মেনিনজাইটিসের শুরুটা হতে পারে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণ দিয়ে, শুরুর দিকে সামান্য জ্বর, মাথা ব্যথা ইত্যাদি। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না করালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিণতি ভালো হয় না। মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের  আবরণ বা মেনিনজেসের আচ্ছাদনের ইনফ্লামেশনের কারণে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নানা রকম উপসর্গ দেখা দেয়। এটাই মেনিনজাইটিস নামে পরিচিত। কলম ধরেছেন ডাঃ অঞ্জন ভট্টাচার্য

কীভাবে রোগ ছড়ায়

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্য কোনো জীবাণু সরাসরি রক্তপ্রবাহে ঢুকে এই রোগ হতে পারে।এমনকি খাবারের মাধ্যমে জীবাণু পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে সেখান থেকে রক্তে চলে গিয়েও মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের আবরণীতে প্রদাহর সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত রোগীর সরাসরি সংস্পর্শ থেকে রোগ ছড়ায় না। রক্তে যখন জীবাণুর সংক্রমণ বা সেপটিসেমিয়া হয়, তখন তা দ্রুত মেনিনজাইটিসে রূপান্তরিত হতে পারে।

মেনিনজাইটিস সাধারণত দুই ধরনের, অ্যাকিউট মেনিনজাইটিস বা ক্রনিক মেনিনজাইটিস

কারণ

ভাইরাস দিয়েই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে, তবে ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিস বেশি মারাত্মক হয়। খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে ছত্রাক, প্রটোজোয়ার কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে।

লক্ষণ

প্রথম দিকে ফ্লু বা সর্দিকাশির মতো সাধারণ জ্বরের উপসর্গ থাকে। দুই বছরের বেশি বয়সিদের সাধারণত এই উপসর্গগুলো থাকে:

  • হঠাৎ তীব্র জ্বর হয়।
  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, যা সাধারণ মাথা ব্যথার মতো নয়।
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, এদিক-ওদিক নাড়ানো কঠিন হয়।
  • প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগীর অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা থাকে।
  • খিঁচুনি দেখা দেয়।
  • ঘুম-ঘুম ভাব হয়, হাঁটতে অসুবিধা হয়।
  • আলোর দিকে তাকাতে তীব্র অস্বস্তি বোধ হয়।
  • খিদে ও পিপাসার অনুভূতি কমে যায় বা থাকে না।
  • কানের মধ্যে সংক্রমণের ফলে বধিরতা সৃষ্টি হয়।
  • হাত-পা অবশ হয়, একই বস্তু একাধিক দেখা যায়, কথা বলতে অসুবিধা হতে পারে।
  • মস্তিষ্কের সমস্যা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য স্থানেও সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন—ফুসফুসের ইনফেকশন ও শ্বাসকষ্ট হওয়া, সেফটিসেমিয়ার কারণে গিঁটে গিঁটে ব্যথা।
  • থ্রম্বোসাইটেপেনিয়া বা অনুচক্রিকা রক্ত উপাদান কমার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত ঝরতে পারে।
  • শরীরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট দানার মতো দাগ বা র্যাদশ হতে পারে।
নবজাতকের ক্ষেত্রে
  • ভীষণ জ্বর।ঘাড় ও শরীর শক্ত হয়ে আসা।
  • অনবরত কান্না।
  • দুর্বল হয়ে যাওয়া।
  • সারাক্ষণ ঘুম-ঘুম ভাব।
  • শরীর সাদা হয়ে যাওয়া।
  • খিটখিটে মেজাজ হওয়া।
  • খিঁচুনি।
  • জন্ডিস।নড়াচড়া কম করা।
  • বমিভাব বা বমি করা।
  • মাথার তালুর নরম জায়গা ফুলে ওঠা।
  • অজ্ঞান হওয়া ইত্যাদি।
জটিলতা
  • ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস যথাসময়ে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে চিকিত্সা করা না হলে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।
  • বধির হওয়া।
  • স্মৃতিশক্তি হারানো।
  • নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা হারানো।
  • কিডনি বিকল।
  • খিঁচুনি।
চিকিৎসা

রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা শুরু করে দিতে হয়, তা না হলে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। ওষুধ প্রয়োগে যদি কার্যকর ফল পাওয়া যায়, তারপরও ৭ থেকে ১০ দিন ওষুধ ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিসে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শিরাপথে প্রয়োগ করতে হয়। ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস সাধারণত ওষুধ ছাড়াই চিকিৎসা করা হয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here