এবং লিভার সিরোসিস হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কফি এই সব রোগের আশঙ্কা কিছুটা কমাতে পারে।

ওজন কমাতে –

কফিতে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড থাকে। এই ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেট বিপাকের গতিকে ধীর করে দিয়ে শরীরের ওজন বৃদ্ধিকে কমিয়ে দেয়।

তবে ভালো বলেই কিন্তু যখন তখন তা ভালো নয়। বিশেষ করে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমতে যাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে কফি খাওয়া ভালো নয়। তাতে প্রথম ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল বাড়ে, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ঘুম নষ্ট হয়।

এবার দেখে নেওয়া যাক কফির খারাপ দিকগুলি কী কী?

হার্টের জন্য –

আবার গবেষণায় এ-ও দেখা গিয়েছে, কফির মধ্যেকার ক্যাফেইন হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহকরী ধমনীতে রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। ফলে বুক ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক সময়ই শরীরের অতিরিক্ত ক্যাফেইন দায়ী।

ঘুমের ব্যঘাত –

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা দিনে তিন কাপের বেশি কফি খায় তাদের ঘুম খুবই কম হয়।  আবার আরেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা কফি পান করেন না তাদের থেকে এই পানীয় পানকারীদের ৭৯ মিনিট ঘুম কম হয়। তাই ঘুম কম হলে অবশ্যই কফি খাওয়া উচিত।

মেজাজের জন্য –

ক্যাফেইন শরীরের অ্যাড্রিনালিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে টানটান উত্তেজনা বাড়ায় তেমনই ঘাবড়িয়ে যাওয়ার অনুভুতিও বাড়িয়ে দেয়।

সন্তান ধারণে –

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনিক পাঁচ কাপের বেশি কফি খেলে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই গর্ভধারণ করতে চাইলে এবং গর্ভধারেণের পর কফি খাওয়া বাদ দেওয়াই ভালো। কারণ তাঁরা বলছেন, দৈনিক ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন শরীরে গেলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হয়।

কয়েকটি পরামর্শ –

১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা হরমোনের সমস্যায় ভুগছে তাদের কফি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন শরীরের কয়েকটি হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়।

২। গবেষণা করে লক্ষ্য করেছেন, ঠাণ্ডা অবস্থায় কফি পান করা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। কারণ, ঠাণ্ডা অবস্থায় এই পানীয়র ৬৭% অ্যাসিডিটি কমে যায়। ঠাণ্ডা কফিতে ক্যাফেইন ঘনীভূত অবস্থায় থাকে।

৩। কফি পান করতে হলে অবশ্যই ভরা পেটে, এবং ঘুমতে যাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে পান করাই শ্রেয়। এতে খালি পেটে কফি খাওয়ার সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে এবং ঘুমের ব্যাঘাতও হয় না।

দেখুন- জানেন মুড়ি, তেল-সহ বিভিন্ন খাবারে ভেজাল হিসাবে কোন কোন ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে?

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.