মস্তিষ্কের মৃত্যু ও অঙ্গদান বিষয়ক ওয়েবসাইটের সূচনা

0
1253
স্মিতা দাস

এক জন রোগীর ব্রেন ডেথের পর তাঁর শরীরের নানা অঙ্গ অন্য বহু মানুষের উপকারে লাগতে পারে। তাই মস্তিষ্কের মৃত্যু তথা ব্রেন ডেথের পর অঙ্গদানের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এই অঙ্গদানের বিষয়ে মানুষকে যাবতীয় তথ্য জানাতে চালু হল একটি ওয়েবসাইট www.organdonorindia.org  । অঙ্গদান সম্পর্কিত তথ্য পরিসংখ্যান, কোথায় কী ব্যবস্থা আছে, কাকে জানাতে হবে ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট সমস্ত কিছু তথ্য পাওয়া যাবে এই ওয়েবসাইটে।

এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল হেলথ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সহযোগিতায় ছিল থ্যালাসেমিয়া অ্যান্ড এইডস প্রিভেনশন সোসাইটি। এই দিন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিস ডাঃ অদিতিকিশোর সরকার। একই সঙ্গে সোসাইটির তরফে ডোনার কার্ডের একটি রেপলিকাও প্রকাশ করেন অদিতিকিশোরবাবু।

ওই অনুষ্ঠানে অদিতিকিশোরবাবু বলেন, এক জন মানুষের মৃত্যুর পর পাওয়া যায় শরীরের নানা অঙ্গ যেমন, চোখ, চামড়া, লিভার, কিডনি ইত্যাদি। তার জন্য দরকার ঠিক সময়ে খবর পাওয়া। যে হাসপাতালে আইসিসিইউ আছে সেখানে বছরে ছ’টার মতো মস্তিষ্কের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এ রাজ্যে সরকারি আর বেসরকারি মিলিয়ে ধরে নেওয়া যেতে পারে ১৪৪টি এমন হাসপাতাল আছে, যেখানে আইসিসিইউ, আইসিইউ ও এইচডিইউ-র সুবিধা আছে। সে ক্ষেত্রে সহজেই অনুমান করা যায় যে, ব্রেন ডেথের কতগুলো খবর পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এই রাজ্যে এই খবর পাওয়া যায় নামমাত্র। ২০১৪ সালের পর ফের এই ধরনের খবর আসে ২০১৬ সালে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের।

ডাঃ অদিতিকিশোর সরকার বলেন, রোগীর ব্রেন ডেথের খবর রোগীর পরিবার আর স্বাস্থ্য দফতরকে দ্রুত জানাতে বাধ্য থাকবে হাসপাতালগুলো। এমন কিছু ব্যবস্থাই স্বাস্থ্য দফতর করতে চলেছে। শুধু তা-ই নয়, ব্রেন ডেথ ঘোষণা করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই রোগীর কোনো রকম শারীরিক পরীক্ষার জন্য কোনো ফি নিতে পারবে না। লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, ভেন্টিলেশন চালিয়ে রাখতে পারবে না। তবে রোগী অঙ্গদানের অঙ্গীকার করলে সেই রোগীর ব্রেনডেথের পর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ও ভেন্টিলেশন চালিয়ে যেতে হবে। তবে তার চার্জ নেওয়া যাবে না।

হাসপাতালগুলোতে এই ধরনের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চার সদস্যের বোর্ড রয়েছে। তাঁরা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী তাঁর ব্রেনডেথের বিষয়টি ঘোষণা করতে পারেন। আর যত শীঘ্র সম্ভব স্বাস্থ্য দফতরকে জানাতে পারেন। এই বিষয়টি জানার পরই দায়িত্ব বর্তায় রোগীর পরিজনের ওপর। কারণ রোগীর মৃত্যুর পর সেই দেহ সৎকার করে ফেলা হয়। কিন্তু যদি মানুষ সচেতন হন, তাঁদের বোঝানো যায় যে এক জন রোগীর ব্রেনডেথের পর সেই দেহ কত ভাবে অন্য বহু মানুষের উপকারে লাগতে পারে, তা হলে তাঁরা হয়তো এই ব্যাপারে দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন। তাই দরকার সচেতনতা আরও বাড়ানো। মানসিকতা আরও উদার ও উন্নত করা।

তিনি বলেন, এই ব্যাপারে এগিয়ে তামিলনাড়ু। তার পর কেরল। তার পরে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের টিকিটিও পাওয়া যায় না। কিন্তু সচেতনতা বাড়িয়ে এই রাজ্যকেও এই কাজে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই কাজে এগিয়ে আসছেন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারাও। তাঁদের সহযোগিতায় ২০১৬ সালে বেশ কিছু কেস সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। গ্রিন করিডর বানিয়ে পুলিশ বিভাগ দ্রুত অঙ্গ এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং পরিকাঠামো আছে। চাইলেই তার সদ্ব্যবহার করা যায়। দরকার সদিচ্ছার।

১৩ আগস্ট অর্গান ডোনেশন ডে পালন করতে চলেছে থ্যালাসেমিয়া অ্যান্ড এইডস প্রিভেনশন সোসাইটি। ওই দিন এই সংক্রান্ত একটি মোবাইল অ্যাপ ও টোল ফ্রি ফোন নম্বরের উদ্বোধন করা হবে বলে জানান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শৈলেন ঘোষ।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here