মদ মাত্রই মস্তিষ্কের ক্ষতি করে বলছে নতুন গবেষণা

0
489

নয়াদিল্লি : এত দিন ধারণা ছিল অত্যাধিক মদ খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের সমস্যা এবং ডিমেনশিয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণায় মাঝারি মাত্রায় মদ খাওয়াকে ক্ষতিকর অভ্যাস বলে মনে করা হত না। বরং বলা হত, মাঝারি মাত্রায় মদ্যপান মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। কিন্তু নতুন গবেষণা এমন উপকারের কথা মানছে না। নতুন গবেষণা বলছে, মদ্যপান, এমনকি মাঝারি পরিমাণে মদ্যপানও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল লেকচারার তথা গবেষক অন্যা টোপিওয়ালা বলেন, “আমরা জানতাম যে দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু এখন আর সেটা মনে করা হচ্ছে না। বরং মদ্যপানই ক্ষতিকর।”

ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এই গবেষোণাটির খুঁটিনাটি প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন : ধূমপান মাত্রই ফুসফুসের ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ায়, বলছে গবেষণা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ১৯৮৫ সাল থেকে ৫৫০ জন পুরুষ ও মহিলার মদ খাওয়ার অভ্যাস এবং তাঁদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ পর্যবেক্ষণ করেন। এদের কাউকেই মদে গভীরভাবে আসক্ত বলে মনে করা হয়নি। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের মদ্য পানের অভ্যাস বিভিন্ন মাত্রার। তবে তথ্য ও অন্যান্য কিছু সমস্যা থাকার কারণে ২৩ জন অংশগ্রহণকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান গবেষকরা। গবেষণার এই ৩০ বছরকে মোট ছয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তাঁরা বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, গবেষণার শেষে এই ৫৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মস্তিস্কের এমআরআই স্ক্যানও করা হয়েছে।

গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্ক কাঠামোর দিকেও গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। যেমন — এমআরআই স্ক্যানের দ্বারা দেখানো হয়েছে, সাদা বস্তুর গঠন এবং হিপোক্যাম্পাসের অবস্থা-সহ মস্তিষ্কের মধ্যে সিন্ধুঘোটকের আকৃতি যুক্ত এলাকা যে স্মৃতিশক্তির সঙ্গে যুক্ত সে কথাও জানিয়েছেন গবেষকরা। তা ছাড়া বয়স, লিঙ্গ, সামাজিক কার্যকলাপ এবং শিক্ষা-সহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে তাঁরা দেখেছেন যে, যাঁরা উচ্চ মাত্রার মদ্যপান করেছেন তাঁদের খুবই সঙ্কুচিত হিপোক্যাম্পাস পাওয়া গেছে। তাঁদের মস্তিষ্কের ডান পাশের চাপ বেশি পড়েছে বলে দেখা গেছে।

বিষয়টি আরও বিস্তারিত ভাবে গবেষকরা বুঝিয়ে দিয়েছেন। যাঁরা মদ খান না তাঁদের এই হিপোক্যাম্পাসের ডান দিক সংকোচন হয়েছে মাত্র ৩৫%। যাঁরা সপ্তাহে ১৪ থেকে ২১ ইউনিট মদ খান তাঁদের ক্ষেত্রে এই সংকোচন ৬৫% আর যাঁরা সপ্তাহে ৩০ বা তার বেশি ইউনিট মদ খান তাঁদের এই সংকোচন হয়েছে ৭৭%।

আর পড়ুন : অ্যালঝাইমার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন মার্কিন গবেষকরা

টোপিওয়ালা বলেছেন, মস্তিষ্কের ভেতরে অসংখ্য বিদ্যুতের তারের মতো তার আছে। যাঁরা বেশি মদ খান তাঁদের এই তারগুলোর হাল খুবই খারাপ। তাঁরা শব্দকোষের খেলাতেও অনেক পেছনে থাকেন। আবার অন্য দিকে ‘ওয়ার্ড রিকল’ বা যে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধরনের বিভিন্ন শব্দ বলার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

কিন্তু এই গবেষণাটি নিয়ে গবেষকদের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিমেনশিয়া নিউরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ও অধ্যাপক এলিজাবেথ কোলহার্ড বলেন, গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক ছিল। তার থেকে এটি প্রমাণ করে না যে মদ মস্তিষ্কের ক্ষতি ঘটাচ্ছে। উপরন্তু, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ। তা ছাড়া এই গবেষণার ফল মাঝারি পরিমাণে মদ্যপানের আপাত প্রভাবকে অতিরঞ্জিত করতে পারে।

গবেষক ব্রাউন বলেন, এই গবেষণা মদ খাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী কুফলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে ঠিকই, তবে এটা স্পষ্ট হয়নি যে মাঝারি মাপের মদ খাওয়ার কারণে জ্ঞানের ঘাটতি হয়। কিন্তু একটা সাধারণ বিশ্বাস যে, সপ্তাহে এক দিন এক গ্লাস লাল ওয়াইন বা শ্যাম্পেন মস্তিষ্কের ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তোলে — এই গবেষণা তা সমর্থন করে না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here