অরিত্র খাঁ, পুষ্টিবিদ

মাঝেমধ্যে কালবৈশাখী স্বস্তি দিলেও গরম রাস্তায় দাঁড়িয়ে। এর মধ্যেই রাস্তায় বেরোতে হবে। অফিস বাবুকে অফিসে, রাস্তায় ঘুরে যাদের কাজ, বা পঞ্চায়েতের সব প্রার্থী সহ দলীয় কর্মীদের। গরমে সাধারণত ডাবের জল, লেবু জল, বা ঘোল ভীষণ  ভাবে ইন। দেখা যাক এই সব পানীয়তে কী কী গুণ আছে

ডাবের জল

  • অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীরে ঘামের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় জল বেরিয়ে যায়। আবার কখনও অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া বা বমির ফলেও অতিরিক্ত জল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। প্রয়োজনীয় জল শরীর থেকে বেরিয়ে যাবার ফলে ডিহাইড্রেশনের মত সমস্যা হয়। ডাবের জল শরীরে এই জলের ঘাটতি পূরণ করে। এতে আছে কার্বোহাইড্রেড যা এনার্জি বাড়ায়।
  • অম্বলে ডাবের জল খুব তাড়াতাড়ি রিলিফ দেয়| অম্বল তো সারবেই তার সঙ্গে বুক জ্বালা থেকেও সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাবেন|
  • নিয়মিত ডাবের জল পান করলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে| ডাবের জল খেলে রক্ত চলাচল ঠিক থাকবে এবং আপনার হার্টও ভালো থাকবে| নিয়মিত ডাবের জল খেলে রক্তে চিনির মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে|
  • আপনি যদি শরীরের ওজন কমানোর কথা ভাবেন তাহলে আপনার ডায়েটে অবশ্যই ডাবের জল রাখবেন| এতে ফ্যাটের মাত্রা খুব কম থাকে।
  • ডাবের জলে অনেক রকমের নিউট্রিয়েন্টস এবং ভিটামিন আছে | অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিও আছে এতে| এর ফলে আপনার ইমিউন সিস্টেম এর উন্নতি ঘটবে| ফ্লু এর মতো ভাইরাল ইনফেকশনের প্রকোপও কমিয়ে দেবে |
  • ডাক্তার অনেক সময় গর্ভবতী মহিলাদের ডাবের জল খাওয়ার মতামত দেন| কারণ নিয়মিত ডাবের জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় আর বদহজমও ঠিক হয়ে যায়|
  • ডাবের জলে পটাসিয়াম‚ ম্যাগনেসিয়ামের মত মিনারেল থাকায় যাঁরা কিডনির অসুখে ভুগছেন তাঁদের জন্য উপকারী| ডাবের জল Diuretic-এর কাজ করে ফলে মুত্রত্যাগের পরিমাণ বেড়ে যায়|

লেবু জল

  • লেবু জল হজম শক্তি বাড়ায়। বদহজম, বুক জ্বালার সমস্যাও সমাধান করে লেবু জল।
  • পেট পরিষ্কার রাখে লেবু জল। শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকারক পদার্থ বের করতে সাহায্য করে লেবু জল। ফলে ইউরিনেশন ভাল হয়। লিভার ভাল থাকে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে লেবু জল। লেবুর মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি সর্দি-কাশির সমস্যা দূর করতে অব্যর্থ। স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়।
  • লেবু শরীরের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মেটাবলিজমের পর ক্ষার হিসেবে কাজ করে। ফলে রক্তের পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকে।
  • লেবু খেলে শরীরে পজিটিভ এনার্জি বাড়বে। উৎকণ্ঠা ও অবসাদ দূরে রেখে মুড ভাল রাখতে সাহায্য করে লেবু।
  • লেবুর মধ্যে থাকা অ্যাবসরবিক অ্যাসিড ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। হাড়, তরুণাস্থি ও টিস্যুর স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
  • লেবু ফুসফুস পরিষ্কার রাখার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস তাজা রাখে। খাওয়ার পর লেবু জল দিয়ে মুখ ধুলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
  • গরম জলে লেবু দিয়ে খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। শরীরে ফ্লুইডের সঠিক মাত্রা বজায় রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, রক্তচাপজনিত সমস্যা দূরে রাখে। ঘুম ভাল হয়।
  • লেবুতে থাকা পেকটিন ফাইবার খিদে কমাতে সাহায্য করে।

ঘোল

  • অ্যাসিডিটি-র সমস্যায় জর্জরিত হলে ঘোলের মতো ওষুধ নেই। ভরপেট খাওয়ার পর একগ্লাস ঘোল বদহজমের সমস্যা জটজলদি মিটিয়ে দেয়। বদহজমের ফলে শারীরিক কষ্টও লাঘব করে নিমেষে।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। তাহলে হাড় ও দাঁতের সমস্যা হয় না। এক কাপ দুধে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এক কাপ দই-তে থাকে ৪২০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। কিন্তু এক কাপ ঘোলে থাকে ৩৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। অর্থাৎ বড় গ্লাসে একগ্লাস ঘোল খেতে পারলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না।
  • ঘোল বাড়তি ফ্যাট শরীরে জমতে দেয় না। রোজ অনেকটা করে ঘোল খেলে ফ্যাট ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এটা প্রমাণিত সত্য। নিজেকে চাঙ্গাও লাগে।
  • ঘোল খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় না, একই সঙ্গে এতে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদানও থাকে। ঘোলে প্রচুর পরিমাণে পটশিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। একাধিক মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্স সমৃদ্ধ ঘোল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ঘুমও ভালো হয়।
  • ঘোলে থাকে বায়োঅ্যাক্টিভ প্রোটিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘোলে থাকা নানা অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্লাড প্রেসার কমায়। সঙ্গে ক্যান্সারকেও রুখে দেয়।
  • গরম কালে সঙ্গে এক বোতল ঘোল রাখতে পারলে শরীর শুষ্ক হয় না। ক্লান্তি দূর করে দেয়। কিংবা খুব গরমে ঘর্মাক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ঘোল খুব উপকারী।
  • অনেকের দুধ খেলেই অ্যাসিডিটি হয়। সেই সব ব্যক্তিদের জন্য ঘোলের বিকল্প নেই। ঘোলের স্বাদে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here