ওয়েবডেস্ক : প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার সময় ‘কোর্স সম্পূর্ণ’ করার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরামর্শ বা নিয়ম বাদ দেওয়া উচিত। তাঁদের যুক্তি, কোর্স সম্পূর্ণ না করলে তার কাজ ঠিকমতো হয় না, ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার সতেজ হয়ে ওঠে, এটা কোনো প্রমাণিত সত্য নয় এবং তা পরিবর্তন করা উচিত।

সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ, এটা যেমন ঠিক, তেমনই বিশ্বব্যাপী একটা উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্বেগ হল, বেশি মাত্রায় বা অপ্রয়োজনীয় ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ এড়াতে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি।

প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধের কোর্স সম্পূর্ণ খাওয়ার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)ও। সংস্থার মতে, যদি শরীর ভালো বোধও করে তবুও সব ওষুধ খাওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করে দিলেই ব্যাকটেরিয়াগুলোর মধ্যে ওষুধের প্রতিরোধী শক্তি বৃদ্ধি পায়। এমনকি যুক্তরাজ্যের দশম শ্রেণীর পাঠক্রমেও এই উপদেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ব্রাইটন ও সাসেক্স মেডিকেল স্কুলে সংক্রামক রোগের অধ্যাপক মার্টিন জে ললেওইল্যন এবং তার সহকর্মীরা বিএমজে-তে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ‘কোর্স সম্পূর্ণ’ এর বিরুদ্ধে তাদের বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন।

তাঁরা বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক আগেভাগে বন্ধ করলে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে তার প্রতিরোধীশক্তি গড়ে ওঠে তার কোনো প্রমাণ নেই, বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ধরে গ্রহণ করলেই তা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ায়।

রিপোর্টে তাঁরা বলেন, আগে এই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ব্যাপারে মানুষ সচেতন ছিলেন না। তখন ভয় দেখিয়ে নানা ভাবে তাঁদের এই ওষুধ খাওয়ানো হত। তাই তখন এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ব্যাপারে ভয় ছিল না। পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ এর সময়সীমা কমানো হয়েছে। কিন্তু সময়সীমা কমানো হলেও তা এক দম কম মাত্রায় খাওয়ার নিয়ম এখনও চালু হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যদিও বা ঠিক, তাঁরা পরামর্শ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সব ওষুধের সদব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বাড়িতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সেই পর্যবেক্ষণ থাকে না। তাঁরা বেশির ভাগ সময়ে অকারণেই বেশি অ্যান্টিবায়োটিক খেতে থাকেন। সে ক্ষেত্রে শরীর সুস্থ বোধ করলে আর ওষুধ খাবেন না, এই পরামর্শ দেওয়ার পর্যায়ে এখনও চিকিৎসাশাস্ত্র পৌঁছতে পারেনি। তাই মানুষের এই ভাবনা বদলাতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে, পুরোনো ধারণা ভুল ছিল। তাঁদের যতটা সম্ভব কম আর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ খওয়া উচিত।

গবেষকরা বলেন, সম্মিলিত ও সঙ্গতিপূর্ণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণকে বোঝাতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাল সংক্রমণের চিকিত্সা করে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন