ওয়েবডেস্ক : শ্বেতি বা চামড়ায় সাদা দাগ, এমন রোগ অনেকের শরীরেই দেখা যায়। অল্প দিয়ে শুরু করে তার পর ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। আর চামড়ার স্বাভাবিক রং হারিয়ে যায়। এমনকি চুল, চোখের পাতা, ভ্রূ সবই স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলে সাদা হয়ে যায়। এই রোগেরই নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার হল ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিতে। অর্থাৎ কিনা হোমিওপ্যাথিতে।

ব্যাঙ্গালোরের ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি সেন্টারের গবেষকরা একটি গবেষণা করে দেখেছেন। তাঁরা একটা বিশেষ ধরনের ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে দেখেছেন বিশ্বের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ওপর। গবেষণায় শ্বেত‌ি আছে এমন ১৪ জন মানুষের শরীর থেকে এই সাদা দাগ উধাও হয়ে গিয়েছে। এই রোগের জন্য বহু পরিচিত ওষুধ ‘স্নেক ওয়েল’-এর বিকল্প হিসাবে এই নতুন ওষুধটি ব্যবহার করেন তাঁরা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘লাইক কিওরস লাইক’ পদ্ধতিতে ১৩ জন মহিলা ও এক জন পুরুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই ওষুধ। মোটামুটি ভাবে ৫৮ মাস ধরে এঁদের ওপর চিকিৎসা করা হয়েছে। আর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে। দাগ কমতে দেখা গিয়েছে। তাঁদেরকে এর সঙ্গে অন্য পদ্ধতিও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে ক্রিম, লাইটথেরাপি, ওষুধ ইত্যাদিও আছে। তবে ভারতে এর জন্য কী ধরনের চিকিৎসা আছে তা এত দিন নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করল হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অব কেস রিপোর্টস-এ। তাতে গবেষকরা বলেছেন, প্রথমবস্থায় রোগটির চিকিৎসা শুরু হলে এটি অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে তাঁরা বিশ্বাস রাখেন। তবে তাঁরা এও বলেছেন, এর আরও পরীক্ষা করা দরকার।

তবে ‘ভিটিলিগো সাপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল’ এই সংস্থাটি বলছে, হোমিওপ্যাথি এই রোগ থেকে চিরমুক্তি ঘটাতে পারে এমন কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সাপের বিষ, ফোঁড়ার বিষাক্ত রস, বিভিন্ন গাছের রস ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ অনেক কঠিন রোগ নিরাময়ে সাহায্য করেছে। সাড়িয়ে ফেলা যায় অনিদ্রা, অ্যালার্জি, অবসাদ ইত্যাদির মতো সমস্যাও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন