Biswajit Pathak
বিশ্বজিৎ পাঠক

“পায়ের কাছে এক কন্টিকারি-/অন্তরঙ্গ কাছের সঙ্গ তারই”…

শিলংয়ের এক গিরির খোপে এই প্রাচীন উদ্ভিদটি চোখ এড়ায়নি বিশ্বকবিরও। ক্রিকেট-ফুটবল খেলতে খেলতে ঝোপঝাড় থেকে বল কুড়াতে গিয়ে অনেকেরই চোখে পড়ে এই সাদা-হলুদ ফুলের গাছ। বিশেষ করে শীতকালে রাস্তার ধারে স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় প্রায়শই নজর এড়ায় না। ফুলের সৌন্দর্য দৃষ্টিহরণ করলেও গায়ের কাঁটা মনে তৈরি করে অস্বস্তি। কারণ, এটা এমন একটা গাছ যার কাণ্ড, পাতা, ফুল- সর্বত্রই কাঁটায় ভর্তি।

তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের সঙ্গে কন্টিকারির পরিচয় বহুযুগের। যে ধারা সমানে বয়ে চলেছে আজও। এমনও কিছু বাজার চলতি ওষুধ আমরা গলাধকরণ করে চলেছি যার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লুকিয়ে রয়েছে এই কন্টিকারির শরীরে। যার মধ্যে উল্লেখ করতেই হয় এন সোলাসোনিন ও কোয়েরসিনের নাম।

এ বার আসা যাক, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কথায়। সামান্য জ্বর হলেই প্যারাসিটামল বাঁধা পড়েছে আধুনিক জীবনে। আবার সর্দি-কাশিতে ব্র্যান্ডেড কাফ সিরাপের অভাব নেই। কিন্তু এই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ না করে কাঁটাময় কন্টিকারির সাহায্যেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে শিকড়-সহ গাছ বাটা রস বা শুকনো করে গুঁড়িয়ে নিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

আবার যাঁরা দীর্ঘ দিন অ্যাসিডিটি বা আলসারে ভুগছেন তাঁদেরও কাজে লাগবে এই কাঁটাগাছ। সে ক্ষেত্রে গোটা গাছ বেটে পাওয়া রস নিয়মিত ১/২ চামচ করে পান করতে হবে। এতে পাকযন্ত্রের কাজ যেমন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চালাতে সক্ষম হবে তেমনই সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে নিয়মিত খাওয়ার ফলে সুগারের রোগীর শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদনও বাড়তে পারে।


আরও পড়ুন: চোরকাঁটাতেই কমতে পারে পেটের চর্বি, জেনে চমকে যাবেন

বহু যুগ আগে থেকেই মূলত তিনটি রোগের নিশ্চিত উপশমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কন্টিকারি। এর মধ্যে রয়েছে কৃমি, কফ এবং মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা। এ ছাড়া কন্টিকারির আরও এক চমকপ্রদ প্রয়োগ রয়েছে খিঁচুনি রোগের প্রতিরোধক হিসাবে। তাই বলে জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য বা রক্ত পরিশ্রুতকরণে কন্টিকারির উপযোগিতা অস্বীকার করার নয়। আদতে কন্টিকারি এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার কাণ্ড, পাতা অথবা ফুল কোনোটাই ফেলনা নয়। কিন্তু কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মোক্ষম অস্ত্র এই কন্টিকারি।

কয়েকটা দিন চেষ্টা করে দেখবেন না কি!

(প্রতিবেদক: ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ। মতামত নিজস্ব)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন