ডাঃ রাজীব দে (ডি এম হেমাটোলজি, কনস্যালট্যান্ট হেমাটোঅঙ্কোলজিস্ট, নারায়ণা সুপারস্পেশ্যালিটি হসপিটাল, হাওড়া)         

 

লিউকোমিয়া কী?

সাধারণত ব্লাড ক্যান্সারকে আমরা লিউকোমিয়া বলি। শরীরে রক্ত তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়। রক্তে তিন ধরনের কোষ থাকে – লোহিত রক্তকণিকা (আরবিসি), শ্বেত রক্তকণিকা (ডব্লুবিসি), অণুচক্রিকা (প্লেটলেট)। রক্তে অপরিণত শ্বেত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটলে তখন বলা হয় লিউকোমিয়া।

লিউকোমিয়া কত ধরনের হয়?

লিউকোমিয়া দু’ ধরনের। অ্যাকিউট লিউকোমিয়া, ক্রনিক লিউকোমিয়া। অ্যাকিউট লিউকোমিয়ায় চূড়ান্ত অপরিণত শ্বেত রক্তকণিকার (ব্লাস্টসেল) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। ক্রনিক লিউকোমিয়ায় তুলনামূলক পরিণত শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি ঘটে।

লিউকোমিয়ার লক্ষণ কী?

লিউকোমিয়া অপরিণত বা ক্যান্সার কোষ অস্থিমজ্জার অন্য স্বাভাবিক কোষগুলিকে সরিয়ে দেয়। ফলে রক্তের স্বাভাবিক কোষ যেমন – লোহিত রক্তকণিকা, অণুচক্রিকা এবং পরিণত শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়।

লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার জন্য অ্যানিমিয়া হয়। প্লেটলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়ার জন্য যে কোনো স্থান থেকে এমনকি অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও রক্তপাত হয়। পরিণত শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা কমার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। জ্বর ও সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে। রোগীর বিভিন্ন গ্ল্যান্ড, স্প্লিন ও লিভার বাড়তে থাকে। অস্থিমজ্জায় অপরিণত শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বাড়তে থাকে বলে হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

chronic_vs_acute_leukemia

লিউকোমিয়া হওয়ার পেছনে দায়ী কী?

বাচ্চাদের ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকোমিয়া হওয়ার পেছনে দায়ী জেনেটিক্স অ্যাবনর্মালিটি। বাচ্চাদের ডাউন সিনড্রোম, অতিরিক্ত কীটনাশকের শরীরে প্রবেশ, রেডিয়েশন এক্সপোজার হলে লিউকোমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ক্যান্সারে পুরুষ, মহিলা, শিশু সকলেই আক্রান্ত হতে পারে।

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?

অ্যাকিউট লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম চিকিৎসা হল কম্বিনেশন কেমোথেরাপি। তার সঙ্গে প্রয়োজন সাপোর্টিং ট্রিটমেন্ট। অর্থাৎ রক্ত দেওয়া, প্লেটলেট ঠিক রাখা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা। এ ক্ষেত্রে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। পুরোপুরি লিউকোমিয়া সারাতে প্রয়োজন বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। বাচ্চাদের যে ধরনের ব্লাড ক্যান্সার হয় (অ্যাকিউট লিম্ফপ্লাস্টিক লিউকোমিয়া বা এএলএল) তা ৮০%-ই সেরে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের এই ক্যান্সার নির্মূল করতে প্রয়োজন বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট।

লিউকোমিয়ার চিকিৎসা কখন করা উচিত?

তাড়াতাড়ি ডায়াগনসিস হলে এই ক্যান্সার সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। কিন্তু ডায়াগনসিস দেরিতে হলে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনাও কম। লিউকোমিয়া আছে কি না বা কোন ধরনের লিউকোমিয়া তা বুঝতে ব্লাড টেস্ট ও বোনম্যারো পরীক্ষা জরুরি এবং সবচেয়ে জরুরি ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here