প্রথম সফল ‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন’ নেদারল্যান্ডের চিকিৎসকদের

0

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস বলছে এই প্রথম বার সফল ‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন’। আদতে কম্পিউটারের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় ব্রেনকে সচল করা। এই অভূতপূর্ব সার্জারিটি সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন নেদারল্যান্ডের এক দল চিকিৎসক।

৫৮ বছর বয়সি নেদারল্যান্ডের এক মহিলা হান্নেকে দে ব্রুইজনে-র ‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন’ করলেন তাঁরা। ২০০৮ থেকে তিনি অসুস্থ। তবে ২০১৫ সালে নার্ভাস সিস্টেমে এক ধরনের রোগের ফলে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যান। এই রোগের প্রকোপে তাঁর পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। শারীরিক কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। এর ফলে তিনি ঠিক ভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না। তাঁর ব্রেন যে কোনো রকম সংকেত নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এই রোগ তাঁর চোখের পেশিগুলোকে কাবু করতে পারেনি। তিনি চোখের ইশারায় কথা বলতে পারতেন। এই রোগকে বলা হয়, অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্কলেরিওসিস।

তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার উট্রেখ্‌ট-এ। এখানেই তাঁর ‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন’ করা হয়। ‘মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের’ ফলে এখন থেকে তিনি চোখের সাহায্যে তাঁর পরিবারের লোকের সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন। নিজেকে সংযোগ করতে পারবেন স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে। এই অপারেশনের সাহায্যে তাঁর মস্তিষ্কে একটি বিশেষ যন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়। যন্ত্রটির নাম ইলেকট্রোকর্টিকোগ্রাফ। এই যন্ত্রটি ইমপালসকে কিছুটা ঠিক করতে সক্ষম হবে। মহিলার বুকে আরও একটি ছোটো যন্ত্র বসানো হয়েছে। এই যন্ত্রটির সাহায্যে সংকেত নিয়ে তা সহজ করে ব্রেনে সেই সংকেত পাঠাবে।

ও-ই মহিলার বাড়ির বাইরে একটি রিসিভার আছে। এই রিসিভারটি সংকেত বা সিগন্যাল গ্রহণ করবে। তার পর তা ডেটাতে কনভার্ট করে তাঁর সামনে রাখা কম্পিউটারে পাঠাবে। সেখান থেকে যাবে ব্রেনে। এই কাজটি যাতে ঠিক ভাবে হয় তার জন্য ও-ই কম্পিউটারের ট্যাবলেটে রাখা বিশেষ ধরনের গেম খেলে যন্ত্র ও নিজেকে ট্রেন্ড করতে হবে। তা না হলে ব্রেন কেবলমাত্র সিগন্যাল গ্রহণ করবে কিন্তু সঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে না। তবে সমস্ত ব্যাপারটা ঠিক ভাবে চললেও কম্পিউটারে থাকা শব্দের মাত্র দু’টি করে অক্ষর পড়তে মহিলার এক মিনিট করে সময় লাগবে। এক জন বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি এখন ট্যাবলেট ব্যবহার করছেন। কিন্তু ২৮ দিনের মধ্যে তিনি নিজে নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের পছন্দের কাজ করতে সক্ষম হয়ে উঠবেন।

মহিলা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই অপারেশনের পর তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন।  

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন