gel

ওয়েবডেস্ক: বলাই হয়, অসুরক্ষিত যৌন মিলন থেকে যে সব বিপদ জন্ম নেয়, তার মোকাবিলায় একমাত্র হাতিয়ার হল কন্ডোম। এখন এই অ-সুরক্ষা যদি যৌন অসুখের দিক থেকে হয়, তবে তা রোধের ক্ষেত্রে কন্ডোমের ভূমিকা এবং কার্যকারিতা পুরনো হওয়ার নয়। কিন্তু অ-সুরক্ষার প্রশ্নটি যদি হয় অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ-সংক্রান্ত, তবে কন্ডোমের দিন ফুরিয়ে আসতে চলল বলে! বাজারে আসতে চলেছে এমন এক যুগান্তকারী মলম, মিলনের আগে যা ভালো করে মেখে নিলেই জন্মনিরোধ সম্ভব হবে!

উঁহু! যা ভাবছেন, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়! আশ্চর্যের ব্যাপার হল, মলমটি মাখতে হবে কাঁধে আর বাহুতে অর্থাৎ হাতের উপরের অংশে। তাহলেই কাজ হবে। এক ধাক্কায় এতটাই কমে যাবে শুক্রাণুর পরিমাণ যে তা গর্ভধারণের পক্ষে যথেষ্ট হবে না। ফলে, কন্ডোমের প্রয়োজনও আর পড়বে না। এমনটাই দাবি করছেন মার্কিন চিকিৎসকদের একটি দল।

আরও পড়ুন: নারী দেহকে পণ্যে পরিণত করছে কন্ডোম? এ কী কথা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের!

খবরটা সারা বিশ্ব জুড়েই অনেক পুরুষের পক্ষে স্বস্তিদায়ক। সমীক্ষা বলে, শুধু এই তৃতীয় বিশ্বের দেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই কন্ডোম ব্যবহার নিয়ে পুরুষদের মধ্যে অনিচ্ছা থেকে জন্ম নেওয়া একটা বাধ্যবাধকতা কাজ করে। কেন না, তা অবাধ শারীরিক মিলনের সহায়ক হলেও যৌনসুখের কিছু মাত্রায় পরিপন্থী তো বটেই! সেই জন্যই মিলনকে মধুর করে তোলার জন্য কন্ডোম নিয়ে নিত্য নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় লিপ্ত থাকে উৎপাদক সংস্থাগুলি। ব্যাপারটায় যত দূর সম্ভব আসল অনুভূতি নিয়ে আসার জন্য কন্ডোমে হামেশাই ডটের সংখ্যা বাড়ানো হয়!

সে না-হয় হল! কিন্তু, কাঁধে আর বাহুতে মাখলে কোন হিসাবে শুক্রাণুর পরিমাণ কমিয়ে দেবে এই মলম?

জানা গিয়েছে, এই মলম প্রথমে ত্বক এবং পরে তার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মিশে যাবে রক্তের সঙ্গে। যাতে এই মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়, সেই জন্য মলমটিকে নিয়ে আসা হচ্ছে জেল ফরম্যাটে। এর পর রক্তের মধ্যে মিশে গেলে এই মলম নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করবে হরমোনের প্রক্রিয়া। বিশেষ করে তা কাজ করবে টেস্টোস্টেরন গ্রন্থিতে, যাতে তার থেকে শুক্রাণুর নিঃসরণ কম হয়।

তবে, এই মলম বাজারে নিয়ে আসার আগে কয়েকটি দিক থেকে আপাতত চিন্তাভাবনার সম্মুখীন হয়েছেন চিকিৎসক এবং নির্মাতারা। জানানো হয়েছে, এই মলমের কার্যকারিতা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সীমিত। ফলে, প্রত্যেক দিন নিয়ম করে এই মলম মাখার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যেটা একটা বড়ো সমস্যা তো বটেই! কেন না, মাঝে দুই-এক দিন মলম মাখার কথা ভুলে গেলে আর কাজ হবে না!

আরও পড়ুন: সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ভুলেও এই পোস্ট দেখবেন না!

দ্বিতীয় সমস্যা হল শুক্রাণুর পরিমাণ কম হওয়া সংক্রান্ত। এই মলম আদতে শুক্রাণুর পরিমাণ কতটা কমাতে পারছে, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যদি এই মলম প্রতি মিলিলিটারে ১ মিলিয়নের কম শুক্রাণু নিঃসরণে সক্ষম হয়, তবেই বিপদসীমা থেকে দূরে থাকা যাবে।

আপাতত এই নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে মার্কিন দেশে। বলা হচ্ছে, সব পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়ে মলমটি বাজারে আসতে সময় লাগতে পারে আরও বছর চারেক!

তা, এটুকু সময় অপেক্ষা করা যেতেই পারে! হাজার হোক, কন্ডোম ব্যবহারের হাত থেকে মুক্তির আশ্বাস যে দিচ্ছে এই মলম! কথাতেই তো বলে, সবুরে মেওয়া ফলে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here